সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯

সুনামগঞ্জ-৩ আসন : ২০ দলীয় জোটে অনৈক্য চরমে



সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর- দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অনৈক্য চরম আকার ধারণ করেছে। ২০০১ সাল থেকে এই আসনে জোটের শরিক জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছেন। কিন্তু এবার স্থানীয় বিএনপির নেতারা তার বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছেন, ধানের শীষ তাঁদের কাছেই রাখতে চান বিএনপি নেতারা। কেউ কেউ বলেছেন, ‘দলের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া না হলে, অনেকে দল থেকে পদত্যাগ করবে।’
প্রবাসী অধ্যূষিত জগন্নাথপুর- দক্ষিণ সুনামগঞ্জ আসনে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচন থেকেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হচ্ছেন জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা। এই আসনের সংসদ সদস্য সাবেক পররাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের মৃত্যুর পর ২০০৫ সালে হওয়া উপ-নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানকে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন পাশা। সেই থেকে বিএনপির দলীয় নেতারা মনোনয়নের জন্য অনেক চেষ্টা তদবির করলেও ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন শাহীনুর পাশা চৌধুরী। অবশ্য আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ বিহীন উপ-নির্বাচন ছাড়া আর কখনোই জয়ী হতে পারেননি তিনি।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে কোন ভাবেই জোটের শরিক শাহিনুর পাশা চৌধুরীকে প্রার্থী দেখতে নারাজ স্থানীয় বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা।
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন ৫ জন। এরা হলেন- জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি লে. কর্নেল অব. আলী আহমদ, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম কয়ছর আহমদ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমদ, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের জেলা সভাপতি এম এ মালেক খান ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি আনছার উদ্দিন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমেদ এ প্রসঙ্গে বললেন,‘বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীরা একাট্টা। নিজের দলের অস্তিত্ব নেই, বিএনপির কাঁধে ভর করে ২ যুগ ধরে তিনি (শাহীনুর পাশা) নির্বাচন আসলেই নেতা-কর্মী, ভোটারদের এসে চেহারা দেখান। এবার শুধু মনোনয়ন প্রত্যাশীরাই নয়, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারাও জোটের প্রার্থী হিসাবে শাহীনুর পাশাকে মানবেন না।’ বিএনপির সম্ভাবনাময় আসনটি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী যে কাউকে প্রার্থী করলে পুনরুদ্ধার সম্ভব বলে দাবি তাঁর।
জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি লে. কর্নেল অব. আলী আহমদ বলেন,‘শাহীনুর পাশা চৌধুরী একদিন অ্যাম্বুলেন্সে করে সিলেট থেকে নির্বাচনী এলাকায় এসে অবরোধ কর্মসূচিতে যোগদান করে ফটোসেশন করেছিলেন। গেল ১০ বছরের মধ্যে আর কোন কর্মসূচিতে তাকে নেতা-কর্মীরা দেখেননি। বিএনপি নেতা-কর্মীদের দাবি এবার দলের প্রার্থী দিতে হবে। দলের প্রার্থী না দিলে অনেকে দল থেকে পদত্যাগও করতে পারে। দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাবার আগে আমি দেখা করেছিলাম। তিনি আমাকে নির্বাচনী এলাকায় কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই নির্দেশ দিয়েছেন দলের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আমি তাঁদের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করছি।’
মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি এমএ মালেক খান বলেন,‘দলীয় হাইকমান্ড সরেজমিনে যাচাই করে, দলের যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলে এই আসন বিএনপি পাবে। শাহীনুর পাশাকে দিলে ভরাডুবি হবে। দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
জেলা বিএনপির সহসভাপতি আনছার উদ্দিনও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। আনছার উদ্দিনের দাবি জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জের তৃণমূলের বিএনপি নেতা কর্মীরা দলের প্রার্থী চায়।
জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী বললেন,‘আমি বিএনপি করি না, তাঁরা না চাইলেও জোটের স্বার্থে আমাকে এই আসনে প্রার্থী করা হবে। ২০০১ সালের নির্বাচন থেকেই তাঁরা শুরুতে বিরোধিতা করেন। সংবাদ সম্মেলন করে আমাকে বয়কট করেন। শেষে ধানের শীষ প্রতীক পাবার পর আবার আমার পক্ষে কাজে থাকেন। আগের নির্বাচনগুলোয় এভাবে বিরোধিতা না করলে জোটের বা ধানের শীষের ক্ষতি হতো না। বিএনপি’র তৃণমূল নেতা কর্মীদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে। মনোনয়ন পেলে তাঁরা আমাকে সহযোগিতা করবেন।’

সংবাদটি শেয়ার করুন