সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯

সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়ক- বেহাল সড়কে চরম দুর্ভোগ



সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়ক জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের ১৮ কিলোমিটারের অধিকাংশই বেহাল দশায় রয়েছে।
ভাঙা চুরা ও গর্তের মধ্য দিয়ে হেলে-দুলে আসা-যাওয়া করা যানবাহনে যাত্রীদের নাভিশ্বাস উঠার উপক্রম। নিয়মিত আসা-যাওয়া করা যাত্রীদের অনেকেই ক্ষোভে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে মন্তব্য করছেন।
সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার রাস্তার বেহাল দশার কারণে ক্ষুব্ধ জামালগঞ্জ উপজেলা, সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার একাংশের মানুষ। কারণ জামালগঞ্জবাসীর পাশাপাশি ওই তিন উপজেলার একাংশের মানুষ সাচনা-নিয়ামতপুর রাস্তা দিয়ে আসা-যাওয়া করেন। এই সড়কের অনেক জায়গা দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা ও গর্তে ভরা।
১৮ কিলোমিটার রাস্তা সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত। সদর উপজেলার গৌরারং এলাকার পূর্বপাশে কিছু অংশ মেরামত করা হয়েছে। এরপর অনেক জায়গা ভাঙা চুরা। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার নিয়ামতপুর এলাকার পূর্ব-পশ্চিমে ভাঙা ও গর্ত রয়েছে। তবে কিছু অংশ মেরামত করা হয়েছে। তবে জামালগঞ্জ অংশে ভাঙা ও গর্ত কম।
জেলার অন্যতম একটি রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাচনা বাজারের ব্যবসায়ীসহ সাধারণ যাত্রীরা। দ্রুত সড়ক মেরামত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সিএনজি চালক বাদল হোসেন বলেন, ‘এই রাস্তার বেশী যায়গাই ভাঙা ও গাতা-গোতায় (গর্ত) ভরা। অনেক দিন ধইরা এই অবস্থা। কিছু জায়গায় কাম করা অইছে। বাকী রাস্তা কোন দিন করব সরকারই জানে। ’
আরেক সিএনজি চালক রফিক মিয়া বলেন, ‘সাচনা-সুনামগঞ্জ রাস্তা দিয়া যাইতে ডর করে। কোন সময় জানি এক্সিডেন্ট হইয়া যায়। যে কোন সময় গাড়ি উল্টিয়া যাইতে পারে, না অইলে সড়কের বাইরে যাইতে পারে। এই রাস্তা দিয়া সাচনাবাজার আওয়া-যাওয়ার সময় জান প্রায় বাইরিয়া যায়।’
সাচনা পলক গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্র তালুকদার বলেন, ‘সাচনাবাজার-সুনামগঞ্জ রাস্তা মানুষ অসুস্থ হওয়ার কারখানা। সংশ্লিষ্টরা নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে আছেন। ’
তিনি ফেইসবুকে মন্তব্য করে লিখেন, ‘ জনগণ শুধু ভোগান্তির অধিকারী। গত কয়েকদিন আগে সিএনজিতে সুনামগঞ্জ গিয়েছিলাম। পেছনের সিটে আমি আর দুইজন লোক (স্বামী-স্ত্রী) ছিলেন। ওই লোক গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে সুনামগঞ্জ মাতৃমঙ্গলে গিয়েছিলেন। নিয়ামতপুর পার হতেই, খারাপ রাস্তায় ঝাকুনীতে, মহিলার বাচ্চা প্রসব হয় হয় অবস্থা। এই রাস্তার দুরাবস্থা বছর ধরে চলছে, দেখার যেন কেউ নেই।’
সদর উপজেলার টুকেরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বরকত আলী ইমন বলেন, ‘সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কের অধিকাংশ জায়গা ভাঙা ও গর্ত রয়েছে। কিছু জায়গায় মেরামত করা হয়েছে, তবে সড়কের মাঝ অংশের অবস্থা খুবই খারাপ।’
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রনজিৎ চৌধুরী রাজন বলেন, ‘এই রাস্তার ভাঙা চুরার কারণে মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মেরামত কাজ চলছে, তবে তা ধীর গতিতে কাজ হচ্ছে। গৌরারং গ্রাম থেকে বেড়াজালি বাজার ও এর পশ্চিমে অনেক জায়গায় ভাঙা ও গর্ত রয়েছে। দ্রুত মেরামত কাজ সম্পন্ন না করলে মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে না।’
সাচনাবাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ আল আজাদ বলেন, ‘সাচনাবাজার-সুনামগঞ্জ সড়কের পরিস্থিতি দেখে মনে হয় আমরা উল্টোপথে হাঁটছি। কারণ দেশ স্বাধীনের আগে এই রাস্তা দিয়ে বাস আসা-যাওয়া করছে, এখন সিএনজি নিয়েই আসা-যাওয়া করা যায় না। রাস্তার বিটুমিন উঠে গিয়ে গর্তে ভরে গেছে সড়ক। কিন্তু দেখার যেন কেউ নেই। জেলা প্রশাসক, এমপি-মন্ত্রী এমন কোন জায়গা নেই আমি এই সড়ক সংস্কারের দাবি জানাইনি। কিন্তু দ্রুত রাস্তা সংস্কারে কেউ কর্ণপাত করছেন না। কিছু জায়গা মেরামত করা হয়েছে, তবে যেসব গর্ত ভরাট করা হয়নি সেগুলো বৃষ্টির সময় ভেঙে আরও বড় হয়েছে। ’
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী এএসএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পানিই রাস্তার বিটুমিনের প্রধান শত্রু। বর্ষাকালে অতিবৃষ্টি ও পানি জমে থাকার কারণে সড়কের বিটুমিনের ক্ষতি হয়। আমি এই (সদর উপ বিভাগ) উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছি মাত্র। সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার রাস্তার খোঁজ খবর নেব। ’

সংবাদটি শেয়ার করুন