বুধবার, ২৯ জুন ২০২২ | ১৫ আষাঢ় ১৪২৯

ভোট যুদ্ধে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা: প্রতিশ্রুতিতে মন গলছে না ভোটারদের



জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলায় শেষ মুহুর্তে ইউপি নির্বাচনের প্রচারণা চলছে জোরে সুরে। সকাল থেকে প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রামবাসীদের কাছে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছড়িয়ে ভোট প্রার্থনা করলেও ভোটারদের মন গলাতে পারছেন না।   তবু ভোটারদের মন জয় করতে নানা কৌশলে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন প্রার্থী ও তাদের কর্মীরা।  আর এ প্রচারণা চলছে গভীর রাত পর্যন্ত।  আর মাত্র নির্বাচনের ০১ দিন বাকী।  কর্মী-সমর্থকেরা নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের মন জয় করতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটাররাও এখন ব্যস্ত চুলচেরা বিশ্লেষণে।  ভোটারদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, প্রতিটি ইউনিয়নে মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী ও বিএনপির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে।

২৮ নভেম্বর জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার আট ইউনিয়ন, জয়কলস, পূর্ব পাগলা, পশ্চিম পাগলা, পূর্ব বীরগাঁও, পশ্চিম বীরগাঁও, দরগাপাশা, পাথারিয়া ও শিমুলবাকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।  এতে  চেয়ারম্যান পদে ৪৩ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৩৪২ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৯৫ জন প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।

শান্তিগঞ্জ উপজেলায় প্রধান প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীরা হলেন-জয়কলস ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মো. মাসুদ মিয়া (নৌকা) তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল বাছিত সুজন (ঘোড়া)।

পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জগলুল হায়দারের (নৌকা) তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা শ্রমিক লীগ সাধারণ সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. নূরুল হক (আনরস)।

পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম রাইজুল(নৌকা) তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মসফিকুর রহমান (ঘোড়া)।

পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট দেবাংশু শেখর দাস(নৌকা) তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্ধি জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা লুৎফুর রহমান জায়গীরদার খোকনের (চশমা)।

পূর্ব পাগলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী রাশিকুল ইসলামের (নৌকা) তাঁর সাথে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন যুক্তরাস্ট্র প্রবাসী মাসুক মিয়া (আনারস)।

দরগাপাশা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মনির উদ্দিন(নৌকা) তাঁর সাথে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন উপজেলা বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী সুফি মিয়া (চশমা)।

শিমুলবাক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান জিতু(নৌকা) তাঁর সাথে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল্লাহ মিয়া (চশমা) ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহীনুর রহমান শাহীন (আনারস)।

পাথারিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী শামছুল ইসলাম রাজা (নৌকা) তাঁর সাথে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুর রশীদ আমিনের (চশমা)।

শিমুলবাক ইউনিয়নের নৌকার মাঝি মিজানুর রহমান জিতু বলেন, আওয়ামী লীগ সমর্থন করেন অথচ বিদ্রোহী হয়েছেন তাদের নিয়ে আমরা কিছুটা উদ্বিগ্ন। তাদের কারণে নৌকার অনেকটাই ক্ষতি হবে। তারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নৌকা ডুবাতে সক্রিয়।

দরগাপাশা ইউনিয়নে নৌকার মাঝি ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. মনির উদ্দিনের গণসংযোগ করার সময় কথা হয় তার সঙ্গে।  তিনি বলেন, আমি প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে অনেক উন্নয়ন মুলক কাজ করেছি।  ভোটারদের কাছ থেকে স্বতঃস্ফুর্ত সাড়া পাচ্ছি।  আমার জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।  তিনি ভোটারদেরকে নির্দিধায় ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহবান জানান।

পাথারিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুর রশীদ আমিন বলেন, ভোটারা আমাকে দুই দুই বার নির্বাচিত করেছেন। আমি আমার ইউনিয়নের অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি।  ভোট সুষ্ঠু ভাবে হলে বিজয় ঠেকাতে কেউ পারবে না।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে প্রশাসনের পক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন কেন্দ্রে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হবে। ফলে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •