রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে নির্মাণ হচ্ছে মুজিব কিল্লা, উল্লাসিত এলাকাবাসী



দক্ষিণ সুনামগঞ্জে দুর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেকোন দুর্যোগে, বিশেষ করে বন্যায় জানমাল রক্ষায় নতুন করে নির্মাণ করা হবে ২টি মুজিব কিল্লা।

উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপির প্রচেষ্ঠায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের নোয়াগাঁও (কাকিয়ারপাড়) গ্রামে ১টি ও উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও পূর্ব হাটির পূর্বের মাঠে ১টি মুজিব কিল্লা নিমার্ণ করা হবে। এই কিল্লায় দুর্যোগকালীন আশ্রয়ের পাশাপাশি অন্য সময় মুজিব কিল্লাগুলো শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহার করা হবে। ব্যবহার করা যাবে খেলার মাঠ ও হাট-বাজার হিসেবেও। সেখানে আয়োজন করা যাবে গ্রাম ও ইউনিয়ন কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানও। আয়োজন করা যাবে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কমিউনিটি উন্নয়নের লক্ষ্যে বৈঠক বা সভা। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আওতায় অনুষ্ঠিতব্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। সর্বোপরি দুর্যোগ পূর্ববর্তী, দুর্যোগকালীন বা দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে অস্থায়ী সেবাকেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে এই মুজিব কিল্লা। ইতোমধ্যেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।

এই দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গত ৭ই ফেব্রুয়ারী প্রস্তাবিত জমি পরির্দশন করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সেই সাথে বুয়েটের কারিগরি বিভাগের ২জন প্রতিনিধি ও উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন অফিসের উপ সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম সহ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রতিনিধি দলের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুর কালাম জানান, মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমরি প্রচেষ্ঠায় আমার ইউনিয়নের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী গ্রাম হবে শহর আজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। আমার ইউনিয়নের মুজিব কিল্লা নির্মাণ হলে এলাকার জনগণ অনেক উপকৃত হবেন। আমি আমার ইউনিয়নের জনসাধারণের পক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রীকে কৃতজ্ঞা জ্ঞাপন করছি।

উপজেলার জয়কলস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাসুদ মিয়া জানান, আমার ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে এই মুজিব কিল্লা নিমার্ণ করা হলে হাওর পাড়ের দরিদ্র জণগোষ্ঠির ব্যাপক ভাবে উপকার হবে। বিশেষ করে এই গ্রামটি একেবাবে হাওরের মাঝে হওয়ায় যে কোন দুর্যোগে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হতো। এটি নিমার্ণ করা হলে সকল দুর্যোগে তারা আশ্রয় নিতে পারবে। এ জন্য আমার এই উন্নয়ন বঞ্চিত হাওর পাড়ের জনগোষ্ঠি আজ এই খবরে আনন্দে উল্লাসিত হয়েছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতার রহমান জানান, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের জনগণ বার বার আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় নিয়ে আসায় আজ দেশে এতো উন্নয়ন হচ্ছে। শেখ হাসিনার সরকার দেশকে একটি উন্নত মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করেছে। দেশে ব্যাপক ভাবে উন্নয়ন হচ্ছে।

উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিস উপ সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, ২টি প্রকল্পের প্রস্তাবিত জমি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা পরিদর্শন করেছেন। আশা করা হচ্ছে চলতি বছরে এই প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হবে।

উল্লেখ্য: ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৩ লাখ মানুষ ও কয়েক লাখ প্রাণী মারা যায়। স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার হাত থেকে জানমাল রক্ষার্থে বহু মাটির কিল্লা নির্মাণ করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে এগুলো নির্মিত হওয়ায় সর্বসাধারণের কাছে তা মুজিব কিল্লা নামে পরিচিতি পায়। সেই সময় বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের মানুষকে দুর্যোগ সহনশীল জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নির্মিত মুজিব কিল্লাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ও বেদখল হয়ে যায়। বর্তমান সরকার সেগুলো সংস্কার ও উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সরকারের নেওয়া প্রকল্পের আওতায় এ ক্যাটাগরিতে ১৮৬টি মুজিব কিল্লা রয়েছে। এরমধ্যে আপাতত ৫৫টি বিদ্যমান মুজিব কিল্লা পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার করা হবে। আর ১৩১টি নতুন কিল্লা নির্মাণ করা হবে। বি ক্যাটাগরিতে ১৭১টি মুজিব কিল্লা রয়েছে। এরমধ্যে ৬৩টি বিদ্যমান মুজিব কিল­া পুনর্নির্মাণ এবং সংস্কার করা হবে। ১০৮টি নতুন কিল­া নির্মাণ করা হবে। সি ক্যাটাগরিতে ১৯৩টি মুজিব কিল­া রয়েছে। এরমধ্যে ৫৪টি বিদ্যমান মুজিব কিল্লা পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার করা হবে এবং ১৩৯টি নতুন কিল­া নির্মাণ করা হবে। কিল্লার আশপাশে বীজ ও উদ্যান (বনায়ন) করা হবে। এছাড়াও কিল­ার কাজে ব্যবহারের জন্য অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম কেনা হবে ৫৭৯টি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৫৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। যার পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে। প্রকল্পটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর বাস্তবায়ন করবে। ২০২১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে। দেশের ৮টি বিভাগের ৩৮টি জেলার ৪৮টি উপজেলা (ঘূর্ণিঝড়প্রবণ ১৬টি জেলার ৬৪টি উপজেলা এবং বন্যাপ্রবণ ও নদীভাঙন এলাকায় ১২টি জেলার ৮৪টি উপজেলায়) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। এসব স্থানে আগে থেকেই মুজিব কিল্লা নির্মাণ করা হয়েছিল।

সংবাদটি শেয়ার করুন