বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার আমন ধান ক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব



সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার আমন ধান ক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনে-রাতে ইঁদুরের দল ধান গাছের গোড়া কেটে নষ্ট করছে ফসলি জমির ধান।

     সরজমিনে, উপজেলার বাঁশতলা, চৌধুরীপাড়া, ঝুমগাও, মৌলারপাড়, পুরান বাশতলা, নরসিংপুর ইউনিয়ন, বাংলাবাজার ইউনিয়ন, বগুলা ইউনিয়ন, লক্ষীপুর ইউনিয়ন, সুরমা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের আমন জমিতে এক জাতীয় বড় বড় ইঁদুর সামান্য পানি থাকা অবস্থায়ও লাফিয়ে লাফিয়ে আমন ধানের গাছ কেটে বিনষ্ট করছে। ইঁদুরগুলো দেখতে সাইজে অনেক বড়। দিনে এবং রাতে এ সকল ইঁদুর ধান কেটে সাবাড় করছে প্রতিনিয়ত। সাধারণত লোকজন দেখলে ইঁদুরগুলো দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয় নিলেও কিছুক্ষণ পর মানুষের সমাগম কমে গেলে কৃষকদের রোপিত ধানের চারা কেটে বিনষ্ট করছে। এ সকল ইঁদুর নিধনে কৃষকেরা কোন রকম পদক্ষেপও নিতে পারছে না বলে জানান। ফলে কৃষকদের রোপিত আমন ধানগুলো ফসল দেয়ার পূর্ব মুহুর্তে এ ধরনের ইঁদুর ধান কাটার কারণে নষ্ট হচ্ছে শত শত একর জমির রোপিত ধান। এ ব্যাপারে ইঁদুর মারার কোন রকম ব্যবস্থা নিতে না পেরে কৃষকেরা অসহায় এবং দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ইঁদুর নিধনে কৃষকেরা সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা কামনা করেছেন। কৃষকদের মতে অন্যান্য সময় এ ধরনের ইঁদুর উপদ্রব ছিল না। ফসলি জমিতে ইঁদুরের আক্রমণে কৃষকেরা হতবাক। অনেকেই এ সকল ইঁদুর নিধনে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত, সেটিও অনেকে জানেন না বলে জানান। ফসলি জমিতে এ ধরনের ইঁদুর অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। ফলে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। ইঁদুরের উপদ্রব বৃদ্ধির কথা স্বীকার করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান বলেছেন, কৃষকদেরকে সমন্বিত পদ্ধতিতে ইঁদুর নিধন করতে হবে। একেক সময় একেক পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর নিধন করতে হবে। কারণ ইঁদুর চালাক প্রাণী। বিষ দিয়েছে জানতে পারলে এ খাদ্য সহজে সে সে খায় না। সে জন্য প্রথমে কোন কোন সময় ইঁদুর মারার যন্ত্র বা ফাঁদ বসাতে হবে, কোন সময় গমের মধ্যে, শুটকির মধ্যে, বিস্কুটসহ বিভিন্ন জাতীয় খাবারে বিষ মিশিয়ে ইঁদুর নিধন করতে হবে। তিনি আরো বলেন, এ ইঁদুরের উপদ্রব আগেও ছিল। তবে যে সব এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল বা নজরদারী থাকে, সেখানে ইঁদুরের উপদ্রব থাকত।

সংবাদটি শেয়ার করুন