সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯

বাংলা রক ব্যান্ড উত্থানের কারিগর ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু



একাধারে একজন গায়ক, গিটার বাদক, গীতিকার, সুরকার ও প্লে-ব্যাক শিল্পী। এলআরবি ব্যান্ড দলের লিড গিটারিস্ট এবং ভোকাল আইয়ুব বাচ্চু বাংলাদেশের ব্যান্ড জগতের জনপ্রিয় এবং সম্মানিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

নিঃসন্দেহে উপমহাদেশের অন্যতম সেরা গিটারিস্ট ছিলেন তিনি। বাংলা ব্যান্ডকে জনপ্রিয় করার পেছনে অন্যতম কারিগর ছিলেন রক ব্যান্ডের এই মহারথী।

মূলত রক ঘরানার কণ্ঠের অধিকারী হলেও আধুনিক গান, ক্ল্যাসিক্যাল সঙ্গীত ও লোকগীতি দিয়েও শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন তিনি। বহু সিনেমার প্লে-ব্যাক করেছেন। ক্যাসেট দিয়ে শুরু। তারপর সিডি, এমপি-থ্রির জমানা পেরিয়ে ইউটিউবেও তুমূল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন আয়ুব বাচ্চু।

জিমি হেন্ড্রিক্স এবং জো স্যাট্রিয়ানির বাজনায় তিনি ছিলেন দারুণভাবে অনুপ্রাণিত। আইয়ুব বাচ্চুর নিজের একটি স্টুডিও আছে। ঢাকার মগবাজারের সেই মিউজিক স্টুডিওটির নাম এবি কিচেন।

জেমসের সঙ্গে তার দ্বৈরথ এগিয়ে দিয়েছিল বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতকে। একের পর এক ভালো গান তৈরি করার প্রতিযোগিতা ছিল আয়ুব বাচ্চু আর জেমসের মধ্যে। সেই দ্বৈরথ সামনে এলেও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ছিল অটুট।

আয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে জেমস বলেছেন, ‘১৯৮০ সালের শুরুর দিকে আমাদের পরিচয়। এর পর দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর আমরা একে অপরের সুখে-দুঃখে, মানে-অভিমানে কাটিয়েছি। একসঙ্গে প্রচুর শো করেছি, গান করেছি, দেশ-বিদেশে ঘুরেছি। উনি হঠাৎ এভাবে আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে যাবেন, খবরটা মানতে পারছি না।’

১৯৯১ সালে তৈরি করেছিলেন লিটল রিভার ব্যান্ড (এলআরবি)। আইয়ুব বাচ্চু, জয়, স্বপন এবং এসআই টুটুল ছিলেন এলআরবি ব্যান্ডের চার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। জন্মের পাচ বছরের মধ্যেই ঢাকা, কলকাতাসহ উপমহাদেশে তুমূল জনপ্রিয় হয় এই ব্যান্ড। সারা বিশ্বে দেড় হাজারেরও বেশি কনসার্ট করেছে এলআরবি।

এলআরবি দিয়ে শুরুতে বোঝানো হয়েছিল ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’। কিন্তু কিছু দিন পর জানা যায়, এই নামে অস্ট্রেলিয়ায় একটি ব্যান্ড আছে। তাই প্রয়োজন হয় দলের নাম বদলের। এলআরবি অদ্যাক্ষর ঠিক রেখে ব্যান্ডের নতুন নাম রাখা হয়েছিল ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’।

১৯৯৩ সালে ঢাকার মালিবাগে বসে লিখেছিলেন ‘চল বদলে যাই’। স্থান-কালের বেড়াজাল ভেঙে জনপ্রিয়তার নিরীখে বাংলা সঙ্গীতের অন্যতম সেরা হয়ে ওঠে এই গান। এলআরবির ‘সুখ’ অ্যালবাম বের হওয়ার পর গানটি এতটাই জনপ্রিয় হয় যে, এলআরবির কনসার্ট মানে ‘চল বদলে যাই’ থাকতেই হতো।

আইয়ুব বাচ্চু একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘গানটি মঞ্চে দাঁড়িয়ে গাওয়ার সময় দেখেছি, সব দর্শক আমাদের সঙ্গে গানটি গাইছে। তার মানে গানটি আর আমার বা এলআরবির নেই। সবার গান হয়ে গিয়েছে। কারণ, গানটির কথাগুলো শাশ্বত। সবার অন্তরের কথা।’

সংবাদটি শেয়ার করুন