সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯

দৃষ্টিনন্দন ৫টি মসজিদের ছাদের বাহারি কারুকাজ



স্থাপত্য-সৌন্দর্যের ব্যাপারে ইসলামের সূচনালগ্ন থেকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পার্থিব ও ধর্মীয় দুই ধরনের স্থাপনার ক্ষেত্রেই—ইসলামি স্থাপত্যশৈলী অনন্যতা ও রকমারিত্ব উপহার দিয়েছে। ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর স্থাপত্যশৈলী ও নির্মাণ-সৌন্দর্য মানুষকে মোহিত করে। দর্শকের কৌতূহলী চোখে বিস্ময় সৃষ্টি করে।

শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ, আবুধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত
আবুধাবির বিখ্যাত ও সুবিশাল শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদটি ২০১১ সালে উদ্বোধন করা হয়। নির্মাণকাজে সময় লেগেছিল ১১ বছর। মুঘল ও মুরিশ স্থাপত্যশৈলীর সংমিশ্রণে মসজিদটি নির্মিত হয়। নকশা করেছেন বিখ্যাত শিল্পী ও ইঞ্জিনিয়ার ইউসুফ আবদেলকি।

শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানীতে অবস্থিত মসজিদটি দেশটির প্রধান মসজিদ হিসেবে বিবেচিত হয়। আমিরাতে আগত পর্যটকদের কাছে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রথম প্রেসিডেন্ট শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল-নাহিয়ানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।

আল-সুলতান বারকুক মসজিদ, কায়রো, মিসর
আল-সুলতান বারকুক মসজিদটি ‘আল-সুলতান কালাউন মসজিদ’ নামেও পরিচিত। তবে প্রথম নামটিই সঠিক ও যথাযোগ্য। ১৩৮৬ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়। মসজিদটির নকশা করেন শিহাবউদ্দিন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-তুলুনি।

আল-সুলতান বারকুক মসজিদ

মসজিদটি বাহরি মামলুক স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম নিদর্শন। কায়রোর আল-মুইজ লি-দ্বীনিল্লাহ সড়কে এটির অবস্থিত। মসজিদের চৌহদ্দিতে একটি খানকাহ ও মাদরাসাও রয়েছে। প্রথম বাহরি মামলুক সুলতানি আল-বারকুক এ মসজিদ নির্মাণ করেন।

সেলিমিয়া মসজিদ, এদির্নে, তুরস্ক
বিখ্যাত নকশাকার ও চিত্রশিল্পী সিনান পাশার নকশা ও তত্ত্বাবধানে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণশৈলীতে ইসলামি ও বাইজেন্টাইন উপকরণ ব্যবহার করা হয়। মসজিদটির নির্মাণকাজ ১৫৬৯ সালে শুরু করা হয়। দীর্ঘ ছয় বছর নির্মাণকাজ চলার পর ১৫৭৫ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

আল-সুলতান বারকুক মসজিদ

ওসমানি সুলতান দ্বিতীয় সেলিমের নির্দেশে তৎকালীন তুরস্কের দ্বিতীয় রাজধানী এদির্নেতে মসজিদটি নির্মিত হয়। এ মসজিদ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অর্ন্তভুক্ত।

ওয়াজির খান মসজিদ, লাহোর, পাকিস্তান
পাঞ্জাবের মুঘল সুবেদার ওয়াজির খান মসজিদটি নির্মাণ করেন। মুঘল সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে ১৬৪২ সালে সর্বসাধারণের জন্য এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

ওয়াজির খান মসজিদ

মসজিদটির নির্মাণকাজ ১৬৩৪ সালে শুরু হয় এবং সাত বছরে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। লাহোরের অবস্থিত ইন্দো-ইসলামি ধারায় নির্মিত মসজিদটি সুবেদার ওয়াজির খানের নামে নামকরণ করা হয়।

জলিল খাইয়াত মসজিদ, আরবিল, ইরাক
ইরাকের স্বায়ত্বশাসিত কুর্দিস্তানের আরবিলে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। আরবিলের ধনাঢ্য ও বিত্তশালী জনাব জলিল খাইয়াতের মসজিদটির নির্মাণসংক্রান্ত যাবতীয় তত্ত্বাবধান করেন।

জলিল খাইয়াত মসজিদ

২০০৭ সালে মসজিদটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়। মিশরের কায়রোর মুহাম্মদ আলি মসজিদ ও ইস্তানবুলের ব্লু মসজিদের অনুকরণে এটি নির্মাণ করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন