সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯

খালেদার জামিন কেন বাতিল হবে না, জানতে চায় আদালত



ফাইল ছবি

ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আখতারুজ্জামান রোববার এ মামলার শুনানিতে খালেদার আইনজীবীদের ‘কারণ দর্শানোর’ এই নির্দেশনা দিয়ে জবাব দেওয়ার জন্য ৭ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছে।

জামিন বৃদ্ধি করতে খালেদার আইনজীবীদের আবেদনের পর রাষ্ট্রপক্ষে এর বিরোধিতার প্রেক্ষাপটে আদালতের এই নির্দেশ আসে।

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গত ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকলেও জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিনে রয়েছেন।

‘অসুস্থতার কারণে’ তাকে গত সাত মাসে একবারও আদালতে হাজির করতে না পারায় কারাগারের ভেতরে বিশেষ এজলাস বসিয়ে তার বিচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কিন্তু তারপরও খালেদাকে আদালতে আনতে না পেরে গত ২০ সেপ্টেম্বর তার অনুপস্থিতিতেই বিচার চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেন বিচারক মো. আখতারুজ্জামান।

খালেদা জিয়া উপস্থিত না থাকলেও তার আইনজীবীরা প্রতিটি ধার্য তারিখে জামিন বাড়ানোর আবেদন করে আসছেন এবং বিচারকও তা এতদিন মঞ্জুর করে আসছিলেন।

এর মধ্যে ২৪ সেপ্টেম্বর এই বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে হাই কোর্টে যেতে ২০ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেন মামলার অপর দুই আসামির আইনজীবীরা।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্কে অংশ না নেওয়ায় বিচারের ওই অংশটি বাদ রেখেই রায়ের তারিখ নির্ধারণের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

রোববারের শুনানিতে অন্যান্য দিনের মত খালেদার জামিন বাড়ানোর আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। তার ‘অসুস্থতা’ এবং হাই কোর্টে বিচার স্থগিতের আবেদনের কথা জানিয়ে আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার এ আবেদন করেন।

কিন্তু ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪০(এ) ধারা অনুযায়ী খালেদাকে ‘প্রতিনিধিত্ব’ করার মাধ্যমে এই আবেদন না করায় জামিন বৃদ্ধির সুযোগ নেই বলে এর বিরোধিতা করেন মামলার বাদীপক্ষ দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

তিনি বলেন, “তিনি আদালতে অনুপস্থিত। ৫৪০(এ) ধারা মোতাবেক প্রতিনিধিত্ব করে আবেদন করেননি। যেহেতু করেননি, সেহেতু জামিন বৃদ্ধির সুযোগ নাই। এর জন্য তাকে প্রতিনিধিত্ব করে তারপর আবেদন করতে হবে।

“উনারা আসছেন, খালেদা জিয়া আসেননি। উনার জামিন চাচ্ছেন, কিন্তু মামলার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন না।”

তখন খালেদার আইনজীবী মাসুদ তালুকদার আদালতে বলেন, “রিপ্রেজেন্টশন ও ডিফেন্ড ভিন্ন জিনিস। আমরা খালেদা জিয়াকে এখন এই মামলায় ডিফেন্ড করছি। তাকে রিপ্রেজেন্ট করছি না। কোনো আসামি জামিনে থাকলে বা আসতে অপারগ হলে তখন আদালতের আদেশে তাকে ডিসপেন্স করা হয়। তখন আদালতের আদেশেই তাকে রিপ্রেজেন্ট করা হয়।”

এক্ষেত্রে জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলা চলাকালে খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশে থাকা অবস্থায় তার হয়ে অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার কথা উল্লেখ করেন এ আইনজীবী।

মাসুদ তালুকদার বলেন, কেউ কারাগারে থাকলে তাকে অনুপস্থিত রেখে বিচারকাজ চালানোর সুযোগ থাকে না। আর প্রতিনিধিত্ব করার জন্য কোনো আদেশও আদালত থেকে দেওয়া হয়নি।

তখন বিচারক খালেদার আইনজীবীদের কাছে জানতে চান, প্রতিনিধিত্ব না করলে তারা জামিন চাইছেন কেন? রিপ্রেজেন্টেশন ও ডিফেন্সের মধ্যে পার্থক্য কি?

মাসুদ তালুকদার বলেন, “ডিফেন্ড মানে হচ্ছে তার হয়ে আমরা মামলা লড়ছি। তার অনুপস্থিতিতে তাকে রিপ্রেজেন্ট করছি না। তিনিতো কাস্টডিতেই আছেন।”

ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৫ নম্বর ধারায় প্রতিনিধিত্ব কখন করা যাবে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ বিষয়ে মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, “আইনজীবীরা ওকালতনামার মাধ্যমে মামলার যাবতীয় কার্যক্রমে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন, এমন অনুমোদন দেওয়া হয়। সে কারণে তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে বাধা নাই। আর প্রতিনিধিত্ব না করলে জামিন বাড়ানোর সুযোগ নেই।”

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে অন্যান্য আদেশের সঙ্গে ৭ অক্টোবর ‘রিপ্রেজেন্টেশন’ ও ‘ডিফেন্ডিং’ এর বিষয়ে আরও আইনগত ব্যাখ্যা উপস্থাপনের জন্য দিন ঠিক করে দেন বিচারক।

খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচার চালানোর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে তার আইনজীবীরা হাই কোর্টে যে আবেদন করেছেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আনার জন্যও ৭ তারিখ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন বিচারক আখতারুজ্জামান।

আদেশে তিনি বলেন, “ওইদিন যদি তারা অর্ডার না আনতে পারেন, তাহলে রায়ের তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে প্রসিকিউশনের আবেদনের বিষয়ে ওইদিন আদেশ দেব।”

এছাড়া বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে হাই কোর্টে যেতে আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খানের আবেদন নামঞ্জুর এবং মনিরুলের স্থায়ী জামিন বহালের আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলার এক আসামি খালেদা জিয়ার সাবেক ‍উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী পলাতক রয়েছেন। তাকে বাদ রেখেই পুরাতন কারাগারের ভেতরে অস্থায়ী আদালত বসানোর আগে এই মামলার কার্যক্রম চলছিল পুরান ঢাকার বখশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে।

এ মামলায় দুদকের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলেও খালেদা জিয়াসহ তিন আসামির যুক্তিতর্ক শুনানি বাকি রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন