সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯

তৃণমূলের স্বজ্জন রাজনীতিবিদ এম এ মান্নান: উন্নয়নের স্বার্থে অভিমানী নেতারা ফিরছেন, বাড়ছে এম এ মান্নানের সমর্থন



সুনামগঞ্জ-০৩(দক্ষিণ সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর) আসনের সংসদ সদস্য,অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও স্বজ্জন রাজনীতিবিদ এম এ মান্নান নতুন উদ্যম ও উচ্ছ্বাসে চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকা। সরকারের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয় অর্থ মন্ত্রনালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালনের পাশপাশি জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে নিয়মিত জনসভা,কর্মী সভা,গণসংযোগ,উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্বোধন সহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন। আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মীরা অভিমানে দুরে ছিলেন তারাও এম এ মান্নানের কাছে আসতে শুরু করেছেন। এম এ মান্নানের ভাষ্যমতে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এম এ মান্নানের শেষ নির্বাচন। তাই সুনামগঞ্জ তথা দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুরের জনগণের উন্নয়নের স্বার্থে এবং এম এ মান্নানকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে অনেক নেতাকর্মীকে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা সংলগ্ন শান্তিগঞ্জ হিজল বাড়ীতে প্রতিদিনই দুই উপজেলা দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলার তৃণমূল নেতৃবৃন্দকে নির্বাচনী বিষয়ে নানা পরিকল্পনা নিয়ে যাচ্ছেন। পাশপাশি দুই উপজেলা থেকে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ব্যানার থেকে অনেক সুধী সমাজের লোকজন প্রায়ই এম এ মান্নান এর সাথে সাক্ষাৎ করতে দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে এম এ মান্নানকে দুই উপজেলার তৃণমুল জনগণ উন্নয়নের মধ্যমনি হিসাবে দেখছেন এম এ মান্নানকে। এম এ মান্নানের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে ত্বরান্বিত করতে আসন্ন একাদ্বশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী করতে এবং নির্বাচনী বিষয়ে নানা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যাচ্ছে। উন্নয়নের প্রশ্নে দল নিরপেক্ষ মানুষও এম এ মান্নানকে নানা ভাবে সমর্থন দিতে এবং এম এ মান্নানের পক্ষে কাজ করতে দেখা গেছে।
তৃণমূল আওয়ামী লীগ সহ স্থানীয় জনসাধারণের সাথে আলোচনা কালে জানা যায়, বিগত দিনে সুনামগঞ্জ-০৩ আসনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের তুলনায় এম এ মন্নান শুরু থেকেই ঘণ ঘন এলাকায় কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এম এ মান্নান এমপি থাকা কালীন সময় থেকেই প্রতি মাসে ৩/৪ বার নিজ নির্বাচনী এলাকায় এসে এবং নিজ বাড়ীতে থেকে জনগণের সাথে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন। এম এ মান্নান দুই মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পাবার পরও যথারীতি প্রতি সপ্তাহে নিজ নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করছেন এবং গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করতে মাঠ পর্যায় থেকে ব্রীজ,সেতু,কালভার্ট সহ নানা মূখী উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন। এম এ মান্নানের উন্নয়ন সুনামগঞ্জ জেলায় দৃশ্যমান অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে সুনামগঞ্জ-০৩ আসনে পর পর দুই বার নির্বাচিত সাংসদ এম এ মান্নান এমপি বিগত ৭/৮ বছরে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মতৎপরতা চালিয়েছেন উপজেলা পরিষদ ভবন নির্মান, আবাসিক ডর্মেটরী নির্মান, ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন নির্মান, নতুন থানা ভবন নির্মাণ, উপজেলা মৎস্য অফিস নির্মান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মান, ৫ম তলা বিশিষ্ট ডুংরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ভবন, পাগলা হাই স্কুল এন্ড কলেজ ও জয়কলস উজানীগাঁও রশিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় সরকারি করণ, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের ডাবর এলাকায় পশু হাসপাতাল নির্মাণ, ৫শ আসন বিশিষ্ট ঝিলমিল অডিটোরিয়াম, নিমার্ণ প্রক্রিয়াধীন উপজেলা কেন্দ্রীয় মসজিদ, উপজেলা সদরে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, উপজেলা ষ্টেডিয়াম, টেক্সটাইল কলেজ, উপজেলা ষ্টেডিয়াম, প্রস্তাবিত খাদ্য গোদাম, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, প্রস্তাবিত দেখার হাওরের উতরারিয়া বাধ এলাকায় রাবার ড্যা¤প স্থাপন সহ বেশ কয়েকটি নতুন ভবন নির্মান, ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট নির্মাণ,এ উপজেলায় নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুতের জন্য পাওয়ার ষ্টেশন স্থাপন, প্রস্তাবিত শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়ক নির্মাণ, উপজেলা বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ, উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মান, রানীগঞ্জে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট বিভাগের সর্ব বৃহৎ কুশিয়ারা নদীর উপর রানীগঞ্জ সেতু, সুনামগঞ্জ-সিলেট মহা সড়কে এক সাথে ১৩টি ব্রীজ নির্মাণ, সিলেট সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহা সড়কে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রশস্থ করণ কাজ, প্রতিটি ইউনিয়নের সাথে উপজেলা সদরের যোগাযোগ রাস্তা, অসংখ্য কাজ নিজের তাগিদে করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। কয়েক মাস আগে পবিত্র হজ¦ পালন করে এসে প্রতি সপ্তাহে নিজ নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক জনসভায় সকাল থেকে সন্ধ্যা এবং রাত-বিরাতে যোগদান করেছেন।
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান তার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি গ্রামকে বিদ্যুতের আলোতে শহরে পরিনত করেছেন এবং ইতিপূর্বে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের অন্তর্ভূক্ত করে ফেলেছেন। পাশপাশি দুই উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি করণ,স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। তার এসময় উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে সততা,ন্যায় নিষ্ঠা ও ক্যাডার বিহীন কার্যক্রম সাধারণ মানুষ ভাল ভাবে দেখছেন। ইতিমধ্যে এম এ মান্নান নিঃস্বার্থ হিসাবে তার নিজ বাড়ী পিতৃভিটায় বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষনা দিয়েছেন। আসন্ন একাদ্বশ নির্বাচনের পরপরই বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনের এই কার্যক্রম শুরু হবে। এম এ মান্নানের এসব কর্মকান্ডে প্রকাশ্যে জনসাধারণের মূখে মূখে প্রচার হচ্ছে।
এদিকে আওয়ামী লীগের অভিমানী যেসব নেতাকর্মীরা এতদিন দুরে ছিলেন তারাও অভিমান ভূলে এম এ মান্নানের কাছে ভিড়তে দেখা গেছে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জে এম এ মান্নান বিরোধী হিসাবে পরিচিত জেলা মুক্তিযোদ্ধা যুব কামান্ডের সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুর রহমান কুবাদকে সম্প্রতি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট এর ভিত্তিপ্রস্থর অনুষ্ঠান পরবর্তী জনসভায় বিশাল মিছিল নিয়ে জনসমাবেশে যোগ দিতে দেখা গেছে। এছাড়াও দুই উপজেলা দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলায় অভিমানী অনেক নেতাকেই এম এ মান্নানের কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করতে দেখা গেছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এম এ মান্নান এমপি সম্প্রতি একাধিক জন সভায় এম এ মান্নান বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন আমার শেষ নির্বাচন। বিগত দিনে আপনাদের জন্য আমি উন্নয়ন করেছি। আগামীতেও নির্বাচিত হলে আমি সুনামগঞ্জবাসীর জন্য আরোও উন্নয়ন করবো।
আমাকে প্রধানমন্ত্রী চেনেন বলেই দুই দুইটি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি সরকারি চাকুরীতে থাকাকালীন সময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা দুই একবার দেখেছেন। আমি কি করতে পারি। শেখ হাসিনাকে আমি চিনি। যখন আমার কোন দলীয় পরিচিতি ছিল না। তখন শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতিক দিয়ে ছিলেন। আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে গিয়ে উন্নয়নের কথা বলেছি। শেখ হাসিনা আগামীতেও আমাকে নৌকা প্রতিক দিবেন। আপনার অতীতে অনেক নেতা দেখেছেন, সরকার দেখেছেন, কিন্তু কে আমাদের জন্য কাজ করেছে ? কেউ করেনি। সুনামগঞ্জ এখন উন্নয়নে জোয়ার বইছে। সুনামগঞ্জে টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট হচ্ছে, সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হচ্ছে, আগামী নির্বাচনের পরে যধি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে তাহলে সুনামগঞ্জ একটি আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হবে, এর জন্য আমরা এখন থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছে। তাই আসুন সকলে মিলে উন্নয়নের স্বার্থে সকল বিবেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করি।

সংবাদটি শেয়ার করুন