সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯

গবাদি পশুর খুরা রোগের টিকা উদ্ভাবন



রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যান্সার রোগ নির্ণয় পদ্ধতি উদ্ভাবনের পর এবার গবাদি পশুর খুরা রোগ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করলেন বাংলাদেশি গবেষকরা। বর্তমানে আমদানিনির্ভর খুরা রোগের প্রতিটি ভ্যাকসিনের দাম পড়ে কমপক্ষে ১২০ টাকা। টিকার এ উচ্চমূল্যের কারণে খামারিরা তাদের গবাদি পশুকে টিকা দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু বাংলাদেশের গবেষকদের উদ্ভাবিত খুরা রোগের ভ্যাকসিনের দাম পড়বে ৬০ থেকে ৭০ টাকা।

বর্তমানে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল গবেষক গবাদি পশুর খুরা রোগ প্রতিরোধের জন্য বাংলাদেশে সঞ্চরণশীল ভাইরাস দ্বারা একটি কার্যকর টিকা উদ্ভাবন করেছেন। গবেষকদলে মোট ১৭ জন সদস্য ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অধীন উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্পের (হেকেপ) আওতায় এই গবেষণা পরিচালিত হয়। দুুটি উপপ্রকল্পের আওতায় ২০১১ ও ২০১৫ সালে এই গবেষণার জন্য হেকেপ থেকে মোট ১০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে গবাদি পশুর খুরা রোগ প্রতিরোধে উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খুরা রোগ বাংলাদেশে গবাদি পশুর একটি অন্যতম প্রধান সংক্রামক ব্যাধি। এ রোগের কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর ১২৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়। বাংলাদেশে সঞ্চরণশীল ভাইরাস দ্বারা টিকা উদ্ভাবন প্রাণিসম্পদ গবেষণার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে ও সুরক্ষায় এ টিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উদ্ভাবিত এই টিকা বাংলাদেশে বিদ্যমান খুরা রোগের তিন ধরনের ভাইরাসের সব ধরনের সংক্রমণ থেকে গবাদি পশুকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম হবে। এর মূল্য বাজারে প্রচলিত ভ্যাকসিনের চেয়ে অনেক কম হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ড. আনোয়ার হোসেন জানান, ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশব্যাপী খুরা রোগে আক্রান্ত গবাদি পশু থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। গবেষণালব্ধ ফলাফল অনুযায়ী, খুরা রোগের ভাইরাসের তিনটি সেরোটাইপ বাংলাদেশে বিদ্যমান। শনাক্তকৃত ভাইরাসগুলোর সম্পূর্ণ জীবন রহস্য উন্মোচন এবং বিশ্লেষণ করে এমন তিনটি প্রকরণ পাওয়া গেছে যা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এখন পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়নি।

এই গবেষক বলেন, ‘আমরা গবেষণার মাধ্যমে প্রতি সেরোটাইপ থেকে একটি করে উপযুক্ত ভাইরাস টিকা তৈরির জন্য নির্বাচন করেছি। সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত খুরা রোগের ‘ট্রাইভ্যালেন্ট’ টিকা তৈরির জন্য যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে তা প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে অন্তত ৩০ শতাংশ কম সময়ে প্রস্তুত করা যাবে। খামারি পর্যায়ে প্রতিমাত্রা টিকা ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, হেকেপ পরিচালক ড. গৌরাঙ্গ চন্দ্র মোহান্ত, ইউজিসির সদস্য ড. ইউসুফ আলী মোল্লা, ড. আক্তার হোসেন, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল প্রমুখ।

সংবাদটি শেয়ার করুন