সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯

আগে খালের পানি খাইতাম: ডায়রিয়া আমাশয়ে খত মানুষ মরছইন



আইজ থাকি খত বছর আগে আমরা খালের পানি খাইতাম, খাতিমাস (কার্তিক মাস) আইলে খালি হুনা জাইত আযান আর আযান, এ বাড়িতে খলেরা হামাইয়া লইয়া যারগি ঐ বাড়িতে খলেরা হামাইয়া মানুষ লইয়া যারগি। খত মানুষ যে ডায়রিয়া আমাশয়ে মরছইন তার হিসাব নাই। এর লগে খালি জায়গায় পায়খানা করতা মানুষে ইতার লাগি মানুষের সব সময় বেমার থাকতা। অনেও অখের বাড়িতে ভালা পায়খানা নাই খোলা পায়খানায় পায়খানা খরইন। আমরার ইতা খষ্ট দেইখা আমার মন্ত্রীয়ে আমার বাড়িতে বাড়িতে অনে পানি খাওয়ার লাগি নলক‚প দিরা ভালা পায়খানা বানাইয়া দিরা। অনে আমার খত আন্দ লাগের আপনারে খইয়া বুঝাইতে পারতাম নায়। আমরা মন্ত্রীর লাগি দোয়া খরি আল্লাহর গেছে তাইওে যেন আরও অনেক বছর বাচাইয়া রাখইন এই দুনিয়ায়। উপরোক্ত কথা গুলো বলছিলেন, পাথারিয়া ইউনিয়নের ৬০ উর্ধ্ব প্রবীন মুরব্বী আব্দুর রহিম।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ নিয়ে গঠিত (সুনামগঞ্জ-৩) আসনের সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের প্রচেষ্টায় জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে গভীর নলক‚প স্থাপন ও শতভাগ স্যানিটেশনের আওতায় আনতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে আসেন। এরমধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের জন্য ৫০ কোটি টাকা ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ৫০কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। স্বচ্ছভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গত জুন মাস থেকে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লোকজনের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, এলাকার জনসাধারণসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে প্রতি ওয়ার্ডে ও গ্রামে গ্রামে সভার মাধ্যমে সঠিকভাবে উপকারভোগীদের প্রাথমিকভাবে তালিকা তৈরী করা হয়। এরপর জনস্বাস্থ্যের লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই বাছাই করে সত্যতা নিশ্চিত করেন। ১০ পরিবারের মধ্যে একটি করে টিউবওয়েল দেয়া হচ্ছে। আর স্যানেটিশন সামগ্রী দেয়া হচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত হতদরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জে গভীর নলক‚প (টিউবওয়েল) পাচ্ছেন চার হাজার পরিবার এবং স্যানেটিশন সামগ্রীও পাচ্ছেন চার হাজার পরিবার। এই উপজেলায় সরাসরি ১ লক্ষ ৮০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন।

পাথারিয়া ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ আমিন জানান, দলমতের উর্ধ্বে উঠে মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী এলাকার মানুষের জীবন মান উন্নয়নে কাজ কওে যাচ্ছেন। আমরাও এলাকার উন্নয়নে উনার পাশে থেকে সহযোগিতা করছি। আমরা খুবই আনন্দিত এক থাতে অনেক বড় একটি প্রকল্প মানুষের জন্য নিয়ে এসেছেন তিনি। এই নলক‚প ও স্যানিটানী লেট্টিন স্থাপন হলে এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন হবে।

দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনির উদ্দিন জানান, আমাদেও হাওর অঞ্চলের কৃতি সন্তান মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান স্যার এলাকার উন্নয়নের ব্যাপক ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। উনার কারণে আজ গ্রামের দরিদ্র মানুষ গুলো বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারবে। সেই সাথে স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা ব্যবহার করতে পারবে। এর আগে কোন নেতা বা জনপ্রতিনিধি এতো উন্নয়ন করতে পারেননি। উনিই প্রমাণ করেছেন ইচ্ছ আর সততা থাকলেই মানুষ অনেক কিছু করতে পারে।

পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুর কালাম জানান, আমার ইউনিয়নের মানুষ অনেক অবহেলিত ছিল। মন্ত্রী মহোদয়ের কারণে আজ আমার ইউনিয়নের মানুষের জীবনমান উন্নত হচ্ছে। সবাই বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা ব্যবহার করতে পারবে। সেই সাথে উনার প্রচেষ্ঠায় আমার ইউনিয়নে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। যোগাযোগ ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বপালনকারী প্রকৌশলী আব্দুর বর সরকার জানান, মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান মহোদয়ের প্রচেষ্টায় জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় দরিদ্র ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকা উন্নয়ন প্রকল্পের কাযাক্রম পুরোদমে চলছে। মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে সততা আর স্বচ্ছতার মাধ্যমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকাবাসীসহ সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আমরা এ প্রকল্পের সুবিধাভোগী নির্ধারণ করেছি। তিনি জানান ইতিমধ্যে আমার প্রম পর্যায়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা, পূর্ব পাগলা, পশ্চিম বীরগাঁও, পূর্ব বীরগাঁও, শিমুলবাক, পাথারিয়া ইউনিয়নের এক হাজার পাচঁশত পরিবারের মধ্যে নলক‚প ও স্যানেটিশন স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাকি ২টি ইউনিয়নেও আমরা কাজ শুরু করবো। এখানে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় মোট ১ লক্ষ ৮০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন বলেও জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন