সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২ | ১০ মাঘ ১৪২৮

বোর ফসল রক্ষায় পানির জন্য হাহাকার



দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ছোট বড় প্রায় ২৬টি হাওর রয়েছে। এসব হাওরের রোপনকৃত জমিতে পানি না থাকায় বাড়ছে না ধানের চারা। জমির মাটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে পানির অভাবে। পানি না থাকায় কৃষক সমাজে রীতিমত হাহাকার বিরাজ করছে। কৃষকরা এখন পানির জন্য দুশ্চিন্তায় দিনাতিপাত করছেন। বৃষ্টির অপেক্ষায় আকাশের দিকে চেয়ে বেলা কাটে তাদের। তারা সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের পানি সেচের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু কৃষি কর্মকর্তারা হাওরের পানির কোনো সংকট নেই বলে জানান।
জানা যায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার হাওরগুলোতে পানি সংকটের কারণে অনাবাদি রয়ে গেছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জমি। দেখার হাওর, জামখলার হাওর, পাখিমারার হাওরের বেশ কিছু অংশ ও বীরগাঁও দক্ষিণের হাওরসহ প্রায় সবকয়টি হাওরের পানি সংকটে অনেক জমিই অনাবাদি রয়ে গেছে। এখন কৃষকদের কষ্টে বোনা জমিতে পানির অভাব রয়েছে।
কৃষকরা জানান, চার মাস ধরেই পানির অতি সংকটে পড়েছে উপজেলার কয়েকশত কৃষক পরিবার। আবাদি জমি নিয়ে বিপাকে আছেন তারা। রোপনকৃত ধানের চারা ক্রমশ গাঢ় সবুজ হওয়ার বদলে লালচে হয়ে যাচ্ছে। ফেটে যাচ্ছে জমি। এই মুহূর্তে পানি সেচের বিকল্প আর কিছুই দেখছেন না তারা।
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন গ্রামের কৃষক আবদুল জলিল বলেন, ‘পাগলার দক্ষিণের হাওরে আমি ১০/১২ কেদার জমি রোপন করেছিলাম। অনেক কষ্টে ঋণ করে জমি চাষ করেছি। আশা ছিলো ভালো ফলন হবে। কিন্তু এখন যে অবস্থা দেখছি সে আশা আর পূরণ হবে বলে মনে হচ্ছে না। জমির ধান পানির অভাবে পুড়ে যাচ্ছে। ফাটল দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির দরকার অথবা পানি সেচের দরকার।’
আসামপুর গ্রামের বর্গা চাষী কবির মিয়া জানান, ‘হাওরে অনেক জমি পতিত আছে পানি না থাকার কারণে। চিকারকান্দির কাছে তো অনেক জমিনে চাষই হয়নি। এখনো যদি জমিনে পানি দেওয়া যায় তাহলে ধান বাঁচানো সম্ভব।’
জামখলার হাওরের কৃষক আবদুল হান্নান, ইমদাদুল হক খান ও গেদা মিয়া বলেন, ‘হাওরে পানি নাই। আমাদের হালের হাল জমি জ্বলে যাচ্ছে। মাঠে এসে দেখে যান আমাদের জমির ধান লাল হয়ে গেছে। পানির দরকার। বৃষ্টি না এলে সেচের পানির খুব দরকার। আমাদের শত শত কৃষক এখন অসহায় পানির জন্য। দুশ্চিন্তায় আছি। আমি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের অনুরোধ করবো আপনারা একটা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। না হলে কৃষকের চরম ক্ষতি হয়ে যাবে।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু তাহের বলেন, ‘আমার জানা মতে হাওরে কোনো পানির সংকট নেই। এমন কোনা তথ্য কোনো কৃষকই আমাকে জানান নি।’

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •