রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে মরমী সাধক প্রতাপ রঞ্জন তালুকদারের ১০তম মৃত্যু দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক



“কোন সূরে যাও বাশঁরী বাজাইয়ারে ভাটিয়াল নাইয়া, ও আমার মনপ্রাণ কারিয়া নিলাম বাশিঁর গান শুনাইয়ারে” এই ধামালী গানের কলি দিয়ে ধামালী গানের মরমী সাধক লোক কবি প্রতাপ রঞ্জন তালুকদারের ১০তম মৃত্যু দিবস পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় লোক কবি প্রতাপ রঞ্জন তালুকদার পরিচালনা পর্ষদ এর আয়োজনে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের টাইলা নিজ গ্রামের হরিতলা মাঠে মৃত্যু দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
লোক কবি প্রতাপ রঞ্জন তালুকদার পরিচালনা পর্ষদ এর সভাপতি কবি নজরুল ইসলাম রানার সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সদস্য সুদিন চন্দ্র দাসের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন,দক্ষিণ সুনাসগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আবুল কালাম।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দিরাই উপজেলার চরন্নারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রতন কুমার তালুকদার,সুনামগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ও মোহনা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি কুলেন্দু শেখর দাস,একুশে পদকপ্রাপ্ত পন্ডিত রামকানাই দাসের ভাইপো ও চরন্নারচর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান চন্দন তালুকদার,চরন্নারচর জাতীয় পর্যায়ে আলোচিত বাউল শিল্পী সূর্য্যলাল দাস,বাউল ফারুক পাশা,বাউল আশিক সরকার,আরজু মিয়া,বাউল আছমত মিয়া,ইউপি সদস্য প্রদীপ ভৌমিক,ইউপি সদস্য রুপক চৌধুরী,সমাজকর্মী রুপ মিয়া, বীরগাও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ নুর খান,বাউল গীতিকার কবি সরদার শাহারিয়ার হাসান প্রমুখ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন,বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী সুভাষ চন্দ্র দাস,গোপেশ রঞ্জন দাস,সুধীর চন্দ্র দাস,লন্ডন প্রবাসী মোঃ আব্দুল বারিক,মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম,প্রবীন মুরুব্বী তারিফ উল্ল্যা,অতুল দাস,এড. দেবাংশু শেখর দাস,অনুরাধা দাস,পশ্চিম বীরগাও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন,রফাৎ উল্ল্যা,দৈনিক সিলেট দিনরাতের জেলা প্রতিনিধি শুভেন্দু শেখর দাস,দৈনিক সিলেট মানচিত্রের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি নাঈম তালুকদার,আশিক মিয়া,মছরু মিয়া,বাউল শিল্পী রবিন রানা,প্রয়াত কবিপূত্র প্রসেন তালুকদার,বজ্রবাঁশি দাস প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আবুল কালাম বলেন,অজপাড়া গায়ে জন্ম নেয়া প্রয়াত সাধক লোক কবি প্রতাপ রঞ্জন তালুকদার তার জীবদ্দশায় ধামালী,র্সয্যব্রত সঙ্গীত,নারী সঙ্গীত,কীর্ত্তণ,বৈঠকি,গোষ্ট গান ও গণসঙ্গীতসহ প্রায় ৮ শতাধিক গান রচনা করে গেছেন। কিন্তু মরমী কবির গানগুলো আজ কালের আবর্তে হারিয়ে যেতে বসেছিল।
তিনি বলেন, এতদিন তার গানগুলো সংরক্ষণে সরকার কিংবা প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আজ এই মরমী সাধক প্রয়াত প্রতাপ রঞ্জন তালুকদারের অগণিত ভক্তশ্রোতারা উদ্যোগেী হয়ে তার মৃত্যু দিবস পালন করছে তাতে মনে করিয়ে দেয় এই মরমী সাধক একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম,রাধারমণ দত্তের সমপরিমাণ কবি হলেও তিনি সবসময় ছিলেন সরকার,গণমাধ্যমকর্মীর চোখের আড়ালে।

তিনি আরও বলেন, এই হাওরের পাড়ের অজপাড়াগায়ের এই কবির সৃষ্টকর্মগুলো আজ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভক্তরা বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে এই ধামালী গানগুলো অনুশীলনচর্চা ও গাওয়ার সংস্কৃতি চলমান থাকলেও প্রচার প্রসারে নেই তেমন কোন উদ্যোগে। এই খ্যাতিমান মরমী সাধক প্রতাপ রঞ্জন তালুকদারকে মরোনত্তর পদক প্রদানে সরকারকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আবুল কালাম তাৎক্ষনিক কবির নিজ বাড়ি টাইলা গ্রামে সঙ্গীতালয়ের জন্য ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদানের ঘোষনা দেন।

পরে মরমী সাধকের অসংখ্য শির্ষ্যরা ধামালী গান পরিবেশন করে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন