বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২ | ২ ভাদ্র ১৪২৯

৭ দফা দাবিতে সম্পাদক পরিষদের মানববন্ধন



বহুল সমালোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো সংশোধনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোর সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ।

সোমবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। এসময় এ আইনের বিতর্কিত ধারা সংশোধন ছাড়াও ৭টি দাবি উত্থাপন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্যকালে সম্পাদক পরিষদের সংগঠকরা জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ পাস হওয়ার আগেই এই আইনটির বিভিন্ন ধারা নিয়ে আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলাম। আমরা মনে করি এই আইনটি স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের পরিপন্থী।

তারা বলেন, আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরোধী নই। কিন্তু বর্তমান আইনটিতে শুধু সাইবার জগত নয় বরং স্বাধীন গণমাধ্যমকেও নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রয়েছে। আমরা চাই, আগামী সংসদ অধিবেশনে এই আইনটি সংশোধন করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা হোক।
সম্পাদক পরিষদের দাবিগুলো হলো:
১. সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা সুরক্ষার লক্ষ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারা অবশ্যই যথাযথভাবে সংশোধন করতে হবে।
২. এসব সংশোধনী বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনে আনতে হবে।
৩. পুলিশ বা অন্য কোন সংস্থার মাধ্যমে কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে তল্লাশী চালানোর ক্ষেত্রে তাদেরকে শুধু নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু আটকে দেয়ার অনুমতি দেয়া যাবে, কিন্তু কোন কম্পিউটার ব্যবস্থা বন্ধ করার অনুমতি দেয়া যাবে না। তারা শুধু তখনই প্রকাশের বিষয়বস্তু আটকাতে পারবে, যখন সংশ্লিষ্ট সংবাদ-প্রতিষ্ঠানের সম্পাদকের সাথে আলোচনা করে কেন ওই বিষয়বস্তু আটকে দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে পারবে।
৪. কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কোন কম্পিউটার ব্যবস্থা আটকে দেওয়া বা জব্দ করার ক্ষেত্রে আদালতের আগাম নির্দেশ নিতে হবে।
৫. সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের সাংবাদিকতার দায়িত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে প্রথমেই আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে সমন জারি করতে হবে (যেমনটা বর্তমান আইনে আছে)এবং সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের কোনো অবস্থাতেই পরোয়ানা ছাড়া ও যথাযথ আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া আটক বা গ্রেফতার করা যাবে না।
৬. সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের গ্রহণযোগ্যতা আছে কি না, তার প্রাথমিক তদন্ত প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে করা উচিত। এই লক্ষ্যে প্রেস কাউন্সিলকে যথাযথভাবে শক্তিশালী করা যেতে পারে।
৭. এই সরকারের পাশ করা তথ্য অধিকার আইনকে দ্ব্যর্থ-হীনভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের উপর প্রাধান্য দেওয়া উচিত। এই আইনে নাগরিক ও সংবাদমাধ্যমের জন্য যেসব স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, সেগুলো সুরক্ষা অত্যাবশ্যক।

সাংবাদিক, সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন পক্ষের আপত্তি উপেক্ষা করে গত ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিল পাস করা হয়। প্রতিবাদে ২৯ সেপ্টেম্বর মানববন্ধন করার কথা ঘোষণা করে সম্পাদক পরিষদ। কিন্তু তথ্যমন্ত্রীর অনুরোধে ওই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল।

তবে এর পরেই বিলটিতে সাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি। আর এর মধ্য দিয়েই সকল দাবি উপেক্ষা করে কার্যকর হয় বিতর্কিত এই আইনটি।

সংবাদটি শেয়ার করুন