বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২ | ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

ধর্মপাশায় ডাকঘরে এসি লাগিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বসবাস



একটি সরকারি দ্বিতল ভবনের নিচতলায় চলে কার্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম। আর দু’তলায় রয়েছে সেই কার্যালয় প্রধানের আবাসন ব্যবস্থা। কিন্তু কার্যালয় প্রধান থাকেন নিচতলার একটি কক্ষে। আর দু’তলায় স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি তার পরিবার নিয়ে আবাসন গেড়েছেন। সেই সুযোগে আরাম প্রিয় ওই জনপ্রতিনিধি সরকারি ভবনে তাদের থাকার কক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিনানুমতিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে একটি এসি (এয়ারকন্ডিশন) লাগিয়েছেন। শুধু তাই নয় ওই জনপ্রতিনিধি তার পাশের কক্ষে শিক্ষক পেশার এক নিকটাত্মীয়কেও থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন। ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর ডাকঘরের দ্বিতীয়তলায় বসবাসকারী ওই জনপ্রতিনিধি মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার ও মধ্যনগর বিপি হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিজন কুমার তালুকদার।

জানা যায়, প্রবীর বিজয় তালুকদার গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার মাস ছয়েক পরে মধ্যনগর ডাকঘরের তৎকালীন পোস্ট মাস্টার গণেশ চন্দ্র সরকারকে ম্যানেজ করে পোস্ট মাস্টারের আবাসিক কক্ষগুলো ভাড়া নেন। ওই সময় চেয়ারম্যান তার শশুর বাড়ির দিকের আত্মীয় ও মধ্যনগর বিপি হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিজন কুমার তালুকদারকেও আরেকটি কক্ষে থাকার সুযোগ করে দেন। এর বিনিময়ে ওই পোস্ট মাস্টারকে তারা প্রতি মাসে নির্ধারিত হারে ভাড়া পরিশোধ করতে থাকেন। বর্তমানে চেয়ারম্যান তার পরিবারকে নিয়ে এখানে বসবাস করছেন। মাস তিনেক আগে চেয়ারম্যান তাদের থাকার ঘরে একটি এসি লাগালে বিষয়টি সবার নজরে আসে এবং স্থানীয়ভাবে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

মধ্যনগর ডাকঘরের পোস্টমাস্টার খন্দকার শহিদুল আলম বলেন, ‘সাবেক পোস্ট মাস্টার তাদের কোয়ার্টার ভাড়া দিয়েছিলেন এবং তিনিই ভাড়া উত্তোলন করতেন। এখন আমি যৎসামান্য ভাড়া উত্তোলন করি। আমি তাদেরকে (চেয়ারম্যান ও অধ্যক্ষ) দ্রুত কোয়ার্টার খালি করে দেওয়ার জন্য বলেছি।’

ধর্মপাশা উপজেলা ডাকঘরে কর্মরত মধ্যনগর ডাকঘরের সাবেক পোস্ট মাস্টার গণেশ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানিয়ে চেয়ারম্যান ও অধ্যক্ষকে কোয়ার্টার ভাড়া দিয়েছিলাম। আমি চলে আসার সময় তাদেরকে কোয়ার্টার খালি করে দেওয়ার জন্য বললেও তখন তারা সবকিছু ম্যানেজ করে থাকতে পারবেন বলে জানিয়েছিলেন। তাই তাঁরা সেখানে রয়ে গেছেন।’

মধ্যনগর বিপি হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিজন কুমার তালুকদার বলেন, ‘ডাকঘরে থাকার সুযোগ নেই কিন্তু আমরা সুযোগ করে নিয়েছি। মধ্যনগরে আবাসন ব্যবস্থা এমনই। আমি সেখানে থাকার জন্য ১ হাজার ৬০০ টাকা ভাড়া দেই।’

সরকারি ভবনে এসি লাগানো ঠিক হয়নি জানিয়ে মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার বলেন, ‘নির্বাচিত হওয়ার ছয় মাস পর থেকে এখানে আছি। মাসে আড়াই হাজার টাকা ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। এসিটি আমার সিলেটের বাসায় ছিল। সেই বাসা ছেড়ে দেওয়ায় এসিটি তিন মাস আগে এখানে আনা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘বহিরাগতদের কাছে এভাবে সরকারি কোয়ার্টার ভাড়া দেওয়া ও এসি লাগানোর কোনো সুযোগ নেই।’

ময়মনসিংহ ডাক বিভাগের ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল আবদুল মালেক বলেন, ‘লোক পাঠিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

l

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •