সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯

দোয়ারাবাজারে অপহৃত ২ শিশু উদ্ধার এক অপহরণকারী শ্রী ঘরে



দোয়ারাবাজার উপজেলায় শিশু অপহরণের প্রবণতা বেড়ে গেছে। গত কয়েকদিনে অপহৃত দুই শিশু উদ্ধার হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাতে অপহরণকালে উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের রাজারগাঁও গ্রামের রন চন্দ্রের পুত্র শিশু পুত্র রাহুল চন্দ্র (৫) কে উদ্ধার করা হয়েছে। একই ভাবে গত বৃহষ্পতিবার উপজেলার জালালপুর গ্রামের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিব আলী (১২) কে কুমিল্লা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। দোয়ারাবাজার থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় একই গ্রামের মৃত রমন চন্দ্রের পুত্র কিপেন্দ্র চন্দ্র শিশু রাহুল চন্দ্র কে তারই শ্যালক সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তিরাশি গ্রামের বাসিন্দা বাপ্পন চন্দ্রের হাতে তুলে দেয়। স্থানীয় এক মোটরসাইকেল চালকের গাড়ীতে তুলে দেয় কিপেন্দ্র। ছেলেটি কে মিষ্টি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় অপহৃত শিশুর পরিবার ছাতক শহরে নিখোঁজের মাইকিং করান। ঘটনা জানাজানির পর অপহরণ কারী ছাতকের শিববাড়ী খেয়াঘাটের নিকট রিকশায় ফেলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহায়তায় ছাতক থেকে শিশুটি কে উদ্ধার করা হয়।

অপহৃত শিশুর পরিবারের দাবি, মুক্তিপন আদায়ের লক্ষ্যে একই গ্রাে কিপেন্দ্র চন্দ্র তারই শ্যালকের হাতে তুলে দেয়। সে স্থানীয় এক মোটরসাইকেল ড্রাইভারের গাড়ীতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় অপহরণ কারী বাপ্পন চন্দ্র সেখানে ফেলেই পালিয়ে যায়। শনিবার রাতে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিপেন্দ্র চন্দ্র কে রাত ভর আটকে রেখে গ্রাম পঞ্চায়েতবাসী রোববার সকালে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় দোয়ারাবাজার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ৭ ধারায় অপহরণ কারী শ্যালক-দুলা ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে রোববার তাকে সুনামগঞ্জ কোর্টে প্রেরণ করা হয় (মামলা নং ০২,০৭/১০/১৮। দোয়ারাবাজার থানার ওসি সুশীল রঞ্জন দাস বলেছেন, অপহরণের সঙ্গে জড়িত কিপেন্দ্র কে আটক করে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। অপহরণকারী বাপ্পন চন্দ্র কে দ্রুত গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

এ দিকে দোয়ারাবাজার থেকে হারিয়ে যাওয়া স্কুল ছাত্র রাকিব আলীকে ১ মাস ৬ দিন পর কুমিল্লা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহ¯পতিবার রাতে কে বা কারা তাকে কুমিল্লা রেল স্টেশনে ফেলে যায়। রাকিব আলী তার মায়ের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানায় সে কুমিল্লা রেল স্টেশনে আছে। পরে রাকিবের মামা কুমিল্লা’র চাদপুর নানুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাছান আহমেদ সুজন রেল পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করেন। কুমিল্লার চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে তাকে বাসায় নিয়ে যান তিনি।

জানা যায়, রাকিব আলী (১২) দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের দিলবর আলীর পুত্র এবং সে কাটাখালী মিতালি পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র। গত ২৯ আগস্ট স্কুলে আসার জন্য সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়ি ফিরে যায়নি সে। দোয়ারাবাজার থানার ওসি সুশীল রঞ্জন দাস বলেন, জালালপুর গ্রামের হারিয়ে যাওয়া শিশুটিকে পাওয়া গেছে, সে এখন অসুস্থ। সুস্থ হলে তার পরিবারের লোকজন তাকে নিয়ে আসবে

সংবাদটি শেয়ার করুন