রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯

দিরাইয়ে সরকারের উন্নয়ন ব্যানার খুলে নেওয়ার পর এবার প্রধানমন্ত্রীর নাম বিকৃত



জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন সংক্রান্ত তিনটি ব্যানার খুলে নেওয়ার পর এবার একটি ব্যানারে বিকৃতি ঘটনানো হয়েছে। দিরাই কলেজ রোডে স্থাপিত তোরনের ব্যানারে শেখ হাসিনার স্থলে ‘শেখা’ হাসিনা, প্রধানমন্ত্রীর স্থলে ‘প্রধানতমন্ত্রী’ এবং সরকারের স্থলে ‘সরারকারের’ লিখা হয়েছে। অন্যস্থানে একই ধরণের ব্যানারে বানান ঠিক থাকলেও কলেজের পাশের ওই ব্যানারটির লিখায় বিকৃতি ঘটনানো হয়। সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী, কুয়েত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক উপদেষ্টা মো. ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেনের উদ্যোগে দিরাই শাল্লার বিভিন্ন স্থানে ১৩টি তোরণে ডিজিটাল ব্যানার লাগানো হয়েছিল। এরমধ্যে তিনটি ব্যানার খুলে ফেলা ও একটির লিখায় বানান বিকৃতি করা হয়েছে।
একই সময়ে একই লিখা সম্বলিত সরকারের উন্নয়ন সংক্রান্ত সকল তোরণের ব্যানারের লিখা বানান ঠিক থাকলেও একটি ব্যানারের বানান ভুল থাকার কথা নয় বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। তারা জানিয়েছেন, ইচ্ছে করে কেউ বানান বিকৃত করে ছায়েদ আলী মাহবুবকে ফাসানোর চেষ্টা করছেন। দিরাই উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ম আহবায়ক মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, লিখা দেখলে বুঝা যায় কেউ আলাদা করে মাত্রা ও শব্দ সংযুক্ত করেছে। বিতর্ক সৃষ্টি করতে এবং বিতর্কিত করতেই একটি পক্ষ এসব করছে। যারা উন্নয়ন দেখতে চায়না।

জানা গেছে, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের সাফল্যে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ’-এই শিরোনামে নৌকায় ভোট প্রার্থনা এবং পদ্মা সেতু নির্মান, ফ্লাইওভার, রাস্তাঘাট, ভাতা, বিদ্যুতসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সম্বলিত কর্মকান্ড তৃণমূলে তুলে ধরতে দিরাই-শাল্লার নির্বাচনী এলাকায় ১৩টি তোরণ নির্মাণ করেন ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেন। একেকটি তোরণ নির্মাণে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু গত রোববার রাতের আধারে কেবা কারা দিরাই থানা পয়েন্টে নির্মাণ করা তিনটি তোরণের ব্যানার খুলে নেয়। পরদিন আবার রাতে সেখানে পৌর মেয়রের ছবি সম্বলিত ব্যানার লাগানো হয়। ব্যানার খুলে নেওয়ার ঘটনায় সোমবার দিরাই থানায় সাধারণ ডায়রি (নং-৫৮৩) ছাড়াও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ছায়েদ আলী।

তোরণ থেকে তিনটি ব্যানার খুলে নেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত তা খুজে বের করার আগেই এক সপ্তাহের মধ্যে আরেকটি তোরণের ব্যানান বিকৃত করেছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করছেন, বিকৃত ব্যানার লাগানো হলে তা অপসারণ করা প্রয়োজন। যদি কেউ শত্রুতা করে বিকৃত করে তাদেরও খুজে বের করা প্রশাসনের দায়িত্ব। অনেকে এ নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেন বলেন, আমি নিজে তোরণ নির্মাণ করে ডিজিটাল ব্যানারগুলো লাগিয়েছি। ভুল হলে সব ব্যানারে হত। একটিতে ভুল হওয়ার কথা নয়। এটি আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। অনেকেই আমাকে আওয়ামী লীগের কেউ নয় বলে দাবি করেন। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিতপ্রাণ। গতানুগতিক কার্যক্রমে আমি বিশ্বাসী নই। ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ ও প্রকৃত সেবার মনমানষিকতা নিয়ে মাঠে কাজ করছি। দল চাইলে আমাকে মনোনয়ন দেবে। আমি প্রতিহিংসার রাজনীতির চর্চা করিনা। মাঠে আছি মাঠে থাকবো। কেউ ব্যানার খুলে নিয়ে আর বানান বিভ্রাট ঘটিয়ে পথরোধ করতে পারবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন