সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯

ক্যান্সারে আক্রান্ত ঢাকাই ছবির মমতাময়ী মা, চাইলেন প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য



তার চেহারায় ফুটে উঠে একজন মায়েরই প্রতিচ্ছবি। তিনি ঢাকাই ছবির মমতাময়ী  মা। মায়াময় মুখের সেই অভিনেত্রীর নাম রেহানা জলি। প্রায় চারশোরও অধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এই অভিনেত্রীই এখন ক্যান্সারে আক্রান্ত। দীর্ঘ দিন ধরেই অভিনয় করছেন না। রয়েছেন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

শুধু মায়ের ভূমিকাতেই নয়, নায়ক রাজ রাজ্জাক,আলমগীরের মতো নায়কদের নায়িকা চরিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। এছাড়াও এ সময়ের সব নায়কের মায়ের ভূমিকাতেই অভিনয় করতে দেখা গেছে তাকে। ফলে মায়ের এক প্রতিচ্ছবি হয়ে ঢাকাই ছবির দর্শকদের কাছে পরিচিত তিনি।

সম্প্রতি শিল্পী ঐক্যজোটের মাধ্যমে তার অসুস্থতার খবর জানার পর সমকাল অনলাইনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় তার সঙ্গে। সমকাল অনলাইনকে তিনি বলেন, ‘এখন তো  অসুস্থ  হয়ে ঘরেই অবস্থান করছি। ফুসফুসে ক্যান্সার হয়েছে। সেখান থেকে ইনফেকশন হয়ে মেরুদন্ডেও সমস্যা শুরু হয়েছে। মেরুদন্ডের একটি হাড় সম্পূর্ণ  ফ্র্যাকচার হয়েছে। গত দেড় বছর ধরে কিছুই করতে পারছি না। এখন তো সোজা হয়ে দাঁড়াতেও পারছি না। বোনদের সহায়তায় চিকিৎসা করছি। এখন ক্যান্সারের প্রথম স্তরে রয়েছে। দ্রুত চিকিৎসা করালে ভালো হবে। কিন্তু ক্যান্সার তো দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা। এভাবে আর কত দিন চলতে পারবো জানিনা। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন এখন আর তার পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছেনা বলে প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চাইছেন এ অভিনেত্রী।সমকাল অনলাইনকে রেহানা জলি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী তো অনেক সহযোগিতাপরায়ণ। শিল্পীদের পাশে তিনি সবসময় ছিলেন। আশা করি আমার অসুখের খবরটি তার কানে গেলে তিনিও আমার চিকিৎসার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন।’

রেহানা জলির অসুখের খবর শুনে ছুটে গিয়েছিলেন শিল্পী ঐক্যজোটের  পক্ষ থেকে সংগঠনটির সভাপতি ডি এ তায়েবের নির্দেশে ছুটে গিয়েছিলেন  সেক্রেটারি জিএম সৈকতসহ কয়েকজন। তারা রেহানা জলির পাশে দাঁড়ানের আশ্বাস দিয়ে ফিরেন।

ডি এ তায়েব বলেন, ’রেহানা জলি  আমাদের গর্ব করার মতো অভিনেত্রী। এখন ক্যান্সারে আক্রান্ত। আর আমাদের শিল্পী ঐক্যজোট সবসময় শিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় তার তাকে সহায়তা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা শিগগিরই প্রযোজনীয় কাজগপত্র নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর তার চিকিৎসার সহায়তার জন্য আবেদন করবো। আশা করি তিনি আবার সুস্থ হয়ে অভিনয়ে ফিরে আসবেন।’

রেহানা জলিকে দেখতে যান শিল্পী ঐক্যজোটের সেক্রেটারি জিএম সৈকত

জি এম সৈকত সমকাল অনলাইনকে বলেন, ‘মানুষের পাশে মানুষ দাড়াবে এটাই তো স্বাভাবিক। আমাদরে শিল্পী ঐক্যজোট সবসময় মানুষের পাশে দাড়িয়ে আসছে। বিশেষ করে শিল্পীদের নানা সমস্যায় বিপদে আপদে পাশে থাকে। এবার রেহানা জলির পাশে দাড়িয়েছে। আমরা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বরাবর পাঠাবো। আশা করি কিছু একটা হবে।আমরা এই অসুস্থ শিল্পীর পাশে আছি এবং থাকবো থাকবো ইনসাল্লাহ।’

দেশীয় চলচ্চিত্রাঙ্গনের এক সময়ের দর্শকপ্রিয় কৌতুকাভিনেতা সোনা মিয়া। চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়েছিলো ‘মুখ ও মুখোশ’-এর মধ্যদিয়ে। এরপর বহু চলচ্চিত্রে অভিনয় করে সোনা মিয়া দর্শকের মন জয় করে নিয়েছিলেন। প্রখ্যাত সেই অভিনেতার সুযোগ্য কন্যা চলচ্চিত্রের মমতাময়ী মা চরিত্রের অভিনেত্রী রেহানা জলি।

১৯৮৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় চার শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। আজ থেকে বাইশ বছর আগে কামাল আহমেদ পরিচালিত ‘মা ও ছেলে’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে রেহানা জলির যাত্রা শুরু হয়। অভিনয়ে জলি এতোটাই পারদর্শী ছিলেন যে প্রথম চলচ্চিত্র অভিনয় করেই ১৯৮৫ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তিনি ভূষিত হন। প্রথম চলচ্চিত্রেই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি যেন রেহানা জলিকে অভিনয়ে আরো দায়িত্ববান করে তোলে।

 ‘মা ও ছেলে’র পর রেহানা জলি ‘নিষ্পাপ’, ‘বিরাজ বৌ’, ‘প্রেম প্রতিজ্ঞা’, ‘প্রায়শ্চিত্ত’সহ আরো বেশ কিছু চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন। এজে মিন্টু পরিচালিত ‘প্রথম প্রেম’ চলচ্চিত্রে রেহানা জলি প্রথম নায়কের মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেন। সেই থেকে  চারশো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে চলচ্চিত্রের একজন অবধারিত মা’তে পরিণত হয়েছেন তিনি। একজন মমতাময়ী মা হিসেবে চলচ্চিত্রাঙ্গনে রয়েছে তার বেশ সুনাম।

যে কেউ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে গেলে শুরুতেই রেহানা জলির কথা ভেবে রাখতেন। কারণ মা’র চরিত্রে অভিনয় করতে করতে তিনি নিজেকে দক্ষ করে তুলেছেন। যে কোন চ্যালেঞ্জিং মা চরিত্রে তিনি অতুলনীয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন