সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় রাস্তার কাজে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ : রাস্তার কাজ আবারও শুরু



দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের ভবের বাজার-নয়াবন্দর ও সিলেটের গোয়ালাবাজার সড়কের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই দরপত্র গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষে এই সড়কের কার্যক্রম শুরু’র নির্দেশ দেওয়া হবে। সোমবার এই সড়ক পুন:নির্মাণের জন্য সাড়ে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদানের চিঠি পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এই চিঠি পাবার পর মঙ্গলবার দরপত্র আহ্বান করা হয়।
জগন্নাথপুর উপজেলার কমপক্ষে ৩০ টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের এই সড়কের উন্নয়ন কাজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হাইকোর্টে মামলা চলছিল। প্রায় ৪ কোটি টাকার এই প্রকল্প ছিল এলাকাবাসীর গলার কাটা। অবশেষে এই প্রকল্পে নতুন করে টাকা বরাদ্দের খবরে উৎফুল্ল এলাকাবাসী।
এলজিইডি সূত্র জানায়, জগন্নাথপুর উপজেলার বড় দুটি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভবেরবাজার-নয়াবন্দর ও গোয়ালাবাজার সড়ক। এই সড়ক দিয়ে কেবল এই দুই ইউনিয়নের মানুষ নয় জগন্নাথপুর পৌরসভা এলাকাসহ জগন্নাথপুরের অন্যান্য এলাকার মানুষও যাতায়াত করেন। এই অঞ্চলের মানুষের বিভাগীয় শহর সিলেট বা রাজধানী শহর ঢাকায় আসতে এই সড়কটিই ভরসা। ২০১৫ সালের মে মাসে প্রায় ১১ কিলোমিটারের এই সড়ক নির্মাণের জন্য ৪ কোটি ২০ লাখ ৪৪ হাজার ৫৪৩ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয় । কাজ পান সুনামগঞ্জের ঠিকাদার সজিব রঞ্জন দাস। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি হয় ঐ মাসেরই ১৩ মে। সাইট বুঝিয়ে দেওয়া হয় ১৪ জুন। কাজ শুরু হয় ২৫ জুন। ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজটি সাব কন্টাক্ট নেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সৈয়দ মাসুম আহমদ। কাজ শেষ করার তারিখ ছিল ২০১৬ সালের ১৩ জুন। অথচ ১৩ জুন পর্যন্ত সাব ঠিকাদার মাসুম কাজ করেন ৩৫ শতাংশ।
তাও আবার নিয়ম অনুযায়ী ৫০০ মিটার ভেঙে কাজ করার পর পরের ৫০০ মিটার ভেঙে কাজ করার কথা থাকলেও সাব ঠিকাদার মেশিনের টাকা বাঁচানোর জন্য অফিসকে না জানিয়ে পুরো সড়ক একসঙ্গে ভেঙে দিয়েছিলেন।
এই অবস্থায় এই সড়কে চলাচলকারী দুই ইউনিয়নের দাওড়াই, পাঠকুড়া, জামালপুর, তিলক, ষাড়পাড়া, মিলি, কালাম্ভরপুর, শুক্লাম্ভরপুরসহ কমপক্ষে ৪০ টি গ্রামের মানুষ মহাবিপদে ছিলেন। না চলেছে যানবাহন, না পায়ে হেঁটে চলাচল করা যাচ্ছিল। এই অবস্থায় স্থানীয় সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানসহ সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র কর্মকর্তাদের কাছে বার বার ধরণা দেয় এলাকাবাসী।
সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের সনাতনপুরের বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. জুয়েল মিয়া বলেন,‘ লাখো মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষে ভবের বাজার নয়াবন্দর ও গোয়ালাবাজার সড়কের কাজ শুরু করা হয়। এই সড়কের কাজ না হওয়ায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে ছিলেন। আগামী নির্বাচনের আগে এই সড়কে কাজ না হলে আমাদের দলীয় প্রতীক নৌকাও দুর্ভোগে পড়বে।’
এলজিইডি’র এই প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী জানান, চার বার তাগিদপত্র দিয়ে পূর্বের সাব ঠিকাদারকে দিয়ে ৩৫ শতাংশের স্থলে ৪২ শতাংশ কাজ করিয়েছিলেন তারা। পরে ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর চুক্তি বাতিলের চিঠি দেওয়া হয়েছিল ঠিকাদারকে। পরে ঠিকাদার ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর মহামান্য হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়ে কাজের মেয়াদ বাড়ানোর রিট পিটিশন (নম্বর ১৪০৬৬/২০১৬) দায়ের করেন। আদালত ঐ আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৭ নভেম্বর ২০১৬ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেন। ঐ সময় পর্যন্ত সাব ঠিকাদার সড়কের ৫.৭ কিলোমিটার অংশের কাজ করান। অর্থাৎ মোট কাজের ৫৬ শতাংশ কাজ শেষ করেন। এই কাজের বিপরীতে তিনি (সাব ঠিকাদার) মোট বরাদ্দের ৫২ শতাংশ বিল এক কোটি ৯৭ লাখ ৯২ হাজার ৫৪২ টাকা গ্রহণ করেন। এরপর আবার হাইকোর্টে সময় বাড়ানোর রীট পিটিশন (নম্বর ১৪০৬৬/২০১৬) দায়ের করেন। আদালত এই পর্যায়ে পহেলা মার্চ ২০১৭ থেকে ৩০ মে ২০১৭ পর্যন্ত ৩ মাস সময় বাড়িয়ে দেন। কিন্তু ঐ সময়ে সড়কের কাজ হয়নি।
এই অবস্থায় স্থানীয় সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের প্রচেষ্টায় আবার এই সড়কের কাজ শেষ করার জন্য নতুন করে সাড়ে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বরাদ্দের চিঠি পাবার সঙ্গে সঙ্গেই মঙ্গলবার ঐ সড়কের টেন্ডার আহ্বান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
এলজিইডি’র সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমদ বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের জন্য মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সাড়ে চার কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। বরাদ্দের চিঠি পাবার পর কম সময়ের মধ্যে মঙ্গলবার দরপত্র আহ্বান করা হয়। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই এই সড়কের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাজ শুরু করার চেষ্টা করবো আমরা।

সূত্র: দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর।

সংবাদটি শেয়ার করুন