বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২ | ২ ভাদ্র ১৪২৯

আবারও উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনীতির মাঠ



একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আবার উত্তাপ ছড়াচ্ছে রাজনীতির ময়দানে। ঢাকায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজপথ আবার উত্তপ্ত হওয়ার আভাস মিলছে।

সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত হতে বিএনপির নেতাদের নির্দেশনার মধ্যে ২৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। মঙ্গলবার (২৫ সেপ্টেম্বর) তাদের এ ঘোষণার দিনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট একই তারিখে মহানগর নাট্যমঞ্চে সমাবেশের কথা জানিয়ে হুশিঁয়ারি দেয়, ‘আন্দোলনের নামে যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি’ মোকাবেলায় মাঠে থাকবে তারা।

জনসভার অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়া বাকি থাকলেও দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ২৯ সেপ্টেম্বরের সমাবেশ সফল করার জন্য আমাদের দলের নেতা-কর্মী সহযোগী সংগঠনগুলোর ইউনিট পুরোদমে কাজ করছে। আশা করছি, ২৯ সেপ্টেম্বরের সমাবেশটি সাফল্যমণ্ডিত হবে।

এখনো সমাবেশ করার অনুমতি মেলেনি জানিয়ে রিজভী বলেন, আশা রাখছি অনুমতি পাবো।

অবশ্য এই সমাবেশ ২৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) করার কথা ছিল বিএনপির। গত ২২ সেপ্টেম্বর গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও বিকল্প ধারার সভাপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’র সমাবেশে যোগ দেওয়ার পর ২৪ সেপ্টেম্বর এ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন রিজভী।

এদিকে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিবের নতুন করে সমাবেশের তারিখ ঘোষণার পর মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নেতাকর্মীদের আগামী ১ অক্টোবর থেকেই আন্দোলনের জন্য ‘রেডি’ হয়ে যেতে নির্দেশনা দেন।

অন্যদিকে মঙ্গলবার দুপুরেই বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ১৪ দলের সভা শেষে জোটের মুখপাত্র, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ঘোষণা দেন, ২৯ তারিখ ১৪ দলের সমাবেশ। সেখানে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন।

বিএনপির সমাবেশ ঘোষণার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা দেখবো কারা মাঠে নামবে আর কারা নামবে না। অনেক আগে থেকেই ঢাকা আমাদের দখলে আছে, ইনশাল্লাহ আগামীতেও আমাদের দখলে থাকবে। শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশই (প্রধানমন্ত্রী) শেখ হাসিনার দখলে থাকবে।

এসময় তিনি যে কোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে ১৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জান‍ান। নাসিম বলেন, আপনারা এলাকায় প্রস্তুত থাকবেন, ওই অপশক্তি যেন মাঠে নামতে না পারে। ওদেরকে মাঠে ঘাটে প্রতিহত করবেন, যেখানে পাবেন।

নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্প্রতি ড. কামাল হোসেন ও ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ গঠিত হয়। এই জোট গত ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকার মহানগর নাট্যমঞ্চে নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করে। বিএনপির শীর্ষ নেতাদেরও বৈঠকটিতে দেখা যায়। সেখানে ঘোষণাপত্রে সরকারকে সংসদ ভেঙে দিয়ে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার গঠনসহ কয়েক দফা দাবি দেওয়া হয়।

ড. কামাল ও বি. চৌধুরী চাইছেন তাদের দাবি আদায়ে অক্টোবর থেকেই কর্মসূচিতে যেতে। সেজন্য সমাবেশেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তারা চাইছেন ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’র এসব কর্মসূচিতে বিরোধী সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে ভিড়িয়ে আন্দোলন জোরদার করতে। কিন্তু এরমধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমাবেশের ঘোষণা আভাস দিচ্ছে নতুন প্রেক্ষাপট তৈরির।

সংবাদটি শেয়ার করুন