শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯

কর্মস্থল ত্যাগ ও প্রশান্ত কুমার বিশ্বাসের সততা



প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস একজন সৎ ও নির্ভীক কর্মকর্তা ছিলেন। এসিল্যান্ড হিসেবে দোয়ারাবাজারে যোগদানের পর পাল্টেছে দোয়ারাবাজার উপজেলা ভূমি অফিসের চিত্র। স্বচ্ছতা ও জবাব দিহিতা মুলক কর্মকান্ডে স্বস্তি ফিরে আসে। দোয়ারাবাজার উপজেলা ভূমি অফিসে এখন জমির দলিল খাজনা খারিজ করতে বছরের পর বছর ঘুরতে হয় না। নেই টাকার ছড়াছড়ি, অনেকাংশেই কমেছে হয়রানি। টাকা না দিলে ফাইল নড়ে না এ চিত্রও নেই বললেই চলে। প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস দীর্ঘ দুই বছর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কর্ম দায়িত্বপালন করে তিনি চলে যাবেন অন্যত্র। কর্মজীবনে পদোন্নতি পেয়ে তিনি বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হয়েছেন। আমাদের পশ্চাদপদ দোয়ারাবাজার উপজেলা হতে নতুন কর্মস্থলে চলে গেলেও তার কর্ম দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার কথা কখনো ভুলবেন না। এখানকার মানুষ সব সময় তাঁকে স্মরণ করবেন।

তিনি আসার পূর্বে উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ ভূমি অফিসে আসতে ভয় পেতো। আর দালালদের উৎপাত ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু এখন দালালদের উৎপাত নাই। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে অফিসে খোলা হয়েছে সহায়তা কেন্দ্র, তথ্য বাতায়ন, উপজেলা রাজস্ব আদালত, সুবিন্যস্ত  রেকর্ড রুম, মিনি লাইব্রেরী, রাজস্ব আদালত, গণশুনানির ব্যবস্থার মাধ্যমে জবাবদিহিতাসহ তৃণমূলে ভূমি সেবা। সব মিলিয়ে পাল্টে গেছে দোয়ারাবাজার উপজেলা ভূমি অফিসের চিত্র। এসব উদ্যোগ গ্রহণ করায় সন্তোষ প্রকাশ করছেন ভূমি অফিসে আসা সাধারণ মানুষ।

সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারি কমিশনার (ভূমি) হিসেবে মো. সাইফুল ইসলাম যোগদানের পর থেকে একটু একুট করে পাল্টে দিয়েছেন অফিসের চিত্র। তিনি চলে যাওয়ার পর সহকারী কমিশনার হিসেবে প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস যোগদানের পর ওই অফিসের স্বচ্চতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। শুরু থেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে অফিসের সব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তিনি। এতে করে উপজেলা ভূমি অফিসে বৃদ্ধি পেয়েছে সেবার মান। সেবা পেয়ে ভুক্তভোগী জনসাধারণের মধ্যে স্বস্থি ফিরে এসেছে। অফিসে সেবা গ্রহিতাদের জন্য রয়েছে বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা। দালাল মুক্ত পরিবেশে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভূমি সেবা নিতে আসছে সাধারণ মানুষ। রয়েছে সহায়তা কেন্দ্র। সেবা গ্রহীতারা এখান থেকে তাৎক্ষণিক সেবা পেয়ে থাকেন। এছাড়া বিভিন্ন প্রকার আবেদন দাখিল সহ প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে থাকেন। সপ্তাহে একদিন এসিল্যান্ডের মাধ্যমে সর্বসাধারনের জন্য গণশুনানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখান থেকে সরাসরি সহকারী কমিশনারের সাথে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে মতবিনিময় এবং পরামর্শ পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। জমিজমা সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার জন্য বাদী ও বিবাদীর নিয়ে সপ্তাহের দ‘ুদিন বসছে উপজেলা রাজস্ব আদালত। অফিসে আগত মানুষরা যেন ভূমি বিষয়ে তাৎক্ষণিক আইনকানুন জানতে পারে সেজন্য রয়েছে মিনি লাইব্রেরি। গণসচেতনতার জন্য ভূমি অফিসের চারপাশে দেয়াল লিখন, তৃণমূলে ভূমি সেবা পৌছানোর লক্ষে পোস্টার ও মাইকিংয়ের প্রচার প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিনামূল্যে সেবা গ্রহীতাদের দেয়া হচ্ছে সার্ভিস খাম। নামজারি সহজীকরণ করা হয়েছে ও টোকেনের মাধ্যমে আবেদন জমা নেয়া হয়। ১৮-২১ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। স্থাপন করা হয়েছে অভিযোগ কেন্দ্র। যে কেউ অভিযোগ দিতে পারছেন এবং তা দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করা হচ্ছে। মিসকেস সহজীকরন করা হয়েছে। আগে ৪-৫ বছর লাগত বর্তমানে তা ৪-৫ মাসের মধ্যে মামলা ৩-৪ ।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেকে জানিয়েছেন, এক সময় উপজেলা ভূমি অফিস ঘুষ-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। টাকা ছাড়া কোনো কাজ হতো না। অফিসের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘুষ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। যে কোনো কাজে অফিসের প্রায় প্রতিটি টেবিলে ঘুষ দিতে হত। তা না হলে ফাইল চলতো না। এ সুযোগে অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে একটি দালাল চক্র গড়ে উঠেছিল। এসব দালালদের খপ্পড়ে পড়ে অনেক মানুষ দিনের পর দিন নানা ভোগান্তির শিকার হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয়েছে। এখন যেকোনো মামলা সরাসরি শুনানির মাধ্যমের দ্রুত সময়ে সমাধান দেয়া হয়।

ভূমি অফিসে ভূমি সংক্রান্ত সব বিষয়ে জনসাধারণকে অবহিত করতে টাঙ্গানো হয়েছে সিটিজেন চার্টার। দ্রুত সেবা পেতে অফিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম, ছবি, মোবাইল নাম্বারসহ বোর্ড টাঙ্গানো হয়েছে। বিনামূল্যে সকল প্রকার আবেদন ফরম প্রদান করা হয়। ভূমি আইন সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে ও নিজের জমি নিজে রক্ষায় করণীয় সতর্কবাণী সংবলিত বোর্ড বসানো হয়েছে। সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে উপজেলা ভূমি অফিসে।

সংবাদটি শেয়ার করুন