শনিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২১ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

খুনিদের রক্ষায় ইনডেমনিটি আইন করার নজির আর কোথাও নেই : পরিকল্পনামন্ত্রী



রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। আর এই হত্যাকাণ্ডের বিচার ঠেকাতে খুনিচক্রের নেতৃত্বেই জারি করা হয়েছিল কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ঘৃণ্য ঘটনার নজির আর নেই।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রগতিশীল সাংবাদিক মঞ্চ আয়োজিত ‘ঘৃণ্য আইন ইনডেমনিটি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজন এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। আরও বক্তব্য দেন বিশেষ অতিথি আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল প্রমুখ।

রধান অতিথির বক্তৃতায় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃৃতি তৈরি করেছিলেন জিয়াউর রহমান। পৃথিবীর কোথাও এমন ঘটনার নজির নেই। সেই সময় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল। মন্ত্রী আরও বলেন, দায়মুক্তি শব্দটির সঙ্গে আমার নিজের কিছু সমস্যা ছিল। দায়মুক্তি কেবল আইন ও আদালত দিতে পারে, এটি আমার ধারণা। পৃথিবীর কোথাও আমি দেখিনি নির্বাহী আদেশে দায়মুক্তি দিয়েছে। অন্যায় করেছি, এই অন্যায়ের বিচার তোমরা কেউ করতে পারবে না। খুন করেছি, খুনের বিচার তোমরা কেউ করতে পারবে না। আমি যেটা করেছি, সেটাই সত্য এবং ন্যায়ের। এই দাম্ভিক, অনৈতিক, মূর্খতায় পরিপূর্ণ জিঘাংসা, ঘৃণা এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ আইন কোথাও কেউ করেছে কিনা, আমার জানা নেই। এটাই দুর্ভাগ্য, বাংলাদেশকে তা মোকাবিলা করতে হয়েছে।

বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, খালেদা জিয়া ইচ্ছা করলে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে খুনিদের বিচার করতে পারতেন। কিন্তু করেননি। কেন করেননি? কারণ, তারা নিজেরাই তো খুনি। খালেদা জিয়ার স্বামী খুনি, খালেদা জিয়া নিশ্চয়ই এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সুতরাং খুনিরা খুনিদের বিচার করবে না।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ২১ বছর চলল। এই সভ্য সমাজে বিচারহীনতা বলে কোনো আইন কোথাও খুঁজে পাবেন না। এটি চালিয়েছিলেন স্বৈরাচারী এরশাদ ও জিয়াউর রহমানের স্ত্রী।

আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। তাদের জানার পূর্ণ অধিকার আছে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত। কারা মদদ দিয়েছিল। জাতীয় কমিশন গঠন করে এগুলো খুঁজে বের করা দরকার। কারণ, আগামী ৫০ বছর পরও যাতে তখনকার প্রজন্ম অন্তত জানতে পারে কারা সেই খুনি, কারা সেই ষড়যন্ত্রকারী।

মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, খুনিদের বাঁচাতে পৃথিবীর আর সভ্য দেশ এমনকি বর্বর কোনো দেশে ইনডেমনিটি আইন হয়েছে কিনা, এটা বলা মুশকিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির মুখে যে কালিমা লেপ্টে দেওয়া হয়েছিল, তার থেকে মুক্তি পেতে আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘদিন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •