বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯

ছাতকে নদী ভাঙনে বিলিনের পথে সড়কসহ ঘর-বাড়ি ও শিক্ষা-প্রতিষ্টান



ছাতকে নদী ভাঙনে বিলিন হওয়ার পথে মুক্তিরগাঁও-পীরপুর সড়ক। কালারুকা ইউনিয়নের নদী ভাঙন এখন ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে নদী ব্যাপক ভাঙনে সড়কের বেশ কিছু পাকা অংশ ও একটি কালভার্ট বিলিন হয়ে গেছে। ফলে এলাকার কয়েক হাজার জনসাধারন পায়ে হেটে চলাচলের ক্ষেত্রেও মারাতœক দূর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয় ৮টি গ্রামের লোকজন সুরমার ভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।
জানা যায়, ১৬ বছর পূর্বে ছাতক উপজেলা সদর থেকে কালারুকা ইউনিয়নের পীরপুর পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের (এলজিইডি) অধীনে সাড়ে ৮কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়। সড়কের রাস্তা পাকা হওয়ার পর থেকে মুক্তিরগাঁও, হরিষপুর, মিরাপাড়া, শিমুলতলা, নানশ্রী, মিত্রগাঁও, গৌরিপুর ও পীরপুর এবং সিলেটের কোম্পনীগঞ্জ উপজেলার শিবপুর, গোফরাপুর ও দূর্গাপুর এলাকার প্রায় ৫০হাজার জনসাধারণ টেম্পু, লেগুনা ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা দিয়ে যাতায়াত করেছেন। এরপর প্রায় দেড় বছর পূর্বে নদী ভাঙনে সড়কের বেশ কিছু অংশ বিলিন হওয়ায় এ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যানবাহন বন্ধের কয়েকমাস পর পানি সম্পদ মন্ত্রীর নির্দেশে নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। নদী ভাঙন রোধে জরিপ কাজও করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর আর কোন অগ্রগতি দেখা যায়নি। গত কয়েক বছরের ভাঙ্গনে নদী তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৩শতাধিক বাড়ি-ঘর নদী গর্ভে তলিয়ে গেছে। আরো নদী ভাঙ্গনের আশংকায় অজানা আতংকে রয়েছেন অসংখ্য পরিবার। নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে প্রায় ২শ’৫০ফুট দূরবর্তী এলাকায় ভাঙ্গনের প্রভাবে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম হুমকির মূখে পড়েছে কয়েকটি শিক্ষা-প্রতিষ্টানসহ পার্শ্ববর্তী অর্ধশতাধিক বাড়ি-ঘর। ভাঙ্গন রক্ষায় স্থানীয় লোকজন ব্যক্তিগত উদ্যোগে বেশ কয়েক লাখ টাকা চাঁদা সংগ্রহ করে বাঁেশর বেড়া ও বালির বস্তা ফেলেও কোন লাভ হয়নি।
সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল হক জানান, এই এলাকার নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া এখন জরুরী হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি ভাঙন রোধে সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রীর বরাবরে লিখিত আবেদন করার পর জরিপ কাজ হলেও এরপর আর কোন অগ্রগতি নেই। ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক ড. আফসার উদ্দিন ও স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হক, সফিক আলী জানান, জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময়ে সরকারীভাবে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেও ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা কবে হবে এর সঠিক জবাব কেউ দিতে পারছেন না।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খুসি মোহন সরকার বলেন, ছাতক ও দোয়ারাবাজার এলাকায় কয়েকটি পয়েন্টে নদী ভাঙন রোধে জরিপ কাজ শেষ হয়েছে। ভাঙনের স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে গত সপ্তাহে ১শ’৯৯কোটি টাকার একটি প্রকল্প বর্তমানে একনেক বৈঠকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন