সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯

ছাতকে চরমহল্লা পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে’র বেহাল দশা : কর্তব্যরতদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ



ছাতকের চরমহল্লা ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি অযত্নে-অবহেলায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের নজরদারী নেই বললেই চলে। দায়িত্বরতদের কর্তব্য কাজে চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছে ।

গত সোমবার সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চরমহল্লা ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি অযত্নে অবহেলায় ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এ যেন দেখার কেউ নেই। সকাল সাড়ে ১১টায় কল্যাণ কেন্দ্রটির দরজা তালা বদ্ধ পাওয়া যায়। আশ-পাশ এলাকায় ১০-১২জন নারী পুরুষ সমবেত দেখে এ প্রতিনিধির আলাপকালে চরমহল্লা ইউনিয়নের ছিক্কা নিবাসী বুরহান উদ্দিন(৫০), নানকার নিবাসী আব্দুল মোমিন (৬৫), শাখাইতি নিবাসী আলী হুসেন (৪০) জানান আমরা দূর-দূরান্ত গ্রাম থেকে এসেছি চিকিৎসা ও পরামর্শ গ্রহণের জন্য। অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় সংশ্লিষ্ট কাউকে না পেয়ে আমরা নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে। অনুরুপ ৮-১০ মহিলা চিকিৎসা না পেয়ে বাড়ী ফিরে যেতে দেখা যায়। জরাজীর্ণ্য একটি ভবনে পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদে সাজির উদ্দিন, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শীকা (ভিজিটর) আয়েশা হারুন আশা ও আয়া পদে স্বপ্না রাণী কর্মরত থেকে দায় সাড়াভাবে দায়িত্ব কর্তব্য পালন করার খবর পাওয়া গেছে। জানা যায়, কল্যাণ কেন্দ্রটির সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। স্থানীয় লোকজন কেন্দ্রটির কয়েকটি কক্ষ তাদের পারিবারিক কাজে ব্যবহার করতেও দেখা গেছে। সংলগ্ন বাড়িয়ান লোকদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, মাঝে মধ্যে এখানে কর্মরতদের আশা-যাওয়া করতে দেখা যায়। সব মিলিয়ে উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি বর্তমানে হ-য-ব-র-ল অবস্থায় রয়েছে। এখানে রাতে এলাকার বখাটে লোকজন নানা ধরনের অপরাধ কর্মকান্ড সংগঠিত করে আসছে বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ দেন । সরকারের এ প্রতিষ্ঠানটি অযতœ- অবহেলার দরুন গ্রামীণ এলাকার লোকজন সেবা নিতে পারছেন না। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য হুসিয়ার আলী’র সাথে আলাপকালে জানা যায়, এলাকার লোকজন এ প্রতিষ্ঠান থেকে কাঙ্কিত সেবা পাচ্ছেনা।ইউপি সচিব মাসুক মিয়া জানান, প্রায়ই এলাকার লোকজন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের কর্মরতদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শীকা (ভিজিটর) আয়েশা হারুন আশা’র মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি সপ্তাহে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার এখানে দায়িত্ব পালন করি। সোমবার অফিস কাজে রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে এসেছি। কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সাজির উদ্দিন’র সাথে এ প্রতিনিধির আলাপকালে তিনি জানান, আমার দুটি ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এখানে সপ্তাহে সোম ও বৃহস্পতিবার দু’দিন দায়িত্ব পালন করি। সোমবার অগ্রিম কর্মসূচী জমা দেয়ার জন্য উপজেলা শহরে এসেছি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও)’র সাথে বারবার যোগাযোগ করে তাঁকে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এলাকার ভূক্তভোগী জনগনের করুন আর্তনাদ পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালনের জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণে দাবী জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন