বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২ | ২ ভাদ্র ১৪২৯

চারিদিকে সবুজ দিগন্তের হাতছানি



টিলা আর হাওর-বাঁওড়বেষ্টিত প্রাকৃতিক সম্পদ গ্যাস, বোল্ডার ও নুড়িপাথরে ভরপুর আর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ভারতের সীমান্তঘেঁষা সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলাটি পর্যটকদের আকর্ষণীয় করে তোলার মতো এক অতুলনীয় এলাকা। উপজেলার উত্তর দিকে দাঁড়িয়ে আছে ভারতের সুউচ্চ মেঘালয় পাহাড়। মেঘালয় থেকে নেমে আসা ছোট-বড় অনেক নদ-নদী বিস্তৃত চাারি দিকে যেন সবুজের হাতছানি। ওই উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার সম্ভাবনাময়ী পর্যটন এলাকা ছাড়াও পরন্ত বিকেলে নদীর পাড়ে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার মধুময় সময়টি কাটে গভীর আনন্দে। এখানে রয়েছে টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ড, ব্রিটিশ ট্রামরোড, পান্ডারখাল বাঁধ, বাঁশতলা হকনগর শহীদ স্মৃতিসৌধ, আদিবাসী পাহাড়, মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সমাধি। সীমান্ত ঘেঁষা বাংলাবাজার ইউনিয়নের কলাউড়া গ্রাম পেরুলেই আকাশের সঙ্গে পাহাড়ের মিলনমেলা চোখে পড়ে। তখনই কবির গানের কথাগুলো মনে পড়ে- ‘একবার যেতে দেনা আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়, যেথায় কুকিল ডাকে কুহুকুহু, দোয়েল ডাকে মুহুমুহু, নদী যেথায় ছুটে চলে আপন ঠিকানায়…’। কবির এই গানের পঙ্ক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পূর্ণ মিল রয়েছে এখানে। বাঁশতলা হকনগরে রয়েছে ’৭১-এ মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৩ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সমাধি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১১টি সেক্টরের অন্যতম গুরুত্পূর্ণ ৫নং বাঁশতলা সাব-সেক্টর এটি। ভারত থেকে নেমে আসা চিলাই নদীর ওপর নির্মিত মনোরম স্লুইচ গেট, তিনদিকে মেঘালয় পাহাড়ে ঘেরা বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ, পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি ¯্রােতস্বিনী নদীর কলতান আর পাখির কোলাহলে মুখরিত হয়ে ওঠে সমগ্র এলাকা। এক কথায়, মনোমুগ্ধকর এক অসাধারণ পরিবেশ এখানে বিদ্যমান। তিনদিকে পাহাড়বেষ্টিত এ এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্যাপ্টেন হেলাল ৫নং বাঁশতলা সাব-সেক্টরের অধিনায়ক ছিলেন। ’৭১-এর শহীদদের স্মরণে তাদের স্মৃতি ধরে রাখতে নির্মাণ করা হয়েছে বাঁশতলা হকনগর স্মৃতিসৌধ। পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নে পর্যটকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে একটি বিলাসবহুল রেস্ট হাউস, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মসজিদ। স্মৃতিসৌধের পাশে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করা যায় ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের নয়নাভিরাম দৃশ্যাবলী। দোয়ারাবাজার উপজেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান গুলো হলো-
কালের সাক্ষী পানাইল জমিদার বাড়ি
কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের পানাইল জমিদার বাড়ি। প্রায় ৪শ’ বছরের পুরনো বাড়ির প্রবেশদ্বারটি আজো স্মৃতি বহন করছে অতীত জৌলুসের। ধারণা করা হয়, ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে ভয়াবহ এক ভূমিকম্পে জমিদার বাড়ির দু’তলা বিশিষ্ট বসতঘর ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস স্তপে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু এখনও রয়ে গেছে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক এ স্মৃতিচিহ্ন। এ বাড়িতে বসবাস করেছেন জমিদার পরিবারের পূর্বপুরুষ প্রেম নারায়ণ চৌধুরী। যিনি পরবর্তীতে মুসলমান হয়ে মোহাম্মদ ইসলাম নাম ধারণ করেছিলেন। তারই উত্তরসূরি দেওয়ান ছনুবুর রাজা চৌধুরী। পরবর্তী বংশধর এ উপ-মহাদেশের ইসলামী রেনেসাঁ ও জাতীয়তাবাদী আদর্শের বিপ্লবী সৈনিক দেওয়ান মোহাম্মদ আহবাব চৌধুরী ও দার্শনিক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ চৌধুরী। দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়ার পানাইল জমিদার বাড়িটিকে দেওয়ান বাড়ি বা রাজবাড়ি নামেও ডাকা হয়। বিশাল বাড়ির আঙিনা। আঙিনার একেকটি বাড়ির ভিন্ন ভিন্ন নাম। কোথাও লেখা রয়েছে রাজবাড়ি, দেওয়ান বাড়ি অথবা জমিদার বাড়ি। মূলত সবই এক সুতোয় গাঁথা। জনশ্রুতি রয়েছে, জমিদারি আমলে জমিদারদের বাড়ির পাশ দিয়ে জুতো, সেন্ডেল, খরম পায়ে দিয়ে সাধারণ মানুষজন যেতে পারতেন না। কালের বিবর্তনে জমিদার বাড়ির আগেকার অনেক স্মৃতিচিহ্ন অবশিষ্ট নেই। কিন্তু এখনও বিদ্যমান রয়েছে জমিদার আমলের খননকৃত বেশ কয়েকটি পুকুর। জানা গেছে, যা এক সময় বিশাল আকৃতির একটি পুকুর ছিল জমিদার বাড়িতে। পরবর্তীতে এই পুকুরকে খনন করা হয়। পুকুরের অদূরেই বহু পুরাতন স্থাপনা ঐতিহ্যবাহী দেওয়ান বাড়ি জামে মসজিদ। প্রায় ৩শ’ বছর আগে নির্মিত এটি। যা পরে সংস্কার করা হয়েছে। মসজিদের নিকটে দেওয়ান বাড়ির পারিবারিক কবরস্থান অবস্থিত। সেখানে চিরশায়িত আছেন এ অঞ্চলে দেওয়ান বাড়ির পূর্বপুরুষ মোহাম্মদ ইসলাম। যিনি দেওয়ান পরিবারের প্রথম পুরুষও বটে। তার পাশের কবরে রয়েছে তৎকালীন সময়ে সুদূর ইরাকের বাগদাদ থেকে ইসলাম প্রচারে আসা জনৈক আবু তাহের (রহ.)-এর স্ত্রীর কবর। জানা যায়, ইসলাম প্রচারক আবু তাহের (রহ.) সুনামগঞ্জে ইসলাম প্রচারে এসেছিলেন। ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি দোয়ারাবাজারে আসার পথে পানাইল লঞ্চঘাটে পৌঁছলে তার গর্ভবতী স্ত্রী আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন। পরে ইসলাম প্রচারক ওই সাধকের অনুরোধে জমিদার বাড়ির পারিবারিক কবরেই সমাহিত করা হয় তার স্ত্রীকে। এর পাশে কবর রয়েছে দেওয়ান ছনুবুর রাজা চৌধুরীর। এছাড়া দেওয়ান মোহাম্মদ আহবাব চৌধুরীসহ পরবর্তী প্রয়াত বংশধরদের অনেক কবর রয়েছে। মসজিদের দক্ষিণ দিকের পুকুরের নিকটে শায়িত আছেন জাতীয় অধ্যাপক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ চৌধুরী। দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়ায় অবস্থিত দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ চৌধুরী ও তার পূর্বপুরুষদের স্মৃতি বিজড়িত জমিদার বাড়িটি এখনও কালের সাক্ষী হয়ে গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে জানান দিচ্ছে। সুষ্ঠু তদারকি ও সংস্কারের অভাবে দার্শনিক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ চৌধুরীর শেষ স্মৃতিটুকুও এখন বিলুপ্তির পথে। এক সময় এখানে দেশ-বিদেশের অসংখ্য জ্ঞান অনুসন্ধিৎসুকদের সমাগম ঘটতো। দেওয়ান মঞ্জিল, প্রায় ৪শ’ বছরের পুরনো প্রবেশদ্বার, পুরনো মসজিদ, দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ চৌধুরীর কবরস্থান ও তার পারিবারিক লাইব্রেরি পর্যটকদের নজর কাড়তো। সরজমিনে জানা যায়, দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ চৌধুরীর পারিবারিক অনেক ভূ-সম্পত্তিই বেদখল রয়েছে। তার উত্তরসূরিরা দেশের বাইরে থাকায় ঐতিহাসিক এই বাড়িটি জৌলুস হারাতে বসেছে। বেশ কয়েকটি মনোরম সুপ্রাচীন ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তার পারিবারিক লাইব্রেরি এখন বিলুপ্তপ্রায়। উল্লেখ্য, দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক হিসাবে সম্মানিত হয়েছিলেন। এবং একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও পদকে ভূষিত হয়েছেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন আসাম উচ্চ পরিষদে ছাতক-দোয়ারার এমএল.সি (এম.পি)-১৯৪৬ইং এবং ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠন তমুদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। সরকারিভাবে সংস্কার কাজ ও সুষ্ঠু তদারকির উদ্যোগ নিলে তার পারিবারিক স্থাপনাগুলো সম্ভাবনাময় পর্যটনস্থান হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠবে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
বাঁশতলা-হকনগর শহীদ স্মৃতিসৌধ
দোয়ারাবাজার উপজেলার বাঁশতলা-হকনগর শহীদ স্মৃতিসৌধ এলাকাটি সর্বমহলে এখন পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত। সীমান্তের বাঁশতলা-হকনগর রুচিশীল প্রকৃতি প্রেমিদের মন কেড়েছে। এখানে ভারতীয় সীমানার কোল ঘেঁষে জুমগাঁও পাহাড়ের উপর গারো জাতির বসবাস। তাদের সাজানো-গোছানো ঘর-বাড়ির পরিবেশ অত্যন্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। গারো পাহাড়ের পাদদেশে ভারতের সীমান্ত। এখানের চারদিকে সবুজের সমারোহ। বিকেল বেলা পাখিদের কলরব ও বাতাসের মনমাতানো শব্দে প্রাণ জুড়ায়। ছোট ছোট টিলা আর পাহাড়ে সাজানো বিস্তৃর্ণ এলাকা। দেখলে মনে হবে কেউ যেন চারদিকে সবুজ রঙ ছড়িয়ে দিয়েছে। ভারত সীমান্তে পাহাড়ী ঝরনা চোখে পড়ার মত। এখান থেকে ফিরে হকনগরস্থ মৌলা নদীর উপর সøুইস গেট দর্শন না করে যাওয়া যায় না। ১ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০০৫ সালে এটি নির্মিত হয়। যদিও নদী শাসন প্রকৃতি বিরোধী তবুও বয়ে চলা পাহাড়ি ঝরনার মাঝে এ সøুইস গেট আলাদা সৌন্দর্য্যরে সৃষ্টি করেছে। এখানে ঠান্ডা ও শীতল স্বচ্ছ পানিতে সাঁতার কাটলে সহজেই শরীরের ক্লান্তি দূর করে। সøুইস গেটে পানির মনোহারি শব্দে গোটা এলাকা যেন মুখরিত হয়ে আছে। সøুইস গেট ছাড়িয়ে কিছুটা সামনে গেলই দেখা মিলবে তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধের ৫ নং সদর দপ্তর। এখানে কিছুটা ত্রিভুজ আকৃতির শহীদ মিনারের বেদিতে বসলে প্রাকৃতিক ঠান্ডা বাতাস মন ছুঁয়ে যাওয়ার মত। এখনাকার আশপাশের পরিবেশ খুবই মনোরম। সবুজ পাহাড় আর নীল আকাশের মিতালি দেখে মনে হবে যেন ‘আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায়।’
দোয়ারাবাজার উপজেলাটি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ও পর্যটকদের আকর্ষণ করার এক অতুলনীয় পরিবেশ এখানে। এখানে রয়েছে টেংরা টিলা গ্যাস ফিল্ড, খাসিয়া মারা নদীর উপর রাবার ড্যাম, মারপসি খালের উপর বক্স সøুইস গেট, বাংলাবাজার উপ-প্রকল্পে হাইড্রোলিক ট্রাকচার ও এন্ড এম সেড, বাঁশতলা হক নগর শহীদ স্মৃতি সৌধ, আদিবাসী পাহাড়, মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক, বীরাঙ্গনাসহ আরো অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এখানে যাবার দু’টি রাস্তা হচ্ছে, (১) ছাতক শহরের নোয়ারাই বাজার থেকে এবং (২) দোয়ারাবাজার সদর থেকে সিএনজি অটো রিক্সা, অটো টেম্পু ও ভাড়ায় মোটর সাইকেল পাওয়া যায়। এখানকার মনোরম পরিবেশ পর্যটকদের আকর্ষণ করে। দোয়ারাবাজারের অদূরে বাংলাবাজার ইউনিয়নের বৃহত্তর গ্রাম হচ্ছে কলাউরা। গ্রামটি পাড়ি দিলেই চোখে পড়ে আকাশের সাথে যেন পাহাড়ের চির মিতালী। এখানে ভারত থেকে নেমে আসা মৌলা নদীর উপর নির্মিত সøুইস গেট, ৩দিকে মেঘালয় পাহাড়ে ঘেরা বাঁশতলা স্মৃতি সৌধ, পাহাড়ি ঝরনার কলরব, পাখ-পাখালির কুহু কুহু ডাকে মনের মণিকোঠায় স্পন্দন জাগে। বলতে গেলে বাঁশতলায় মনোমুগ্ধকর অসাধরণ এক পরিবেশ বিরাজমান। যা পর্যটকদের নজর কাড়ার মতো। মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্যাপ্টেন হেলাল পাহাড় বেষ্টিত এই এলাকায় ৫নং সাব-সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন।
জানা গেছে, বাঁশতলাসহ এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় যারা শহীদ হয়েছেন এখানেই তাদের সমাহিত করা হয়। এসব শহীদের স্মৃতি অমøান করে রাখার জন্যে হকনগর স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। সরকারী অর্থায়নে হকনগর স্মৃতি সৌধ এলাকায় পর্যটকদের জন্যে নির্মাণ করা হয়েছে, একটি রেষ্ট হাউজ, হকনগর কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা। স্মৃতি সৌধের পাশে রয়েছে দু’শতাধিক বছরের পুরোনো আদিবাসী পাহাড়। এখানে রয়েছে গারোদের বসবাস। পাহাড়ে উঠলে প্রকৃতির প্রকৃত চেহারা অবলোকন করতে প্রত্যহ হাজারো প্রকৃতি প্রেমীরা এখানে এসে জড়ো হয়। ঝুমগাঁও এলাকায় বসবাস করে আদিবাসী গারো সম্প্রদায়ের প্রায় ২৫টি পরিবার। তারা নিজ হাতে তৈরী করে নিজেদের ব্যবহার্য যাবতীয় আসবাবপত্র। গারো পাহাড়ে রয়েছে একটি মিশনারী স্কুল, একটি উপাসনালয় ও পাহাড়ের চূড়ায় উঠার জন্যে সরকারী অর্থায়নে নির্মিত একটি সিঁড়ি। সব মিলিয়ে পর্যটকদের মন কাড়ার মতো এখানকার পরিবেশ।
কিন্তু সব কিছুকে মøান করে দিয়েছে একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা। দু’টি রাস্তাই চলাচলের ক্ষেত্রে এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। সুরমা ব্রিজের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক-দোয়ারাবাজার ও ছাতক-বাংলাবাজার-বাঁশতলা সড়কে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়নি। এখানে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ খুবই অতিথিপরায়ণ। যুদ্ধের সময়ে যেভাবে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছেন সেই ধারাবাহিকতায় এখনো তাদের মধ্যে পর্যটকদের আদর-আপ্যায়নে সদা হাস্যোজ্জ্বল পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। দেখলে তাদেরকে অত্যন্ত সহজ-সরল প্রকৃতির মনে হয়।
ছাতকের জিয়াপুর নিবাসী তৎকালীন এমএলএ মরহুম আব্দুল হকের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্যে তার জীবদ্দশায়ই এলাকাবাসী তার নামানুসারে গ্রামের নাম হকনগর রাখেন। এসময় মহান মুক্তিযুদ্ধ চলছিল। যুদ্ধচলাকালীন সময়ে তিনি এখানে প্রতিষ্ঠা করেন একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এখানে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ এলাকার বিপুল সংখ্যক রোগীর চিকিৎসা সেবা দেয়া হতো। হকনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় নামেও তিনি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এখনও মরহুম আব্দুল হকের নামানুসারে হকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হকনগর গ্রাম ও হকনগর স্মৃতিসৌধসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থাকলেও কালেরগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে হকনগর হাসপাতালটি। একসময়ে হকনগর হাসপাতালে নরসিংপুর, বাংলাবাজার, বগুলা, লক্ষীপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বিপুল সংখ্যক রোগীর চিকিৎসা সেবার একমাত্র আশ্রয়স্থল ছিল। কিন্তু এখন এটি বন্ধ করে হকনগর কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করলেও প্রায়ই এটির দরজায় তালা ঝুলে। এখানে পরিবার পরিকল্পনাসহ অন্যান্য বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হলেও চিকিৎসা সেবার জন্যে কোন ডাক্তার নেই। এজন্যে এলাকার বিপুল সংখ্যক লোক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এলাকাবাসী মরহুম এমএলএ আব্দুল হক প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ন্যায় এখানে হকনগর হাসপাতাল পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্যে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তাদের দাবি, যুদ্ধকালীন সময়ে শুধু ক্যাপ্টেন হেলাল ও এমএলএ আব্দুল হকের বর্ণাঢ্য অবদানের সাথে এলাকাবাসীর ও সার্বিক সহযোগিতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
পাখির নীরব অভয়াশ্রম
দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরে ঢালে ঢালে পাখিদের কলরব। বিরল প্রজাতির পাখিদের নীরব অভয়াশ্রম উপজেলা সদরের কামার পট্টি এলাকা। এখানকার মনরোম পরিবেশ সবার মন কেড়ে নেয়। তবে এখানকার পাখিরা অতিথি নয়, সবুজ ঘেরা একটি ঝিলকে ঘিরে তিন যুগেরও বেশী সময় ধরে স্থায়ী ভাবে বাস করে আসছে কামারপট্টির অঘোষিত সবুজ বাগানের চিড়িয়া খানায়। পাখিদের কুহু কুহু আর কিচির মিচির ডাকে ভোরে এখানকার মানুষের ঘুম ভাঙ্গে। দিনভর এখানে শোনা যায় হরেক রকম পাক-পাখালিদের সুর। প্রতি বর্ষায় পাখিদের প্রজনন সময়। এসময় পান কউড়ী , বক সহ ভিন্ন জাতের পাখিরা ঢালে ঢালে বাসা করে ডিম পারে। কিন্ত পাখিদের বন সংরক্ষণ ও নজরদারির অভাবে প্রতি বছরই ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাদের প্রজনন। ঝর ও বৈরী আবওয়ায় পাখিদের ডিম গুলো মাটিতে পরে বিনষ্ট হয়ে যায়। স্থানীয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পরিবেশ এবং বন কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের নজর দারির অভাব ও অবহেলার কারণে প্রতিনিয়ত বিঘœ ঘটছে হচ্ছে এখানকার পাখ-পাখালির প্রজনন। দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরেই পাখিদের প্রতি এখানকার বাসিন্দাদের জেগে ওঠেছে অকৃত্রিম ভালবাসা ও প্রেম। সকলের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে পাখিরা সব মানুষের প্রতি যে ভয়ভীতি ছিল তা ভুলে গিয়ে বিল-ঝিলে গাছে গাছে তাদের নির্ভয় আশ্রয় বেছে নিয়েছে। এখানে পাখি শিকারীদের নেই কোনো উপদ্রব। মানুষ ও পাখিদের গভীর বন্ধুত্বে উপজেলা সদরে সৃষ্টি হয়েছে মনোরম পরিবেশের। দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরে ভিন্ন প্রজাতির তিন সহস্রাধিক পাখির নীরব অভয়াশ্রম দেখলে মনে হবে এ যেন প্রাকৃতিক অভয়াশ্রম। পরন্ত বিকেলে ঝিলের চর্তুদিকের সবুজ গাছপালায় কামারপট্টি ও আশপাশে উড়ন্ত পাখিদের নয়নভিরাম দৃশ্য মুগ্ধ করে এখনকার বাসিন্দাদেরও। বিকেলে অবসর সময়ে উপজেলায় কর্মরত সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা পেশার মানুষ দেখতে আসেন পাখি ও প্রকৃতির মনোরম মিলন দৃশ্য। দীর্ঘদিন যাবত কামারপট্টি এলাকাটি অগোচরে রয়ে গেলেও এখন ওই এলাকা একটি নীরব পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেছে। বৃক্ষ ও ঘন সবুজে সমাদৃত এলাকাটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে এমনিতেই শোভা বর্ধন করেছে। এর সাথে সবুজের ফাঁকে ফাঁকে সাদা ও সেনালী বলাকা, কালো প্রজাতির পানকৌড়ি, কাক, চিলের অবাধ বিচরণে আরো মোহনীয় করে তুলেছে এখানকার পরিবেশ। বৈশাখে সাদা ও সোনালী প্রজাতির বলাকা ডিম পাড়ে গাছের ঢালে ঢালে নিজেদের তৈরী বাসাতে। প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে গভীর যতেœ সুকৌশলে বসে থাকতে দেখা যায় মা পাখিদের।

ইদুকোনা চিলাই নদীর মোহনা
উত্তের সু উচ্চ কালো পাহাড়। ভারেতর সীমানার দেড়শ’ গজ ভেতের কাঁটা তারের বেড়া। বাংলাদেশর সীমানার চারি দিক সবুজের সমারোহ। ছোটথবড় টিলায় অসংখ্য ফলজ ও বনজ গাছপালায় আবৃত। সুথউচ্চ টিলার চারিদক সবুজ অরেন্য ঘেরা বসিতদর বাড়ীথঘর। আঁকা বাঁকা মেটাপথ। টিলা ঘেঁষে বহমান চিলাই নদী। যৌবন দীপ্ত চিলাই মোহনার এক তীর ভারেতর সীমানায়। অপর তীরে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশর দোয়ারাবাজার উপেজলার বোগলাবাজার ইউনিয়েনর ইদুকোনা ও বাংলাবাজার ইউনিয়েনর পেকপাড়া গ্রামের অবস্থান। ইদুকোনা গ্রামের অসংখ্য টিলাগুলোর সমতল প্রান্তে সবুজ ভরা নয়নাভিরাম অপরূপ দৃশ্যের হাতছানি। বাস্তবতায় সীমান্তের একেবারে জিরো পয়েন্ট টিলার উপের দাঁড়ালে মনে হবে এটি যেন ডেন মার্কের কোনো এক ভূ খন্ড। বর্ষা কিংবা শীত মৌসুমে পরন্ত বিকেলে এখানকার গ্রামের সবুজ দৃশ্য মনন ও চিন্তা শৈলীকে আরো বিকিশত করবে আগুন্তকদের।। দীর্ঘ ক্লান্তি ও অস্বস্থির অবসান ঘটেব এখানে। দোয়ারাবাজার উপেজলা সীমান্তের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজিড়ত বাঁশতলাথহকনগর শিহদ স্মৃতিসৗধ এলাকা, ইদুকোনাথপেকপাড়া চিলাই নদীর মোহনা, জিমদার আমেলর ভয়াল স্মৃতি বহমান লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গাপাড়াথমাঠগাঁও খাসিয়ামারা নদীর মোহনা,নরিসংপুর ইউনিয়েনর সোনালীচেলা নদীর মোহনাসহ পর্যটন সম্ভানাময় এলাকা গুলোতে সাহিত্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতির নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচিত হবে। প্রয়োজন সরকারি -বেসরকারি উদ্যোগে পর্যটন ¯পট গুলোতে কাংখিত শোভা বর্ধন। উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা আর আবাসনের নিরাপত্তা প্রদান।
খাসিয়ামারা নদীর মোহনা
দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তে ভাঙ্গাপাড়া-মাঠগাঁও এলাকার খাসিয়ামারা নদীর মোহনা এ যেন প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দ্যর্যের এক লীলা ভূমি। পর্যটন বিমুখ নদীর ওই মোহনার তিন দিকে বাংলাদেশের সীমানায় রয়েছে ছোট বড় টিলা ও সমতুল ভূমি। উত্তর প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে ভারতের সুউচ্চ কালো পাহাড়। খাসিয়ামারা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত মাঠগাঁও গ্রাম। ওই গ্রামে রয়েছে অসংখ্য সুউচ্চ টিলা ও ঘনবসতি। পূর্ব তীরে বেশ কয়েকটি টিলার ফাঁকে ফাঁকে সমতলে ফসলি জমির সবুজ দৃশ্য যেন মন ছুঁয়ে যায়। এছাড়া চারি দিকে সারি সারি গাছ পালা, সবুজের সমারোহ, আঁকা বাঁকা নদী পথ যেন প্রকৃতিকে হাত ছানি দিয়ে ডাকছে। পরন্ত বিকেলে টিলার উপর দাঁড়িয়ে সমতল ভূমির দিকে তাকালে বুঝা যাবে উন্নত বিশ্বের কোনো এক জায়গায় অবস্থান করছি।
অন্যদিকে উজান থেকে নেমে আসা নদীতে দুই দেশের সীমানায় নুড়ি পাথর আহরেণের দৃশ্য প্রশান্তি অনুভ’ত হয়। টিলার উপর থেকে দেখা যাবে ভারত সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়ার ওপারে সীমান্ত রক্ষী বিএসফের কড়া নজর দারি। ভারতের কালো পাহাড়ে পাখপাখালীর কিচির মিচির শব্দে আরো মোহনীয় করে তোলে এখানকার পরিবেশকে। ভোরে ও পরন্ত বিকেলে নদীর উজানে ভারতের সীমানায় সেখানকার বাসিন্দাদের মাছ আহরণের দৃশ্য মন ভরে যায় আগন্তক পর্যটকদের।
প্রতি ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন উপজেলা সীমান্তের সম্ভাবনাময়ী পর্যটন এলাকা ও খাসিয়ামারা নদীর নান্দনিক ওই মোহনায়। উপজেলা সদর থেকে মোটর বাইকে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের লেয়াকতগঞ্জ (পশ্চিম বাংলাবাজার ) হয়ে মাঠগাঁও সীমান্তে ও উপজেলা সদর থেকে বোগলাবাজার হয়ে ভাঙ্গাপাড়া সীমান্তে যাওয়া যাবে।
উপজেলার ওই পর্যটন স্পটটি এখনো সবার কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেনি। প্রতিদিন স্থানীয়রা প্রকৃতির নি:শ্বাস নিতে সময়ে সময়ে নদীর ওই মোহনায় ভীড় জমালেও দূর দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের তেমন সমাগম হয়না। স্থানীয়রা বলেছেন, প্রতি বছর ঈদে ও বিশেষ দিবসে পর্যটকদের ভীড় জমে এখানে। তবে যাতায়াত ব্যবস্থা উনুন্নত হওয়ায় দূর থেকে পর্যটকরা আসতে চায়না। এছাড়া উপজেলা সীমান্তে আগন্তকদের সুবিধা মতো দোকান পাট ও পানাহারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে পড়তে হয় সবাইকে। উপজেলা সদর থেকে আসা যাওয়ার যাতায়াত সড়ক গুলো পাকা করণ ও সংস্কার করা হলে সময়ের ব্যবধানে ওই অঞ্চলটি উপজেলার অন্যতম নান্দনিক পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে উঠবে।
সোনালী চেলার মোহনায় মন ছুঁয়ে যায়
সোনালী চেলা নদীর মোহনার নয়নাভিরাম দৃশ্যে মন ছুঁয়ে যায়। বর্ষায় উত্তাল তরঙ্গ আর শুষ্ক মৌসুমে চারদিকে বিশাল চর। এ যেন নদী নয় ধু-ধু মরুভূমি। উত্তরে দাঁড়িয়ে আছে ভারতের সুউচ্চ কালো পাহাড়। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ওই নদী দোয়ারাবাজার উপজেলার বুক চিরে ছাতক উপজেলার বিভিন্ন এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সুরমা নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। পড়ন্ত বিকালে সোনালী চেলার মোহনার নয়নাভিরাম দৃশ্য পর্যটকদের আরো প্রাণবন্ত করে তোলে। জমিদার আমলে ওই নদীর তীরে ছোট-বড় টিলায় প্রচুর কমলা লেবু চাষাবাদ হতো। কালের বিবর্তনে কমলা লেবুর চাষ ও বাগানের বিলুপ্তি ঘটে। শীত মৌসুমে বালির চরে গজে উঠে কাশফুলের বাগান। উত্তরের পাহাড়ি উত্তাল হাওয়ায় কাশফুলের দোলনায় মন ছুঁইয়ে যায় এখানে আসা পর্যকদের।
ভোরে দুই দেশের সীমান্ত ওই এলাকায় পাহাড়ি পাখ-পাখালির কিচির মিচির শব্দ আর বারকী নৌকার লগি-বৈঠার আওয়াজে এখানকার বাসিন্দাদের ঘুম ভাঙে। সারি সারি বারকী নৌকার যাওয়া-আসার দৃশ্য পর্যটকদের নজর কাড়ে। প্রতিনিয়ত ওই নদী দিয়ে শত শত বারকী নৌকায় করে ভারত থেকে আনা হয় চুনা পাথর। আমদানীকৃত চুনাপাথর দিয়ে ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড এর সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ওই সব চুনাপাথর দিয়ে ছাতকের বিভিন্ন চুল্লিতে (কোম্পানি) উৎপাদিত হয় চুন। সোনানী চেলায় বারকী নৌকা চলাচল শুরু হয় সম্ভবত ব্রিটিশ আমলে। বারক লি নামক জনৈক ইংরেজ ব্যক্তি এখানকার প্রতিষ্ঠিত এক ব্যবসায়ী সর্বপ্রথম ভারতের পাহাড় থেকে চুনাপাথর এনে সুরমা নদীর পাড়ে সিমেন্ট তৈরিসহ একাধিক চুল্লি প্রতিষ্ঠিত করে চুন তৈরি করতেন। সেই থেকে আজ অবধি ওই নদী দিয়ে বারকী নৌকায় পরিবহন করা হয় চুনাপাথর।
সোনালী চেলায় শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর কমে গেলে স্থানীয়রা নুড়ি কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। এছাড়া ভোর হতে মধ্যরাত পর্যন্ত নদীতে শখের বশে মাছ আহরণ করেন স্থানীয়রা। বর্ষায় প্রচন্ড শ্রোত প্রবহমান থাকে সোনালী চেলায়। উভয় তীরে নদী ভাঙন ও শুষ্ক মৌসুমে বালি ও পলিমাটি ভরাট হয়ে চর গজে উঠায় নাব্য সংকটে রয়েছে ওই নদী।
সোনালী চেলার উভয় তীরে নদী ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ ও খনন করা হলে দু’দেশের একেবারে জিরো পয়েন্টের সোনালী চেলার মোহনা হয়ে উঠবে উপজেলার অন্যতম একটি আকর্ষণীয় ও নান্দনিক দর্শনীয় স্থান।

সংবাদটি শেয়ার করুন