সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯

এম এ মান্নানের ঐক্লান্তিক প্রচেষ্টায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইউন্সিটিটিউট



বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্প খাতে দক্ষ বস্ত্র প্রকৌশলীর অভাব পূরণের জন্য দেশের সর্বাপেক্ষা সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে সরকার বাংলাদেশে চাকরির বাজারে যে কয়টি পেশার অসম্ভব চাহিদা রয়েছে তার মধ্যে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার অন্যতম। সুনামগঞ্জে জেলা একটি হাওর বেষ্ঠিত জনপদ। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাদদেশে বাংলাদেশের উত্তর পূর্ব সীমান্তে সুনামগঞ্জ জেলার অবস্থান। ১১টি উপজেলার অধিকাংশ উপজেলাই হাওর বেষ্ঠিত এবং বছরর ৬ মাস থাকে পানির নিচে তলিয়ে থাকে। জেলায় ৬ মাস বোরো ফসল উৎপাদন করে বোর ফসল তোলার পর পরবর্তী ৬ মাস আর কোন কাজের সুযোগ থাকেনা। কর্মসংস্থানের অভাব ও চাকুরী না পাওয়ায় জেলার ৮০ ভাগ মানুষ বেকার থাকে।
একজন স্বজ্জন রাজনীতিবিদ অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি। মূলত তিনি একজন উন্নয়ন মূখী রাজনীতিবিদ। দিনরাত ব্যস্ত থাকেন রাজনীতি সহ সুনামগঞ্জ বাসীর উন্নয়ন নিয়ে। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের কথা ভাবেন। তাদের পাশে থাকেন। তাকে ঘিরে চলছে সুনামগঞ্জ জেলাবাসীর স্বপ্নপূরণের অনেক উন্নয়ন কাজ। শুধু উন্নয়ন নয় সুনামগঞ্জের মানুষের কাছে তিনি পরিচিত হয়ে উঠেছেন স্বজ্জন রাজনীতিবিদ ও উন্নয়নের রুপকার হিসাবে।
সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার আব্দুল মজিদ কলেজের পূর্বদিকে সাত একর জমির উপর টেক্সটাইল ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট তৈরীর সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন সহ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে ব্যাপক জনসামগম ঘটাতে উদ্বোধন পরবর্তী জনসভা সফলের লক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সেই সুবাদে সুনামগঞ্জবাসীর উন্নয়নের রূপকার স্বজ্জন রাজনীতিবিদ অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি’র ঐক্লান্তিক প্রচেষ্টায় রবিবার দুপুরে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করবেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার মৎস্য হ্যাচারীর বিপরীত দিকে ও আব্দুল মজিদ কলেজের পূর্ব দিকে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পূর্ব পাশে পঞ্চাশহাল মৌজায় ৫ একর জমির উপর এর অবকাঠামো নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হবে। যৌথভাবে ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করবেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এবং অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। সুনামগঞ্জ শহরের তরুণ শিল্পপতি গার্মেন্টস শিল্পের অন্যতম উদ্যোক্তা শ্যামল রায় সুনামগঞ্জে একটি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানকে উদ্বুদ্ধ করেন। ২০১৪ সালে তিনি অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানের কাছ থেকে একটি (ডিও লেটার) আধা সরকারি পত্র নিয়ে বস্ত্র অধিদপ্তরে জমা দেন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। পরে এমএ মান্নানের সহযোগিতায় এই প্রকল্প প্রস্তাবনাটি পর্যায়ক্রমে বস্ত্র অধিদপ্তর, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ও একনেকে অনুমোদন হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের অবকাঠামো নির্মাণের চূড়ান্ত মাস্টাপ্লান অনুমোদন করেন। ১০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়। গত বছরের ২৫ এপ্রিল এই প্রকল্পের প্রস্তাবনা একনেকে অনুমোদনের পর ২৩ মে পরিকল্পনা বিভাগ এবং ২০ জুন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকল্প অনুমোদনের প্রশাসনিক আদেশ জারী করা হয়। ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার পাঠিয়ে বস্ত্র মন্ত্রীকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি। এরপর থেকেই এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। গত বছরের ২৬ এপ্রিল একনেকে অনুমোদিত হয় সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট প্রকল্প।
সুনামগঞ্জ গণপূর্ত দপ্তর সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা সদর এলাকার পঞ্চাশহাল মৌজায় ১১ কোটি ৭২ লাখ ব্যয়ে ৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ৫ একর জমিতে সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপনে ১০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত। আরও দুই একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দুই একর জমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব হলে, ফুটবল খেলার মাঠ ও একটি করে বালিকা ও বালক হোস্টেল নির্মাণ করা হবে। সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা স¤পন্ন ভবন ও প্রশস্ত রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করা হবে। থাকবে ফুটবল খেলার মাঠ, সাধারণ মাঠ, সকল ভবনের মাঝে একটি পুকুর, দুইটি প্রবেশপথ। সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের জন্য নির্মাণ করা হবে- একটি একাডেমিক ভবন, একটি ওয়ার্কশপ কাম লাইব্রেরি ভবন, একটি ¯িপনিং শেড (কটন ও জুট), একটি ওয়েভিং ও নিটিং শেড,একটি ড্রায়িং শেড, অধ্যক্ষের বাসভবন একটি, একটি বালিকা হোস্টেল ভবন, একটি বালক হোস্টেল ভবন, একটি অফিসার্স ডরমেটরি ভবন, একটি কর্মচারী ডরমেটরি ভবন, একটি মসজিদ, একটি বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগার, একটি শহীদ মিনার, একটি ব্যাডমিন্টন কোর্ট ও যানবাহনের জন্য পার্কিং স্থান।
প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বললেন, সুনামগঞ্জের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে শিক্ষিত জনবলকে সম্পদে পরিনত করার লক্ষে সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট স্থাপন করা হয়েছে। ইন্সটিটিউটটি ভবিষ্যতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে রূপান্তরিত হবে। এখান থেকে হাওর পাড়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ডিগ্রী নিয়ে দেশ বিদেশে চাকুরী করবে। সিলেটের মানুষদের কর্মবিমুখতার যে বদনাম তা ঘুচাতে হবে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে উঠবে তাদের নিজস্ব চিন্তা চেতনায় এবং পরিশ্রম দ্বারা তারাই তাদের ভাগ্য নির্মাণ করবে। প্রকাশ্যে এবং নেপথ্যে যাঁরাই এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদেরকে সুনামগঞ্জ জেলার সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে তাঁদেরকে অভিনন্দন জানাই। আগামীতে উন্নয়নের স্বার্থে সুনামগঞ্জবাসী একাট্টা হয়ে শেখ হাসিনার নৌকাকে বারবার নির্বাচিত করি।

সংবাদটি শেয়ার করুন