সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯

তৈরি পোশাক খাতে অটোমেশনের ঢেউ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে



একটি এলাকায় যেকোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠার অর্থ হলো আলোকিত সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যে এক কদম এগিয়ে যাওয়া। শিক্ষা ছাড়া উন্নতির আর কোন বিকল্প উপায় নেই। তাই যুগে যুগে মনীষীরা শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। শিক্ষাকে এখন নানাভাবে ভাগ করা হয়েছে। মূল ধারার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে কর্মমুখী শিক্ষার উপর এখন মনোযোগ সবার। উন্নতি কোন বায়বীয় অবস্তুগত বিষয় নয়। উন্নতি পরিমাপের যেসব দৃশ্যমান উপকরণ রয়েছে তার মধ্যে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উপায়গুলো একটি। উৎপাদনশীলতার মধ্য দিয়ে আসে সমৃদ্ধি। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতে সারা বিশ্বে একটি চমৎকার অবস্থান তৈরি করেছে। বলাবাহুল্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকা- এখন প্রধানত এই তৈরি পোশাক খাতকে ঘিরেই আবর্তিত হয়। প্রবাসী জনশক্তি ও তৈরি পোশাক, এই দুই প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা আহরণকারী খাত তাই কর্মমুখী শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়ার উপযুক্ত। এই উপযুক্ততার প্রেক্ষিতেই সুনামগঞ্জে স্থাপন করা হচ্ছে একটি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট। যেখানে তৈরি পোশাক খাতের জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করার পথ সুগম হবে। অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান মহোদয়ের আগ্রহ ও সহযোগিতায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শান্তিগঞ্জ মৎস্য হ্যাচারির বিপরীত দিকে নির্মিতব্য এই টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে আগামী ৭ অক্টোবর। বর্তমান প্রাক্কলন অনুযায়ী এই ইনস্টিটিউট নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৩ কোটি টাকা। ৫ একর জায়গায় বিস্তৃত ইনস্টিটিউটি স্থাপনের শুরু থেকে বর্তমান পর্যায় পর্যন্ত নেপথ্যে থেকে নিরবে কাজ করেছেন এই শহরেরই এক তরুণ শিল্পপতি, যিনি তৈরি পোশাক খাতের অন্যতম এক উদ্যোক্তা, শ্যামল রায়। এ ধরনের ইনস্টিটিউট নির্মাণের স্বপ্ন তিনিই প্রথম দেখেন এবং অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীকে তিনি এর প্রয়োজনীয়তা বুঝাতে সক্ষম হন। এ কাজে তিনি একজন সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন মুন্সিয়ানার সাথে। সুতরাং জেলার কারিগরী শিক্ষা দানের এমন একটি বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠার জন্য প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে আমরা যেমন অভিনন্দন জানাই তেমনি এই কাজের নিরব কর্মী শ্যামল রায়কেও আমাদের কৃতজ্ঞতা।
শ্রমঘন শিল্পখাত টেক্সটাইলে প্রচুর দক্ষ, অর্ধ দক্ষ ও অদক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করেছে। বলা যায় বাংলাদেশে এখন যে হতদারিদ্রতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে তার পিছনে টেক্সটাইল খাতের কর্ম সৃজনের একটি বিরাট ভূমিকা রয়েছে। চিন্তার বিষয় হল, শ্রমঘন এই শিল্পখাতটিতে ক্রমশ যান্ত্রিকীকরণ বা অটোমেশনের প্রবণতা বাড়ছে। কিছু কিছু জায়গায় আগে যেখানে অনেক মানুষের প্রয়োজন পড়ত সেই জায়গার কাজগুলো এখন মেশিনের মাধ্যমে করে ফেলা হচ্ছে। অটোমেশনের আওতা দিন দিন বাড়ছে। এর ফলে এই খাতে শ্রমিকের চাহিদা হ্রাস পাওয়ার একটি আশংকা করছেন কেউ কেউ। তৈরি পোশাক খাতে অটোমেশন বাড়ার প্রক্রিয়া যদি বাড়তে থাকে তাহলে এই দেশের অনেক মানুষ কর্ম হারাবে, নতুন কর্মসংস্থানের জায়গা সংকুচিত হবে। আর মানুষের কর্মসংস্থানের জায়গা সংকুচিত হওয়ার অর্থ হলো সার্বিকভাবে অর্থনৈতিক অবস্থার অবনমন। সুতরাং তৈরি পোশাক খাতে অটোমেশনের মাত্রা নির্ধারণ করাটা এখন অবশ্য কর্তব্য হয়ে পড়েছে।
এই খাতের জন্য যখন দক্ষ জনবল তৈরির জন্য একটি ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হচ্ছে তখন যাতে এখানে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে না যায় বরং বাড়ে, সেটি নিশ্চিত করা তাই অতীব জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন