বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯

শাল্লার সেই ঝুমন দাস এবার চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন



হেফাজত ইসলামের সাবেক নেতা মাওলানা মামুনুল হকের সমালোচনা করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দীর্ঘ ৬ মাস কারাগারে থাকা সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাশ নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় শাল্লা থানা পুলিশের ‘ওপেন হাউজে ডে’ অনুষ্ঠানে তিনি নিজে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। তবে কোনো রাজনৈতিক ব্যানারে নয় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান তিনি।

এ ব্যাপারে ঝুমন দাস বলেন, এলাকার মানুষ নির্বাচন করার জন্য আমাকে বার বার বলছে। তাই সবাইকে সঙ্গে নিয়েই নির্বাচনে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছি। তবে কোনো দলের হয়ে নয়। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করব। তিনি আরও বলেন, ‘আমি সবসময়ই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে এসেছি। তাই ইউনিয়নের মানুষ চায় আমি নির্বাচন করি।

‘পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঝুমন দাশ একসময় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পণ্য বিক্রেতার কাজ করতেন। পরে নিজেই প্রসাধনসামগ্রী বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। তাঁর স্ত্রী সুইটি রানী দাশ সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে পড়েন। তাঁদের এক বছর বয়সী এক ছেলে আছে। এ ছাড়া পরিবারে তাঁর মা, এক ভাই ও দুই বোন আছেন। ঝুমনের আয়েই সংসার চলে।’ ঝুমনের মা নিভা রানী দাস বলেন, ‘আশা করি এলাকাবাসী আমার ছেলেকে ভোটে জয়ী করবে।

হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হক গত ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা শহরে এক সমাবেশে বক্তব্য দেন। মামুনুল হকের ওই বক্তব্যের সমালোচনা করে পরদিন ১৬ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ তুলে ১৭ মার্চ সকালে নোয়াগাঁওয়ে আশপাশের তিনটি গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে মানুষের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ ঘটনায় ঝুমন দাশকে ১৬ মার্চ রাতেই আটক করে পুলিশ। পরদিন তাঁকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করলে আদালতের আদেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ২২ মার্চ শাল্লা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করে পুলিশ। সুনামগঞ্জে ঝুমন দাশ একাধিকবার জামিনের আবেদন করলেও তাঁর জামিন হয়নি। পরে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়।

শাল্লায় হামলার ঘটনায় শাল্লা থানার এসআই আব্দুল করিম, স্থানীয় হাবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল ও ঝুমন দাসের মা নিভা রানী তিনটি মামলা করেন। তিন মামলায় প্রায় ৩ হাজার আসামি। পুলিশ নানা সময়ে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তারা সবাই জামিন পান।

শুধু জামিন পাচ্ছিলেন না ঝুমন দাস। বিচারিক আদালতে কয়েক দফা জামিন নাকচের পর ২৩ সেপ্টম্বার জামিন পান ঝুমন।

সংবাদটি শেয়ার করুন