শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯

ইন্দোনেশিয়ার পালু যেন লাশের নগরী



বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানান স্থানীয় কর্মকর্তারা।

গত শুক্রবার ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সমুদ্র থেকে উঠে আসা প্রায় ছয় মিটার উঁচু দানবাকৃতির ঢেউ সুলাবাসি দ্বীপের পশ্চিম উপকূলের পালু নগরীকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

ভূমিকম্পের কারণে ভূমিধস এবং সুনামিতে সেতু ভেঙ্গে যাওয়ায় প্রত্যন্ত কিছু এলাকায় এখনও উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে পারেননি। যে কারণে সেখানকার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান কর্মকর্তারা।

পালুর দক্ষিণাঞ্চলের গ্রাম পেতোবোর বাসিন্দা ৪৪ বছরের হাসনাহ শুক্রবার পরিবারের অর্ধেকের বেশি সদস্যকে চিরতরে হারিয়ে ফেলেছেন।

নিহতদের মধ্যে তার দুই সন্তান, বোন, বোনের স্বামী-সন্তান এবং বেশ কয়েকজন কাজিন আছেন।

তিনি বলেন, “আমার পরিবারের এত সদস্য মারা গেছে যে আমি গুণতেও পারছি না। ভূমিকম্পে আমাদের বাড়িঘর মাটির ভেতর ঢুকে যেতে দেখেছি। মনে হচ্ছিল ব্লেন্ডারের মধ্যে সব কিছু ব্লেন্ড হয়ে যাচ্ছে।

“আমি সৌভাগ্যবান তাই বেঁচে আছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে বেঁচে না থাকলেই ভালো হত।”

উদ্ধার কাজ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি খুবই হতাশ। তারা বলেছিল, তারা বড় বড় মেশিন নিয়ে উদ্ধার কাজ করবে। কিন্তু আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছি না, তারা মিথ্যাবাদী।”

তবে ধীরে হলেও প্রাণ ফিরছে পালু নগরীতে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার হয়েছে। কিছু কিছু দোকান এবং ব্যাংক খুলেছে। ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়েছে।

নগরীর ১৩৪ শয্যার ‘বুদি আগুং’ হাসপাতালে আরও ২০টি শয্যা যোগ করা হয়েছে। সেখানে আহত মানুষের সংখ্যা উপচে পড়ছে। চিকিৎসকরা তাদের চিকিৎসা দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন।

রেড ক্রসের হেলিকপ্টার থেকে প্রত্যন্ত এলাকায় খাবার, কম্বল ও তাঁবু ফেলা হয়েছে।

তবে অনেকেই শুধু নারকেল, কলা ও কাসাভা খেয়ে জীবন বাঁচিয়ে রাখার কথা জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন