শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের ম্যাচ



ঢাকায় প্রথম ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। আজ বুধবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে কিছুক্ষণের মধ্যে মাঠে নামছে লাল সবুজের জার্সি ধারী বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এই ম্যাচ জিতলেই নিশ্চিত হয়ে যাবে সিরিজ জয়।

প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও সাফল্যে আশাবাদী বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। সাবাই নিজের সামর্থ্যের সেরাটা দিয়ে খেলতে পারলে ভালো কিছু করা সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সর্বশেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হয়েছিল দুই বছর আগে, ২০১৬ সালের অক্টোবরে। চট্টগ্রামের এই স্টেডিয়ামটি সর্বশেষ বাংলাদেশের কোনো জয়ের সাক্ষী হয়েছে অবশ্য আরও আগে, ২০১৫-এর জুলাইয়ে। সাগরিকার এই মাঠ ও শহরের ক্রিকেটপ্রেমীরা যে প্রিয় দলের একটা ওয়ানডে জয় দেখার জন্য হাপিত্যেশ করে বসে আছেন, সেটা বলাই বাহুল্য। ওয়ানডে দেখার জন্য তাদের সেই দীর্ঘ অপেক্ষার শেষ হচ্ছে আজই।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে নামছে বাংলাদেশ। তবে জয় দেখার অপেক্ষা শেষ হচ্ছে কি-না, সেই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য ছেড়ে দিতে হচ্ছে সময়ের হাতেই। তবে ‘ম্যাচ জিতলেই সিরিজ জয়’ সমীকরণকে সামনে রেখে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল আজ মাঠে নামবে পরিষ্কার ফেভারিট হিসেবেই। অনুপ্রেরণা দিচ্ছে এই মাঠে নিজেদের রেকর্ডও। সাগরিকায় কখনোই কোনো ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে হারাতে পারেনি জিম্বাবুয়ে।

একটা সময় ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশের জন্য ছিল কঠিন প্রতিপক্ষ। সেই সময়টার সাক্ষী খোদ মাশরাফি। সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে এরপর দলের উত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সেইসঙ্গে দেখেছেন জিম্বাবুয়ে দলের শক্তিক্ষয়। বর্তমান জিম্বাবুয়ে দলের বিপক্ষে অঘোষিতভাবে ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামলেও মাশরাফি জানালেন, জিম্বাবুয়েকে হারাতে হলেও দলকে খেলতে হয় নিজেদের সেরা খেলাটাই, ‘আমার কাছে মনে হয়, আগের জিম্বাবুয়ে দলটা এক রকম ছিল। তাদের সঙ্গে আমাদের যে দলটা তখন খেলত, সেটাও এখনকার দল থেকে অন্য রকম ছিল। এখন হয়তো জিম্বাবুয়েকে অনেকেই ছোট করে দেখছে বা চিন্তা করছে। কিন্তু আমরা একদমই ওভাবে চিন্তা করছি না। কোনো জায়গা থেকেই তাদের ছোট করছি না। সে সুযোগটাও নেই। তাদের সব সিনিয়র খেলোয়াড়ই এসেছে এই সফরে। তারা তাদের সেরা খেলাটা খেললে আমাদের জন্য অনেক কঠিন হয়ে যাবে ম্যাচ জেতা। তাই তাদের হালকাভাবে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। এশিয়া কাপে আমরা যে মানসিকতা নিয়ে খেলেছি, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও আমরা সেই মানসিকতা নিয়েই খেলছি। বেশিদিন আগের কথা নয়, আমরা হংকংয়ের সঙ্গেও হেরেছি। তাই আমরা প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ দিতে চাই না।’

প্রতিপক্ষকে নিয়ে চিন্তার পাশাপাশি ম্যাচের আগে মাশরাফিকে চিন্তা করতে হচ্ছে শিশির নিয়েও। অক্টোবরের সন্ধ্যায় সাগরিকার এই মাঠে অনুমিতভাবেই হানা দেবে শিশির। সেক্ষেত্রে পরে বোলিং করাটা হবে বেশ কঠিন এক কাজ। চট্টগ্রামের ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে বড় রান তোলা কঠিন নয় খুব একটা। কিন্তু শিশিরের সুবিধা নিয়ে সেই রান তাড়া করে ফেলাটাও যে সম্ভব, সেটাও বেশ ভালোভাবেই জানা আছে মাশরাফির। টস নিয়ে তাই কিছুটা চিন্তিত ওয়ানডে দলপতি, ‘আমরা আগে ব্যাটিং করলে উইকেটে কতটুকু টার্ন থাকবে, সেটা একটা ভূমিকা রাখবে ম্যাচে। আর পরে ব্যাটিং করলে শিশির থাকবে। তখন আরও স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করা যাবে। তবে যদি জিম্বাবুয়ে পরে ব্যাটিং করে, তখন আমাদের অন্যভাবে চিন্তা করতে হবে।’

আগের ম্যাচে ইমরুল কায়েস ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ১২৭ রানের সপ্তম উইকেট জুটি বাংলাদেশকে এনে দিয়েছিল ২৭১ রানের সংগ্রহ। তবে এই ম্যাচে নিশ্চয়ই বড় সংগ্রহ পেতে সপ্তম উইকেট পর্যন্ত অপেক্ষা করে থাকবে না দল। এশিয়া কাপ ফাইনালে সেঞ্চুরি করে আসা ওপেনার লিটন দাস গত ম্যাচে ছিলেন ব্যর্থ। রান পাননি অভিষিক্ত ফজলে রাব্বিও। টপ অর্ডারের ব্যর্থতার ষোলোকলা পূরণ করেছে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের রান না পাওয়া। শুধু এই সিরিজের প্রথম ম্যাচেই নয়, টপ অর্ডার বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার কারণ এই বছরের শুরু থেকেই। ব্যতিক্রম অবশ্য এশিয়া কাপের ফাইনাল। তবে সেই ম্যাচে দুই ওপেনারের এনে দেওয়া দারুণ শুরু এরপর স্রেফ খেলো হয়ে গেছে পরের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায়। নিজেদের ব্যাটিংয়ে, বিশেষ করে টপ অর্ডারে তাই কিছুটা উন্নতি নিশ্চিতভাবেই আশা করবে বাংলাদেশ।

সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল না থাকায় এই সিরিজের স্কোয়াড এবং একাদশ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ ভালোভাবেই পাচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রথম ম্যাচে রাব্বি সুযোগ পেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন, দীর্ঘদিন পর দলে ফিরেই পারফর্ম করেছেন সাইফউদ্দিন। অন্যদিকে সুযোগের অপেক্ষায় আছেন সম্ভাবনাময় অলরাউন্ডার আরিফুল হক। এশিয়া কাপের ব্যর্থতার পর নিজেকে আরেকবার প্রমাণ করার সুযোগের জন্য মুখিয়ে আছেন নাজমুল হোসেন শান্তও। তবে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ বলেই আজকের ম্যাচে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যাপারটি একপাশে সরিয়ে রাখতে পারে দল। সাইফউদ্দিন গত ম্যাচে ভালো খেলায় এই ম্যাচে বসে থাকতে হতে পারে অভিজ্ঞ পেসার রুবেল হোসেনকেও।

জিম্বাবুয়ের জন্য ম্যাচটা ‘ডু অর ডাই’। টপ অর্ডার নিয়ে দুশ্চিন্তাটা কম নয় তাদেরও। সেক্ষেত্রে ওপরের দিকে ব্যাটিং শক্তি বাড়াতে পিটার মুরের জায়গায় দলে দেখা যেতে পারে তারিসাই মুসাকান্দাকে। খেলতে পারেন দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার এলটন চিগুম্বুরাও।

সংবাদটি শেয়ার করুন