সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯

সুনামগঞ্জের সদর হাসপাতালে এন্টাসিড আর প্যারাসিটামলই ভরসা



সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি জেলার ২৫ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার প্রধান আশ্রয়স্থল। প্রতিদিন শারীরিক সমস্যায় হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে ছুটে আসেন জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষজন।

গুরুতর অবস্থায় কেউ ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন হাসপাতালে কেউ জরুরী বিভাগ বা বহিঃ বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন বাড়িতে। চিকিৎসা সেবা নিতে আসা এসব রোগীরা ঔষধপত্র নিয়ে পড়েন বিরম্ভনায়। সরকারি হাসপাতলে বিনামূল্যে বেশির ভাগ ওষুধ পাওয়ার কথা থাকলেও দুয়েকটি সাধারণ ওষুধ ছাড়া সবই টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে বাহির থেকে। ডাক্তারের নির্দেশীকায় দেওয়া বিভিন্ন কোম্পানীর ঔষধ কিনতে রীতিমত বিপাকে পড়তে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসা দরিদ্র রোগীদের। এতে চিকিৎসার পরিবর্তে বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেন সেবা নিতে আসা একাধিক রোগী। সরকার এতো পরিমান ওষুধ বরাদ্দ দিলেও এসব ওষুধ কোথায় যায়? এমন প্রশ্ন করেছেন তারা।

সোমবার(২২ অক্টোবর) দুপুর ১২ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের ঔষধ কাউন্টারের রোগীদের ডাক্তারি নির্দেশিকা ও প্রাপ্ত ঔষধ পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, বেশির ভাগ রোগীকে হাসপাতাল কর্তৃক প্যারাসিটামল আর এন্টাসিড দেয়া হয়েছে। অনেক রোগী পাওয়া যায় যাদেরকে কোন প্রকার ঔষধ দেয়া হয়নি হাসপাতাল থেকে। তাদেরকে বাহির থেকে উচ্চ দামে কিনতে হয়েছে নির্দেশিকায় দেয়া যাবতীয় ঔষধ।

সদর উপজেলার কুরবানগর ইউনিয়নের শাহপুর এলাকা থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন বিউটি বেগম নামে এক নারী। ডাক্তার বিউটির নির্দেশীকায় এক গাদা ঔষধ লিখে দিলেও হাসপাতাল থেকে পেয়েছেন এক পাতা প্যারসিটামল ও এক পাতা এন্টাসিড। বাকি সাড়ে ৪০০ টাকার ঔষধ ফার্মেসী থেকে কিনতে হয়েছে বিউটি বেগমকে।

বিউটি বলেন, ‘হাসপাতালে আসি বিনামূল্যে সেবা নেয়ার জন্যে কিন্তু দুয়েকটা ওষুধ ছাড়া সবই বাহির থেকে কিনতে হয়।’

সেফা নামে এক মধ্য বয়েসী নারী দুই সন্তানকে বহিঃ বিভাগে ডাক্তার দেখিয়েছেন । ডাক্তার তার দুই সন্তানের নির্দেশিকায় ৫ থেকে ৬ প্রকারের ঔষধ লিখে দিলেও হাসপাতাল থেকে পান মাত্র আধা পাতা ইসোরাল ট্যাবলেট। বাকি সকল ওষুধ বাহির থেকে কিনতে হয়েছে সেফা বেগম কে। ছায়ারুন নেছা নামে এক রোগীর নির্দেশীকায় দেয়া সকল ঔষধ বাহির থেকে কিনতে হয়েছে। হাসপাতাল থেকে একটি ঔষধ দেয়া হয়নি। ‘ছায়ারুন নেছা বলেন, ডাক্তার সাহেব বলেছেন, আপনাকে ভালো ভালো ঔষধ লিখে দিচ্ছি। এগুলো হাসপাতালে পাবেন না। বাহির থেকে কিনতে হবে। প্রায় ৬০০ টাকার ঔষধ বাহিরের ফার্মেসী থেকে কিনেছি।’

দোয়ারবাজার উপজেলার মান্নার গাঁও ইউনিয়নের আমবাড়ি এলাকা থেকে পায়ের ব্যাথা সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিয়ে এসেছিলেন সুন্দর আলী নামে এক বৃদ্ধ। তাঁর ভাগ্যেও ১ পাতা প্যারসিটামল ছাড়া কিছুই জুটেনি। শহীদ নামে এক রোগীর নির্দেশীকায় পাঁচ প্রকারের ওষুধ লিখে দিলেও হাসপাতাল থেকে কেবল এন্টাসিডই দেয়া হয় তাকে।
এই ভাবে প্রায় ২৫ জন রোগীর নির্দেশিকা দেখলে প্রায় সকলেরই নির্দেশিকার মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়ায় যায়। প্যারাসিটামল বা এন্টাসিড হাসপাতাল কর্তৃক প্রদান করে বাকি মুল্যবান ওষুধ বাহির থেকে কিনার নির্দেশনা দেয়া হয় রোগীদের। হাসপাতালের এমন অবস্থায় সরকার কর্তৃক ওষুধের যথাযত ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। দায়িত্বশীলদের অবহেলা আর নজরদারীর অভাবে সরকারের দেয়া ওষধ বাহিরে বাজারজাত হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন অনেকেই।

উন্নয়নকর্মী এমদাদুল হক মিলন বলেন, মানুষ সরকারি হাসপাতলে যায়, বিনামূল্যে সেবা আর ঔষধ পাওয়ার জন্যে। কিন্তু দায়িত্বশীলদের অবহেলায় মানুষ তাঁর প্রাপ্ত সেবার বিপরীতে ভোগান্তির শিকার হয়ে থাকেন।

হাউসের নির্বাহী পরিচালক সালেহীন চৌধুরী শুভ বলেন, সরকার পর্যাপ্ত ঔষধ দিচ্ছে হাসপাতালে। এন্টাসিড, প্যারসিটামল আর টুকটাক ঔষধ ছাড়া আর কিছুই ছুটে না মানুষের ভাগ্যে। প্রায় বেশির ভাগ ওষুধ বাহির থেকে কিনতে হয় রোগীদের। তাহেল সরকারের দেয়া ঔষধ কোথায় যায়। দায়িত্বশীলরা এগুলো দেখেও না দেখার বান করছেন।

এ ব্যাপারে সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, এন্টাসিড আর প্যারাসিটামলের চাহিদা বেশি তাই ডাক্তাররা এগুলো দিয়ে থাকেন। সরকার কর্তৃক সকল প্রকার ওষুধের যথাযত ব্যবহার হয়ে থাকে বলে জানান তিনি।

সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস বলেন, আগের চেয়ে সেবার মান বেড়েছে। আমরা আন্তরিক ভাবে চেষ্টা করি রোগীদের কাঙ্কিত সেবা দিতে। ওষুধের ব্যাপারে তিনি বলেন, কিছু ডাক্তার আছেন ঔষধ থাকা সত্ত্বেও বাহির থেকে কিনার নির্দেশনা দিয়ে থাকেন যা কোনো ভাবেই কাম্য নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন