সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২ | ১০ মাঘ ১৪২৮

ঘূর্ণিঝড় ফণী’র প্রভাবে বৃষ্টি : ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক



ঘূর্ণিঝড় ফণী’র প্রভাবে গত দু’দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে সুনামগঞ্জে। শুক্রবার ভারি বৃষ্টিপাত হয় জেলাজুড়ে। রোদের দেখা না পাওয়ায় মাড়াইকৃত ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। হাওরপাড়ের খলায়, কিত্তা, আঙিনায় ধানের স্তূপে স্তূপে রাখা ধানে চারা গজানো শুরু হয়েছে। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে ধান কাটা। এদিকে জেলার সব কয়টি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়া, হাওরের পাকা ধান কাটতে না পারা ও মাড়াইকৃত ধান শুকাতে না পারায় ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে কৃষকদের মধ্যে।
ঘূর্ণিঝড় ফণী’র প্রভাবে টানা বৃষ্টিপাতে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান কাটার জন্য কৃষকদের জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৪.৪৬ মিটার। যা বিপৎসীমার দুই মিটারের নিচে বলে জানিয়েছে পাউবো।
জানাযায়, এবার জেলায় বোরো ধানের আবাদ হয় ২ লক্ষ ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে। মোট আবাদকৃত জমির ৯০ ভাগ ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েগেছে বলে দাবি করেছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তবে এখনো ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ পাকা ধান কাটার বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। হাওরে বেশির ভাগ ধান কাটা শেষ হলেও বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে পারছেন না কৃষকরা।
শুক্রবার একাধিক উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টানা দু’দিনের বৃষ্টিপাতে ধান শুকাতে পারেননি কৃষকরা। বজ্রপাতের ভয়ে ধান কাটতে যাচ্ছেন না ভাগালুরা। বৈরী আবহাওয়ায় কাটা ধান মাড়াই দিতে পারছেন না কৃষকরা। মাড়াইকৃত ধান শুকাতে না পেরে ত্রিপাল দিয়ে হাওরের উঁচুস্থান, কিত্তা, বাড়ির আঙিনায় মুড়িয়ে রাখা হয়েছে ‘গুলিধান’। যা তাপ সৃষ্টি করে চারা গজানো শুরু করেছে। এভাবে আরো দুয়েকদিন থাকলে মাড়াইকৃত ধানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা জানিয়েছেন কৃষক।


দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পশ্চিম বীরগাঁওের ঠাকুরভোগ গ্রামের কৃষক দুলাল মিয়া বলেন, আমার প্রায় ৮ কেয়ার জমির ধান খলায় পড়ে আছে। রোদ না থাকায় শুকাতে পারছি না। আমার মতো অনেকের ধান খলায় ত্রিপাল দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। ধানের স্তূপ থেকে ধোয়া বের হচ্ছে। এভাবে আর দুই-একদিন চলতে থাকলে ধানের ক্ষতি হয়ে যাবে।
জামালগঞ্জের পাকনার হাওরপাড়ের কৃষক আব্দুল আলী বলেন, বৃষ্টি আর বজ্রপাতের কারণে ধান কাটতে যাচ্ছেনা ভাগালুরা। এদিকে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে ধান কেটেছি তাও শুকাতে পারছি না। শুনছি ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কয়েকদিন বৃষ্টি হবে। এমন হলেতো আমাদের রক্ষা নাই।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বশির আহমদ সরকার বলেন, জেলার হাওর এলাকার আবাদকৃত জমির প্রায় ৯০ ভাগ ধান কাটা হয়েগেছে। কয়েকটি উপজেলায় এখনো ধান কাটা বাকি রয়েগেছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টিপাত হওয়ায় মাড়াইকৃত ধান শুকাতে পারছেন না কৃষকরা। টানা বৃষ্টিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দ্রুত ধান কাটার জন্যে কৃষকদের নোটিশ দেয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •