বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯

চলচিত্রে শাবনূরের রজতজয়ন্তী



শাবনূর। শুধু নাম বললেই চলে। কোনো বিশেষণের প্রয়োজন পড়ে না। দেশীয় চলচ্চিত্রে শাবনূর যেন এক অপ্রতিরোধ্য নাম। প্রায় তিন দশক ধরে ঢাকাই সিনেমার প্রধান সারির নায়িকাদের তালিকায় প্রথমেই দেখা গেছে শাবনূরের নাম। ব্যক্তিগত কারণে বতর্মানে চলচ্চিত্রে অভিনয় কমিয়ে দিলেও চলচ্চিত্র ও দশর্কমহলে শাবনূরের দ্যুতি এতটুকু কমেনি। উজ্জ্বল তারকা হিসেবেই দশের্কর মনেই স্থায়ীভাবে আসন পেতে বসে আছেন তিনি। ১৯৯৩ সালের ১৫ অক্টোবর প্রয়াত চলচ্চিত্র পরিচালক এহতেশামের ‘চাঁদনী রাতে’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু করেন শাবনূর। দেখতে দেখতে অভিনয় জীবনের ২৫টি বছর পার করে দিলেন তিনি। আজ ক্যারিয়ারের রজতজয়ন্তী স্পর্শ করলেন শাবনূর।

যদিও অভিষেকটা ভালো হয়নি শাবনূরের। প্রথম চলচ্চিত্রটিই পড়ে যায় ফ্লপের কাতারে।

তবে প্রথম চলচ্চিত্র ব্যবসাসফল না হলেও ওই চলচ্চিত্রে শাবনূরের অভিনয় ঠিকই মনে ধরেছিল অনেকে পরিচালকের। হাল না ছেড়ে ব্যর্থ নায়িকা শাবনূরকে নিয়ে নতুন আশায় বুক বাঁধেন আরেক প্রয়াত পরিচালক জহিরুল হক। শাবনূরের সঙ্গে সালমান শাহকে জুটি করে নিমার্ণ করেন চলচ্চিত্র ‘তুমি আমার’। চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর দশর্কমহলে বেশ খানিকটা শোরগোল ফেলে দেয় সালমান শাহ-শাবনূর জুটি। সেই তো শুরু, তারপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি শাবনূরকে। একই নায়কের সঙ্গে একে একে তিনি ‘বিক্ষোভ’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘মহামিলন’, ‘বিচার হবে’, ‘জীবন সংসার’, ‘আনন্দ অশ্রু’ সহ আরো বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে শাবনূরের অনবদ্য নিজস্ব ঘরানার অভিনয় তাকে নিয়ে আসে জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

কেবল সালমান শাহই নয়, সেই সময়ই ওমরসানীর সঙ্গে শাবনূরের ‘প্রেমের অহংকার’ ও ‘অধিকার চাই’ চলচ্চিত্র দুটি সাফল্যের মুখ দেখলে চলচ্চিত্রে ক্রমশ অপরিহার্য হয়ে ওঠেন শাবনূর। সালমানের মৃত্যুর পর রিয়াজ এবং মান্নার সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়েও বেশ কয়েকটি সফল চলচ্চিত্র উপহার দেন তিনি। এভাবে প্রায় টানা ১৫ বছর চলচ্চিত্রের শীষর্তম নায়িকার আসনটি নিজের করে রাখেন তিনি। পরবতির্তে অনেক পরিচালকের অনুরোধে বেশ কয়েকটি ভিন্ন ধারার চলচ্চিত্রে সুনামের সঙ্গে অভিনয় করতে দেখা গেছে তাকে। তবে ২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত ‘দুই নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রটি স্মরণীয় হয়ে আছে শাবনূরের কাছে। এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রথমবারের মতো সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।

২৫ বছরের এই লম্বা পথচলা প্রসঙ্গে শাবনূর বলেন, ‘দেখতে দেখতে জীবনের এতটা সময় পেরিয়ে এসেছি ভাবলেই অবাক হই। কত কত প্রিয়মুখ আর নেই এখন, এ কথা ভাবলেও কষ্ট হয়। আল্লাহর রহমতে চলচ্চিত্রে এখনো যথেষ্ট সম্মান নিয়েই আছি আমি। আমার অভিনয় জীবনের পথচলায় আমার প্রত্যেক চলচ্চিত্রের পরিচালক, প্রযোজক, সিনেমাটোগ্রাফার, কাহিনিকার, প্রোডাকশন বয়, ট্রলিম্যান থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে আমার বোন ঝুমুরের কথা উল্লেখ করতেই হয়। সবারই সহযোগিতায় আমি আজকের শাবনূর। চলচ্চিত্রের সবাইকে নিয়ে আমি ভালো থাকতে চাই।’

সংবাদটি শেয়ার করুন