বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২ | ২ ভাদ্র ১৪২৯

বঙ্গবন্ধু’র নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধে সকল ধর্মের মানুষের ভূমিকা ছিল সমান: পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান



সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান বলেছেন, সনাতন ধর্ম হচ্ছে একটি মানব ধর্ম,পিতৃপক্ষ ও মাতৃপক্ষের যে একটি সন্ধিক্ষন এই মহালয়ার গুরুত্ব অসীম। সনাতন ধর্মে মাণব কল্যাণে আত্মার মুক্তি লাভের কথা বলা হয়েছে তাই মহালয়ার দিনটিকে আমরা আহবান জানাই পূজা অর্চনা,শংঙ্ক ধবনি ও চন্ডীপাঠের মধ্যে দিয়ে । তখন দেবী দূর্গা কৈলাস থেকে মাণব কল্যাণের জন্য ধরাদামে আসার প্রতিধবনি শোনা যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে সবার মাঝে একটা সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সকল ধর্মের মানুষের মাঝে একটি সম্প্রীতির মিলবন্ধন সৃষ্টি হয় এবং সবাই মিলেমিশে একাকার হয়ে উৎসব মুখর পরিবেশে তা পালন করে যাচ্ছি যুগ যুগ ধরে। মহালয়া মানেই দেবী দূর্গার আগমণ বার্তার প্রতিধবণি,রাজা সুরত বসন্তকালে দেবী দূর্গা শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে শ্রীরাম সীতাকে উদ্ধারে লংঙ্কায় যাবেন তখন তিনি দেখেছেন দেবী দূর্গাকে শরৎকালে আরাধনা করতে। তিনি সনাতন ধর্মের পর্যালোচনা করে বলেন সমাজের যে ব্যাখাটা উল্লেখ করা আছে তাতে যদি আমরা সমাজের সাথে মিলাই তাহলে আমাদের মনের মাঝে যে অসুর মনোভাব রয়েছে তাকে পুরোপুরি ধবংস করে দিতে হবে।

পরাধীনতার শৃংখল ভেঙ্গে তৎকালীন সময়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের সময় সকল ধর্মের মানুষের ভূমিকা ছিল সমান। এই দেশটি হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খৃষ্টান সকলে মিলেই স্বাধীন করেছেন এই দেশটি সবার,এটা কারো একার দেশ নয়। পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর কবল থেকে দেশের মানুষকে মুক্ত করতে সবাই অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে যুদ্ধ করে অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আজকের এই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। তিনি পাশর্বর্তী দেশ ভারত সরকার ১৯৭১ সালে প্রায় এককোটি শরন্নার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল,যুদ্ধ করতে শিখিয়ে ছিল,ট্রেনিং দিয়েছিল। তখনকার সময় মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বেশী নিগৃহিত হয়েছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। হানদার বাহিনীর সদস্যরা হিন্দুদেরকে টার্গেট করে করে আক্রমণ চালিয়েছিল,বাড়িঘর জ¦ালিয়ে পুড়িয়ে ধবংস করে দেয়া হয়েছিল লোকজনকে ধরে ধরে এনে হত্যা করেছিল। আজ স্বাধীন বাংলার স্থপতি জাতির জনকের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে যে উন্নয়নের ধারা সুচিত হয়েছে বিশ^বাসী আজ বাংলাদেশকে অনুকরণ করছে। তার শাসনামলে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রয়েছে তার উদাহরণ হলো এবার সারাদেশে পূজামন্ডপের সংখ্যা প্রায় দেড়গুন বেশি। তাই এবারো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শহর সুনামগঞ্জের মানুষ নির্বিঘ্নে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠান সম্পন্ন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন । এজন্য ষষ্টীর দিন থেকে প্রতিটি পূজামন্ডপে পুলিশ,র‌্যাব,আনসার ও বিজিবির স্তরের নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করার আশ্বাস প্রদান করেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের দূর্গাপূজার আগমনী বার্তা নিয়ে সুনামগঞ্জে শুভ মহালয়া উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও রত্নগর্ভা মায়েদের সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (০৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় সুনামগঞ্জ সংস্কৃত কলেজ কর্তৃক আয়োজিত মহালয়া মহোৎসব”(মহালয়া)” উপলক্ষে শহরের শ্রী শ্রী জগন্নাথবাড়ি নাটমন্দির প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও ৬জন রত্মাগর্ভা মাকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান অনুষ্ঠানে প্রদান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শ্রী শ্রী জগন্নাথবাড়ি নাট মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি এড. স্বপন কুমার দাস রায়ের সভাপতিত্বে ও কমিটির সাধারন সম্পাদক বিজয় তালুকদার বিজুর সঞ্চালনায় আলোচন সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পৌরসভার মেয়র নাদের বখত,সুনামগঞ্জের শিক্ষাবিদ বাবু ধূর্জুটি কুমার বসু,সুনামগঞ্জ সরকারী করেজের সাবেক অধ্যক্ষ পরিমল কান্তি দে,সরকারী মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ দিলীপ কুমার মজুমদার, সুনামগঞ্জ সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ গৌরাংঙ্গ রঞ্জন চক্রবর্তী, শ্রী জগন্নাথবাড়ি নাট মন্দির পরিচালনা কমিটির উপদেষ্ঠা সুরঞ্জন রায়,সুভাষ রায়,জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারন সম্পাদক বিমল বণিক,সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শহীদুল্লাহ, ডিবি অফিসার ইনচার্জ কাজি মো. মোক্তাদির হোসেন চৌধুরী,দূর্গাবাড়ি পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুবিমল চক্রবর্তী চন্দন,মহালয়া উদযাপন পরিষদের সহ সভাপতি দীপক রঞ্জন তালুকদার,সহ সম্পাদক ডাঃ নীল রতন সরকার প্রমুখ।

শুভ মহালয়ার উদ্বোধন করেন শহরের ষ্যোলঘরস্থ রামকৃষ্ণ আশ্রমের মহারাজ শ্রীমৎ স্বামী হৃদয়ানন্দ লালন। পরে ৬জন রত্নগর্ভা মায়েদের হাতে সম্মাননা ক্রেষ্ট তুলে দেন অতিথিরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন