বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯

রাবিতে শিবির সন্দেহে ৪ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে পুলিশে দিলো ছাত্রলীগ



শিবির সন্দেহে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চার শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে পুলিশে দিয়েছে শাখা ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম পাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

পরে তাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের একটি কক্ষে আটকে রেখে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী নির্যাতন চালানো হয়। এই অবস্থা চলাকালীন মতিহার হল ও মমতাজ উদ্দীন ভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে ওই চার শিক্ষার্থীকে পুলিশে সোপর্দ করেন শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তাদের আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী লিটন, দ্বিতীয় বর্ষের মুহাইমিন, সমাজকর্ম বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের নাসিম হাসান ও আরবি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরুখ। এদের মধ্যে লিটনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মারধরে তার পা রক্তাক্ত হয়ে যায় এবং দুই হাতে গুরুতর জখম হয়।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ১৪ জন শিক্ষার্থী দল বেঁধে বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম পাড়া এলাকায় মেয়েদের আবাসিক মুন্নুজান হলের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। এসময় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর কাছে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তাদের থামতে বলে। কিন্তু তারা সেখান থেকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে শিক্ষার্থীদের আটক করে বঙ্গবন্ধু হলে নিয়ে যায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে রেখে মারধর ও জিজ্ঞাসাবাদের পর চারজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। প্রমাণ না পাওয়ায় বাকি নয়জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘শিবির ক্যাডাররা ক্যাম্পাসের পশ্চিম পাড়ায় শোডাউন দিচ্ছে এমন একটি তথ্যের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। এ সময় কয়েকজনকে একসঙ্গে ঘুরতে দেখে সন্দেহ হলে তাদের থামতে বলি। কিন্তু আমাদের দেখে এ সময় কয়েকজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে আমরা তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চারজন শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে।’

তবে মারধরের পর পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় লিটন ও মুহাইমিনের সঙ্গে কথা বললে তারা শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা ক্যাম্পাসে বিকেলে ঘুরতে এসেছিলাম। এ সময় সন্দেহবশত আমাদের আটক করা হয়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিনা কারণে আমাদের খুব মারধর করেছে। শিবিরের সাথে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আশরাফ উজ জামান বলেন, ‘আমি যখন হলে আসি তখন আটককৃতসহ সবাইকে হল থেকে বের হয়ে যেতে দেখি। বহিরাগতদের আটক করে হলে নিয়ে এসে এভাবে আটকে রাখা আমার পছন্দ নয়।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘শিবির সন্দেহে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কয়েকজনকে আটক করেছিল। তাদের মধ্যে চারজনকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।’

জানতে চাইলে নগরীর মতিহার থানার ওসি শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা চারজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। তাদেরকে এখন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সুস্থ হওয়ার পর আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো।’

সংবাদটি শেয়ার করুন