সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯

অস্ট্রেলিয়ায় মাইগ্রেশন এখন আরো সহজ ও দ্রুত



স্বপ্নের দেশ অস্ট্রেলিয়ায় বেড়াতে যেতে, পড়াশোনা করতে, কাজ করতে বা স্থায়ীভাবে বসবাসে আগ্রহ নেই এমন লোক পাওয়া দুষ্কর। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্বাস্থ্যকর আবহাওয়া, সামাজিক নিরাপত্তা, লেখাপড়া দারুণ পরিবেশ এবং সমৃদ্ধশালী অর্থনীতি  ‘শান্তির’ দেশটিকে সবার পছন্দের শীর্ষে রেখেছে। আপনি আপনার প্রয়োজন ও যোগ্যতা অনুযায়ী যেকোনো ভিসার জন্য আবেদন করে স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন।

কাজ করার জন্য অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ায় বৈধভাবে কাজ করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত প্রোগ্রাম সাব-ক্লাস-৪৮২। এই ভিসার ক্ষেত্রে ভিসাপ্রার্থীকে অবশ্যই টিএসএস ভিসার পেশা তালিকার জন্য একটি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মনোনীত হতে হবে। এই ভিসার জন্য আইইএলটিএসে প্রতিটি ব্যান্ডে ৫ বা সমমানের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে। সাবক্লাস ৪৮২ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মূলত ডিগ্রি পাসধারী দক্ষ ও অভিজ্ঞ বাংলাদেশিদের জন্য এটি বিরাট সুযোগ। বাংলাদেশিরা যদি প্রথম থেকেই দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে ফাইল প্রসেস করেন তবে স্বল্প সময়ে এই ভিসা পাওয়া নিশ্চিত। তিনি আরও বলেন, যেহেতু অস্ট্রেলিয়া ডিমান্ড লিস্টে ৪৩২টি পেশা রয়েছে সুতরাং অনেকেই বিভিন্ন সাবক্লাসে আবেদন করে পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করার সুযোগটি নিতে পারেন।

এমপ্লয়ার স্পন্সরশিপ
অস্ট্রেলিয়ান কোনও চাকরিদাতা যদি আপনাকে স্পন্সর করতে ইচ্ছুক হয় তবে আপনার ভাগ্য খুলে গেল। এটি জোগাড় করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। এখানে অনেক ধরনের ভিসা হয়। সঠিক ভিসা খুঁজে পাওয়ার ওপর সবকিছু নির্ভর করে।

কোন ধরনের ভিসার জন্য আপনি উপযুক্ত তা সঠিক ও বিস্তারিতভাবে জানাটা সবচেয়ে জরুরি। এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।

এ ভিসায় প্রশিক্ষণটি দুইভাবে হতে পারে। সরাসরি একই পেশায় অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করার মাধ্যমে অথবা কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে। কার্যকরী ইংরেজি ভাষা দক্ষতা (আইইএলটিএসে ৪.৫) থাকতে হবে। ১৮ বছর বয়সী বা তার বেশি হতে হবে।

এমপ্লয়ার নমিনেশন স্কিম (১৮৬)
স্থায়ীভাবে পরিবারসহ এ স্কিমে আবেদন করে বসবাস ও কাজ করা যায়। নাগরিকত্ব লাভ করা সম্ভব। অস্ট্রেলিয়ায় দুই বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হয়।

স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য
সাব-ক্লাস ১৮৯, স্কিল্ড ইন্ডিপেনডেন্ট ভিসা
বিষয়টি সম্পূর্ণ পয়েন্টের ওপর নির্ভর করে। মোট ৬৫ পয়েন্ট প্রয়োজন হয়। পয়েন্ট পাওয়া যায় বয়স, কাজের অভিজ্ঞতা, পড়াশোনা, ভাষার ওপর চূড়ান্ত দখলের ওপর।

স্কিল্ড নমিনেটেড ১৯০ ভিসা
এই প্রোগ্রামটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। এতে আবেদনের জন্য শর্ট লিস্টেড পেশাজীবী হতে হবে। টেরিটরি থেকে স্পন্সরশিপ থাকতে হবে যা পাওয়া খুব কঠিন কাজ নয়।

স্কিল্ড রিজিওনাল ভিসা (সাব-ক্লাস ৪৮৯)
রিজিওনাল এলাকায় দুই বছরের পড়াশোনার অভিজ্ঞতা। আইইএলটিএসে কমপক্ষে ৬ স্কোর থাকতে হবে। পড়াশোনার পর রিজিওনাল এলাকায় এক বছরের কাজের অভিজ্ঞতা। চাকরিদাতার বর্তমান কাজের ঠিকানা, কাজের ধরন ও অভিজ্ঞতার সময়কাল, পড়াশোনার যোগ্যতা, চাকরির ধরন ও বেতনের ওপর পুরো বিষয়টি নির্ভর করে।

রিজিওনাল স্পন্সরড মাইগ্রেশন স্কিম (১৮৭)
স্কিল অ্যাসেসমেন্টের প্রয়োজন হয় না। বয়স ৪৫ বছরের নিচে হতে হবে। চাকরিদাতার দায়-দায়িত্ব এই ক্ষেত্রে কিছুটা কম। স্থায়ী নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব। রিজিওনাল এরিয়া থেকে জব অফারের প্রয়োজন হয়।

তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের জন্য সততা ও দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও কোনও জটিলতা তৈরি হয় না।

পড়াশোনার জন্য অস্ট্রেলিয়া
University of Melbourne, University of Quensland, University of Sydney, Monash University, Curtin University শুধু অস্ট্রেলিয়ার জন্য নয় পুরো পৃথিবীর বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্য অন্যতম। BBA, MBA, Engineering, Medical, Law, IT, Accountant সহ বর্তমান সময়ের সব প্রচলিত বিষয়ে পড়াশোনা করা যায়। পড়াশোনা শেষ করে কিছুদিন চাকরি এবং অতঃপর স্থায়ীভাবে পরিবারসহ বসবাস করার সুযোগ পাওয়া যায়।

ভ্রমণ ভিসায় অস্ট্রেলিয়া
Cairns, Fraser, The Whitsundays, Yamba, Sydney, Bright পৃথিবীর ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। বছরের যেকোনো সময় আমরা পরিবার নিয়ে ঘুরে আসতে পারি অস্ট্রেলিয়ার এসব বিখ্যাত স্থানে। ভ্রমণ ভিসার ক্ষেত্রে আগের মতো আর কড়াকড়ি নেই। সঠিক কাগজপত্র ও প্রকৃত কারণ দেখাতে পারলে এই ভিসা দ্রুত সময়ে পাওয়া সম্ভব বলে মনে করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ান ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে দক্ষতার সঙ্গে যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে, তার মধ্যে ওয়ার্ল্ডওয়াইড মাইগ্রেশন কনসালট্যান্টস লিমিটেড অন্যতম।

অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন সম্পর্কে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চলতি বছর প্রচুর দক্ষ লোকের প্রয়োজন পড়বে। আমরা যদি সঠিকভাবে ও যোগ্য লোক বাছাই করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আবেদন করতে পারি, তবে সবাইকে পেছনে ফেলে আমরাই অস্ট্রেলিয়ার শ্রমবাজারটি দখল করতে পারব। বাংলাদেশের সেই দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে।’ এক্ষেত্রে সবাইকে প্রতারকদের হাত থেকে সাবধানে চলার জন্য তিনি উপদেশ দেন। অস্ট্রেলিয়া মাইগ্রেশনের একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি ভিসা নিয়ে আগমনের সঙ্গে সঙ্গে আপনার সন্তানরা কিন্তু প্রতিমাসে সোশ্যাল বেনিফিট পাওয়া শুরু করবে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেশটির বিনামূল্যের স্বাস্থ্যসেবা পরিবারের সব সদস্যের জন্য। সুতরাং আর দেরি না করে যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদন করতে পারেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্বের জন্য। অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন বিষয়ে আরও তথ্য জানতে আপনার পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত পাঠাতে পারেন এই ই-মেইল ঠিকানায় info@worldwidemigration.org অথবা হালনাগাদ তথ্যের জন্য ভিজিট করতে পারেন www.wwbmc.com. ওয়েবসাইটে।

প্রাথমিক তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন ০১৯৬৬০৪১৫৫৫, ০১৯০৯০৮৩৯৬২, ০১৯০৪০৩৬৮৯৯, ০১৯০৯০৮৩৯৬৩, ০১৯০৪০৩৬৮৯৮ নম্বরগুলোতে। সরাসরি কথা বলতে পারেন ঢাকার উত্তরায় ৭ নম্বর সেক্টরের ৫১ সোনারগাঁও জনপথে অবস্থিত খান টাওয়ারে অবস্থিত ওয়ার্ল্ডওয়াইড মাইগ্রেশন কনসালট্যান্টস লিমিটেডের অফিসে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন