সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯

খালেদা জিয়ার ছেলে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে সম্পদের পাহাড় বানিয়েছিল : বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আযম



বস্ত্র ও পাট মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী মির্জা আযম বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে সরকার আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। সেই সময় তারা আওয়ামী লীগের নেতাদের হত্যা করেছে, হত্যা করেছে সাবেক অর্থ মন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়া, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আওয়ামী লীগের তুখুর শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার প্রকাশ্যে জনসভায় গ্রেনেড হামলা করে হত্যা করেছে। বিএনপি-জামায়াত আওয়ামী লীগের কয়েক হাজার কর্মীদের হত্যা করেছে, পিতার সামনে মেয়েকে ধর্ষণ করেছে, স্বামীর সামনে স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছে, ভাইয়ের সামনে বোনকে ধর্ষণ করেছে।
তিনি বলেন জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করা জন্য ২১ আগস্ট জনসভায় তাঁকে লক্ষ্য করে ৯টি গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছিল। সেই হামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান সহ ২১ জন নেতাকর্মী শহীদ ও ৫শত নেতাকর্মী আহত হয়েছিলেন। তখন কোথায় ছিল গণতন্ত্র ? এখন সেই গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলছেন আমাদের সুশীলরা।
রবিবার বিকাল ৩টায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে, গণপূর্ত বিভাগের বাস্তবায়নে ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ একর জায়গার উপর নির্মিত সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে দক্ষিণ সুনাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, বিএনপি জামায়ত জোট সরকারের সময় বাংলাদেশ তিন বার দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান হয়েছেল আর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ বিশ্ব উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্ব উন্নয়নে রোল মডেল। তিনি বলেন, বিএনপির সময় বাংলাদেশ ছিল বিশ্বের সর্ব নিম্ন গরীব দেশ আর সেই দেশের সব চেয়ে ধনী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে নিজের সম্পদের পাহাড় বানিয়েছিল। তারেক রহমান দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এখন সেই পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরে আসছে। তাদের বিচারও হচ্ছে। তারা স্বীকৃত চোর।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় গেলে মানুষের মুখে খাবার থাকে না, শান্তিতে ঘুমাতে পারে না, আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে দেশের মানুষ ৩ বেলা পেট ভরে খেতে পারে, মানুষের উন্নতি হয়ে, দেশের উন্নয়ন হয়, মানুষ নিশ্চিন্তে শান্তিতে ঘুমাতে পারে।
সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এম এ মান্নান এমপি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এই দেশ উন্নয়নের মহা সড়কে অগ্রসর হচ্ছে।দেশে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। মাথাপিছু আয় অনেক বেড়েছে। ঘরে-ঘরে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হচ্ছে। শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের বলিষ্ট নেতৃত্বের কারণে।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা গ্রামের মানুষ ও হাওর অঞ্চলের মানুষের কথা সব সময় চিন্তা করেন, তাই সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট হচ্ছে, হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৫শত শয্যা বিশিষ্ট আমাদের মদনপুরের সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের কাছ শুরু হয়ে গেছে কয়েকদিনের মধ্যেই আমরা এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবো, সেই সাথে সুনামগঞ্জে বিশ্ব বিদ্যালয়ে স্থাপনের কাজও নীতিগত ভাবে শুরু হয়ে গেছে। বিশ্ব বিদ্যালয়ে অনুমোদনের জন্য আইন প্রনয়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কি হচ্ছে না এই সুনামগঞ্জে ? আগে কি এগুলো কেউ চিন্তা করতে পেরেছিল ? স্বপ্নেও চিন্তা করা যেত না। আওয়ামী লীগের কারণেই এসব উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। আমারদের রানীগঞ্জে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট বিভাগের সর্ব বৃহৎ কুশিয়ারা নদীর উপর রানীগঞ্জ সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে, ব্রীজটি হয়ে গেলে ঢাকা যেতে আমাদের ২ ঘণ্টা সময় বাঁচবে। সেই সাথে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর উপর আব্দুজ জহুর সেতু নির্মাণ করেছে আওয়ামী লীগ,এখন মহনগঞ্জ সুনামগঞ্জ সরকের কাজও বাস্তবায়ন করা হবে। সুনামগঞ্জ-সিলেট মহা সড়কে এক সাথে ১৩টি ব্রীজ নির্মাণ করেছি আমরা, এখন সেই রাস্তাকেও প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রশস্থ করণের কাজও করছি।

আলোচনা সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হাজী তহুর আলীর সভাপতিত্বে, উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি প্রভাষক নুর হোসেনের পরিচালনায়, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুহিবুর রহমান মানিক এমপি, সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. জয়াসেন গুপ্তা এমপি, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি, সুনামগঞ্জ-মৌলভীবাজার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শামছুন নাহার বেগম শাহানা রব্বানী, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুর রহমান সিরাজ, জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আকমল হোসেন, বিশিষ্ট শিল্পপতি তরুন উদ্যোক্তা শ্যামল রায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান প্রমূখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাসুদ মিয়া, ইউপি চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন, ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জিতু,ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান নুর কালাম, ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক, ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম,উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বাছিত সুজন,যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আবাব মিয়া, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ সভাপতি এ্যাড. বোরহান উদ্দিন দোলন, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুজন, জেলা পরিষদ সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম,উপজেলা শ্রমিকলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম,উপজেলা কৃষকলীগ সভাপতি ফয়জুর রহমান,জেলা ছাত্রলীগ সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম শিপন,উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রয়েল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তালুকদার প্রমুখ।
এদিকে সকাল ১১টায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শান্তিগঞ্জ মৎস্য হ্যাচারী সংলগ্ন সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের উত্তর পাশে ৫ একর জায়গায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রোনালয়ের প্রতিমন্ত্রী মির্জা আযম ও অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এম এ মান্নান এমপি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শফিউল আলম, কামরুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. বরকত উল্লাহ খান,সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সফি উল্লাহ, বিশিষ্ট শিল্পপতি তরুন উদ্যোক্তা শ্যামল রায়,দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন