বুধবার, ২৯ জুন ২০২২ | ১৫ আষাঢ় ১৪২৯

জামানত হারিয়েছেন ৩২ চেয়ারম্যান প্রার্থী



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৯ ইউপি নির্বাচনে জামানত হারাচ্ছেন ৩২ চেয়ারম্যান প্রার্থী। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী কোন প্রার্থী কাস্টিং ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে তার জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। নির্বাচন কমিশনের এই বিধি অনুযায়ী এই চেয়ারম্যান প্রার্থীরা জামানত হারাতে যাচ্ছেন। এরমধ্যে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী রয়েছেন ৪ জন।
দ্বিতীয় ধাপে সদর উপজেলার ৬৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি জামানত হারাবেন ৭ জন, এরা গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন। সব মিলিয়ে জামানত হারাবেন ৩২ চেয়ারম্যান প্রার্থী। ৯ ইউনিয়নের মধ্যে (গৌরারং, মোল্লাপাড়া, সুরমা এবং কাঠইর) ৪ ইউনিয়নে জামানত হারাচ্ছেন আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়রম্যান প্রার্থীরা।
এরা হলেন, গৌরারং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত (নৌকা) প্রার্থী ছালমা আক্তার চৌধুরী ৯৫০ ভোট পেয়েছেন। আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী মোছা. চম্পা বেগম (চশমা) ৭৬ ভোট, আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী সারুয়ার আহমেদ পেয়েছেন ৯০৪ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী (রজনীগন্ধা) আতিকুর রহমান চৌধুরী ২৫৮ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. কামাল হোসেন (হাতপাখা) পেয়েছেন ১৭৯ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুজ আলী (ঘোড়া) পেয়েছেন ৪০৪ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সামসুল হক (আনারস) পেয়েছেন ৫৮১ ভোট। এই ইউনিয়নে মোট ভোটার ২৭ হাজার ৬৪ জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ২০ হাজার ৩২১ জন। এরমধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ১৯ হাজার ৭৯৮ এবং বাতিল ভোটের সংখ্যা ৫২৩। জামানত ফিরে পেতে প্রার্থীদের ২ হাজার ৫৪১ ভোট পেতে হতো।
রঙ্গারচার ইউনিয়নে জামানত হারাতে যাচ্ছেন ৪ প্রার্থী। এরা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আকমল হোসেন রনি (ঘোড়া) পেয়েছেন ৮৬ ভোট, মো. নূর উদ্দিন (চশমা) পেয়েছেন ৭৯ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র আব্দুল গফুর (হাতপাখা) পেয়েছেন ১৩১ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহি উদ্দিন (আনারস) পেয়েছেন ৩৬ ভোট। এই ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৮ হাজার ২৭৬ জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১২ হাজার ৯৬৮ জন। এরমধ্যে বৈধ ভোট ভোটের সংখ্যা ১২ হাজার ৬৫২ এবং বাতিল ভোটের সংখ্যা ৩১৬। নিয়ম অনুযায়ী ১ হাজার ৬২১ ভোট না পাওয়ায় জামানত হারাবেন তারা।
কুরবাননগর ইউনিয়নে জামানত হারাতে যাচ্ছেন ২ প্রার্থী। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল হাসিব কাওসার (ঘোড়া) পেয়েছেন ৩০ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহীনুর রহমান শাহীন (চশমা) পেয়েছেন ৩৪ ভোট। এই ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৪ হাজার ৭১৬ জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১১ হাজার ৬০৯ জন। এরমধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ১১ হাজার ৩৯০ এবং বাতিল ভোটের সংখ্যা ২১৯। জামানতের জন্য ১ হাজার ৪৫২ ভোট পাওয়া প্রয়োজন ছিল তাদের।
মোহনপুর ইউনিয়নে জামানত হারাতে যাচ্ছেন ৫ চেয়ারম্যান প্রার্থী। জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিছুর রহমান (ঘোড়া) পেয়েছেন ৪৪ ভোট, মোহাম্মদ আলী (চশমা) পেয়েছেন ৬৬০ ভোট, জমিয়তে উলামায়ে বাংলাদেশ’র প্রার্থী মো. ফয়জুনুর ফয়েজ (খেজুর গাছ) পেয়েছেন ৪৪৭ ভোট, মো. ফয়জুল হক (রজনীগন্ধা) পেয়েছেন ১৫ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হেলাল আহমদ (আনারস) পেয়েছেন ২৩৩ ভোট। এই ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৩ হাজার ২০১ জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৯ হাজার ৮৬৪ জন। এরমধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৯১ এবং বাতিল ভোটের সংখ্যা ৩৭৩। জামানত ফিরে পেতে ১ হাজার ২৩৪ ভোট পাওয়া প্রয়োজন ছিল প্রার্থীদের।
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে জামানত হারাতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১৮৯ ভোট। এই ইউনিয়নে মোট ভোটার ২০ হাজার ১৭০ জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১৪ হাজার ৬০৮ জন। এরমধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ১৪ হাজার ৪১১ এবং বাতিল ভোটের সংখ্যা ১৯৭। জামানত ফিরে পেতে প্রার্থীদের ১ হাজার ৮২৬ ভোট প্রয়োজন।
মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের জামানত হারাবেন ৩ চেয়ারম্যান প্রার্থী। আওয়ামীলীগ মনোনীত (নৌকা) প্রতীকের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মনির উদ্দিন মনির পেয়েছেন ৭৬৪ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুন রশীদ (চশমা) পেয়েছেন মাত্র ১১২ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল মমিন (ঢোল) পেয়েছেন ১৭ ভোট। এই ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৫ হাজার ৯৭৭ জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১২ হাজার ২৬২ জন। এরমধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ১২ হাজার ১৮ এবং বাতিল ভোটের সংখ্যা ২৪৪। জামানত ফিরে পেতে প্রার্থীদের ১ হাজার ৫৩৩ ভোট পেতে হতো।
লক্ষণশ্রী ইউনিয়নে জামানত হারাতে পারেন বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল (এম.এল)’এর প্রার্থী মো. ফারুক রশীদ। তিনি পেয়েছেন ১০৪ (চাকা) ভোট। এই ইউনিয়নে মোট ভোটার ১১ হাজার ৬৪৫ জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৯ হাজার ৩৩৬ জন। এরমধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৯ হাজার ৩২৫ এবং বাতিল ভোটের সংখ্যা ১১। জামানত ফিরে পেতে প্রার্থীদের ১ হাজার ১৬৮ ভোট প্রয়োজন ছিল।
সুরমা ইউনিয়নে জামানত হারাবেন ৪ চেয়ারম্যান প্রার্থী। আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আব্দুস ছাত্তার (নৌকা) পেয়েছেন ১ হাজার ৬৯৮ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফয়সল আহমদ (টেবিল ফ্যান) পেয়েছেন ১২৩ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী নূর হোসেন (ঘোড়া) পেয়েছেন ৩৫৬ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শামসুল আলম (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ১৪৬১ ভোট। এই ইউনিয়নে মোট ভোটার ২২ হাজার ২৩২ জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১৬ হাজার ৫২০ জন। এরমধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ১৬ হাজার ২৬৪ এবং বাতিল ভোটের সংখ্যা ২৫৬। জামানত ফিরে পেতে প্রার্থীদের ২ হাজার ৬৫ ভোট প্রয়োজন ছিল।
কাঠইর ইউনিয়নে জামানত হারাতে পারেন ৫ চেয়ারম্যান প্রার্থী। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. বুরহান উদ্দিন ( নৌকা) পেয়েছেন ১ হাজার ৩০ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজুর রহমান তালুকদার (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ৮৫৭ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মো. নুরুল হক নোমান (চশমা) পেয়েছেন ৩৩৬ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউর রহমান (আনারস) পেয়েছেন ৫০ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শিরতাজ আহমদ (টেলিফোন) পেয়েছেন ৫৩ ভোট। কাঠইর ইউনিয়নে মোট ভোটার ১২ হাজার ১৭৮ জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৯ হাজার ৫৮ জন। এরমধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৮ হাজার ৮৫৬ এবং বাতিল ভোটের সংখ্যা ২০২। জামানত ফিরে পেতে প্রার্থীদের ১ হাজার ১৩৩ ভোট পেতে হতো।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুরাদ উদ্দিন জানিয়েছেন, বৈধ ভোট এবং বাতিল হওয়া ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগের নীচে যারা পেয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী জামানতের টাকা হারাবেন তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •