বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২ | ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯

ছাতকে ৩৪টি পূজামন্ডপে পালিত হচ্ছে দুর্গোৎসব



শিল্পনগরী ছাতকে সনাতন ধর্মাবলম্বিদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব এ বছর উপজেলার ৩৪টি মন্ডপে পালন করা হচ্ছে। সোমবার থেকে ষষ্ঠি পুজার মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়েছে এখানের মন্ডপ গুলোতে। গত বছর এ উপজেলায় মোট ২৯টি পুজা মন্ডপে দুর্গোৎসব পালিত হয়েছিলো। এবছর মন্ডপ বেড়েছে ৫টি। ৩৪টি পূজামন্ডপের মধ্যে পৌর শহরে ১২টি পুজা মন্ডপে দুর্গোৎসব পালিত হচ্ছে। প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও বিভিন্ন প্রতিকৃতি’র আদলে মন্ডপের কাঠামো আর আকর্ষনীয় লাইটিংয়ে ভিন্ন মাত্রা যোগ করা হয়েছে। পৌর শহরের তাতিকোনা পূজা মন্ডপে ডাক-ঢোলের নকশায়, চৈতন্য সংঘ পূজা মন্ডপে ময়ুর পঙ্খী নায়ের নকশা, কালী বাড়ীতে জাতীয় সংসদ ভবনের আদলে তৈরী কাঠামো এবং রেলকলোনী মাঠে চলছে মন্দিরের নকশার ভিতর দুর্গা পূজা। নিপুন শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় ও অপরূপ আলোক সজ্জায় সজ্জিত এসব নান্দনিক পুজা মন্ডপগুলোকে এক নজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিনই আসছেন দর্শনার্থীরা।

উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের দেয়া তথ্য অনুযায়ি পৌর শহরের গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু আখড়া, শিববাড়ী, কালীবাড়ি, মন্ডলীভোগ চৈতন্য সংঘ, হাসপাতাল রোডের ত্রি-নয়নী সংঘ, তাতীকোনা, রেলওয়ে কলোনীর মহামায়া যুব সংঘ, কুমনা রাখাল তলা, ছাতক সিমেন্ট কারখানা। নোয়ারাই দুর্গা মন্দির, নোয়ারাই নাথপাড়া ও নোয়ারাই দাস পাড়া ভগবৎ সংঘ পুজা মন্ডপে দুর্গোৎসব চলছে। এছাড়া ছাতক সদর ইউনিয়নের বাউসা চাইরচিরা, ইসলামপুর ইউনিয়নের ধনীটিলা মনীপুরী বস্তি, নোয়ারাই ইউনিয়নের জয়নগর চৈতন্য সংঘ, শারপিন নগর সাধক সংঘ, কালারুকা ইউনিয়নের পীরপুর শ্রী বাণী সংঘ, দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের জাতুয়া নবীন সমাজ উন্নয়ন সংস্থা, জাতুয়া পালপাড়া যুব সংঘ, উত্তর খুরমা ইউনিয়নের হুলিয়ারগাঁও ধারনবাজার সনাতন সমাজ কল্যাণ যুব সংঘ, সিংচাপইড় ইউনিয়নের মহদী-১, মহদী-২, দয়ালতলা কালীপুর উত্তর পাড়া, কালীপুর। জাউয়াবাজার ইউনিয়নের কপলা, খিদ্রাকাপন ও জাউয়া একতা সংঘ, ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের কহল্লা, নবজাগরন ছৈলা, প্রতিজ্ঞা সংঘ ছৈলা, শিব সংঘ শাসন ছৈলা, অঙ্গিকার যুব সংঘ ছৈলা-দেওগাঁও, বাগইন, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের বিশ্বম্বরপুর-নাগরাখালী, দোলারবাজার ইউনিয়নের জাহিদপুর ও ভাতগাঁও ইউনিয়নের বরাটুকা হরিসেবক সংঘের পুজা মন্ডপে পালিত হচ্ছে দুর্গোৎসব।

উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এড. পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য ও সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র কুমার দাস জানান, পূজা উদযাপন পরিষদের মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। মন্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনসার এবং পুলিশ মোতায়ন হয়েছে। যেকোন ধরনের সমস্যা হলে এবং পূজা কমিটি আমাদের জানালে আমরা তৎক্ষণাৎ সেখানে উপস্থিত হবো।

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান, সুষ্ঠুভাবে পূজা সম্পন্ন করতে আমরা আন্তরিক। পূজায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও অপ্রীতিকর অবস্থা এড়াতে সমন্বিতভাবে পুলিশ, আনসার, ডিবিপুলিশ, মোবাইল টিম এবং সাদা পোষাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও প্রতিটি মন্ডপে ৫-৬জন করে আনসার ও পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন