বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২ | ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

শান্তিগঞ্জে ব্যাপকভাবে নিধন হচ্ছে দেশিয় প্রজাতির বিলুপ্ত মাছ, মৎস্য কর্মকর্তা নিরবিকার



বৈশাখের ধান কাটা মাড়াই প্রায় শেষ। নদ—নদীর পানি হাওরে প্রবেশ করে ভরে উঠছে জেলার সবক’টি হাওর। নতুন পানির সঙ্গে এসেছে ডিমওয়ালা মাছ। সেই মাছের পোনায় ভরে গেছে হাওরগুলো। এসব পোনা মাছই কয়েক মাস পরই মিঠাপানির মাছের চাহিদা মিটবে সুনামগঞ্জসহ সারা দেশের দেশের।সেই সাথে দিন দিন বিলুপ্ত হচ্ছে হাওরের মিঠাপানির মাছ। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক হারে মাছের পোনা ধরে সর্বনাশ ঘটাচ্ছেন এক শ্রেণির জেলেরা। এলাকার সচেতনরা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মৎস্য কর্মকর্তা নিরবিকার। দেখার যেন কেউ নাই।
হাওরপাড়ের বয়োজ্যেষ্ঠ জেলে কৃষকসহ অভিজ্ঞজনেরা বলেছেন, হাওরে এসব পোনা মাছ ধরা বা শিকার করা যদি একমাস বন্ধ রাখা যায়, তাহলে ভরা মৌসুমে মাছে কিলবিল করবে পুরো হাওর। তাতে লাভবান হবেন জেলেরাই। সাধারণ মানুষ তৃপ্তির সাথে দেশি মাছের স্বাদ গ্রহণ করতে পারবেন। এজন্য চলতি মাস থেকে অন্তত এক—দেড় দেশি মাছের পোনা শিকার বা ধরা বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছেন তাঁরা। সেই সাথে মৎস্য পেশার সাথে জড়িতদের প্রণোদনা দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ হয় সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজার, বীরগাঁও নতুন ও পুরাতন বাজার, দরগাপাশার আক্তাপাড়া মিনাবাজার, ছয়হাড়া—মৌগাঁও পয়েন্ট, জয়কলসের নোয়াখালী বাজার, পাথারিয়া বাজার, পূর্ব পাগলার পঞ্চগ্রাম—চিকারকান্দি বাজারসহ উপজেলার প্রায় সবক’টি ছোট—বড় বাজার ও পয়েন্টে নিয়মিত উঠছে দেশি জাতের মাছ। সেই সাথে আশঙ্কাজনক হারে বাজারগুলোতে আসছে পোনা মাছ। এসব পোনা মাছের মধ্যে বোয়াল মাছের পোনা, টাকি মাছের পোনা, শোল মাছের পোনা লক্ষণীয়। বাজারে আসা বোয়াল মাছের পোনাগুলো দেড় থেকে দুই ইঞ্চি লম্বা এবং আকারে একেবারেই ছোট। খেতে স্বাদ হওয়ায় বাজারে এসব মাছের চাহিদা বেশি। পোনা মাছ মেরে নিজেদেরই ক্ষতি করছেন জেলেরা।

শান্তিগঞ্জের দেখার হাওরে দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরেন মুজাহিদ আলম নামের এক জেলে। তিনি বললেন, ছোট মাছ ধরতে আমাদেরও মন চায় না। কিন্তু কি করবো বলুন, এখন তো ছোট মাছেরই সময়। না ধরলে কি খেয়ে বাঁচবো। সরকার কী আমাদের খেতে দেবে?

পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজের সহকারি শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, পোনা মাছ ধরা উচিৎ নয়। এভাবে পোনা ধরলে কয়েকমাস পরে হাওরে মাছ কমে যাবে। এ বিষয়টি জেলেদেরকে বুঝাতে হবে। প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে একমাসের জন্য জেলেদেরকে প্রণোদনা দিতে হবে। এখন হাওরে পোনা মাছ থাকলে, জেলেরাই বেশি উপকৃত হবেন।
বীরগাঁও বাজারের পল্লী চিকিৎসক শাইখুল ইসলাম বলেন, দেশি মাছ আমাদের সম্পদ। এগুলো রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। প্রতিদিন যে হারে বাজারগুলোতে পোনা মাছ আসে এর ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে নিকট ভবিষ্যতে মৎস্য সংকটে পড়তে হবে আমাদের। তাই দ্রুত পোনা মাছ নিধন বন্ধ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমরা নিঃসন্দেহে অমানবিক কাজ করছি। জেলে ভাইরা পোনা মাছ বিক্রি করছেন আর আমরা খাচ্ছি। এটা হতে পারে না। জেলে ভাইদের নিরুৎসাহিত করতে হবে। যেসব জাল দিয়ে পোনামাছ ধরা হয়, সেসব জব্দ করতে হবে। পোনামাছ ধরা মারা বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, জেলেদের সচেতন করতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। যেসব জাল দিয়ে পোনামাছ নিধন করা হচ্ছে সেসব আজাল ধরতে প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টের ব্যবস্থা করা হবে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার উজ্ জামান বলেন, আমি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। মৎস্য অফিসারকে বলছি, প্রচারণা বাড়ানো হবে। পোনা মাছ ধরা বন্ধে সব ধরণের ব্যবস্থা হবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •