বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯

বিশ্বনাথ থেকে কনে ছাড়াই ঘরে ফিরলেন বর



সরকারি আইন অনুযায়ী বরের বয়স ২১ বছরের কম থাকায় সিলেটের বিশ্বনাথে হতে যাওয়া এক বাল্য বিয়ে ভঙ্গ করলেন উপজেলার রামপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলমগীর। এসময় তার সাথে ইউপির জনপ্রতিনিধিরা, পুলিশ, সাংবাদিক ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের বয়স না হওয়াতে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নতুন পারকুল গ্রামের ছমরু মিয়ার পুত্র কাওছার আহমদ (১৯)’কে বিয়ে করতে শুক্রবার বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের নকিখালীস্থ শাহ উসমান কমিউনিটি সেন্টারে বরযাত্রী নিয়ে এসে, নতুন কনে ছাড়াই খালি হাতে ফিরতে হয়েছে ঘরে।

জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের নকিখালীস্থ শাহ উসমান কমিউনিটি সেন্টারে বিশ্বনাথ উপজেলার উজাইজুরী গ্রামের মৃত আবদুল মুতলিবের মেয়ে আমিনা বেগম (১৯)’র সঙ্গে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নতুন পারকুল গ্রামের ছমরু মিয়ার পুত্র কাওছার আহমদ (১৯)’র বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বর ও কনের পরিবারের পক্ষ হতে নিজ নিজ আত্মীয়-স্বজনদের আমন্ত্রণও জানানো হয়। কনের পরিবার দরিদ্র হলেও তারা তাদের সাধ্যানুযায়ী কমিউনিটি সেন্টারে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য তৈরী করেন খাবার। শুক্রবার বেলা ২টায় বর যাত্রীর বহর নিয়ে সেন্টারে উপস্থিত হন বর। বিয়ে পড়াতে কাজীও সেন্টারে উপস্থিত হন। কিন্তু বিয়ের জন্য কনের উপযুক্ত বয়স হলেও বরের বর্তমান বয়স ১৯ বছর। সরকারের আইন অনুযায়ী বরের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে। তাই এই বাল্য বিয়ে পড়াতে অপারগতা প্রকাশ করেন কাজী।

বাল্য বিয়ের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে রামপাশা ইউনিয়ন পরিষদের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলমগীর নিজের ইউপির জনপ্রতিনিধি ও পুলিশকে সাথে নিয়ে সেন্টারে উপস্থিত হন।এসময় বিশ্বনাথ থানার এস.আই স্বাধীন চন্দ্র তালুকদার, এ.এস.আই জামাল খান, স্থানীয় ইউপি সদস্য ইছাক আহমদ ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মিনা বেগম উপস্থিত তার সাথে ছিলেন।

এসময় তারা বর ও কনের জন্মনিবন্ধন সনদ’সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে বিয়ে ভঙ্গ করার নির্দেশ প্রদান করেন ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলমগীর। ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশের সাথে সাথেই ‘বর ও কনে’ পক্ষের অভিভাবকরা বিয়ে ভঙ্গের সম্মতি প্রদান করেন। এসময় বরের বয়স ২১ বৎসর না হওয়া পর্যন্ত এই বিয়ে হবে না মর্মে বর পক্ষ লিখিত অঙ্গিকারনামা প্রদান করেন। এরপর নতুন কনে ছাড়াই বরযাত্রী সহ বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন নতুন বর।

বাল্য বিয়ে ভঙ্গ করার সত্যতা স্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) ফাতেমা-তুজ-জোহরা এবং উপজেলার রামপাশা ইউনিয়ন পরিষদের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলমগীর।

সংবাদটি শেয়ার করুন