বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯

সুনামগঞ্জ শহরে জোরদার হচ্ছে বিকল্প সড়কের দাবি



সুনামগঞ্জ শহর বর্ধিতকরণ, সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি এবং জন চলাচলের সুবিধার্থে হালুয়ারগাঁও (চেকনিকাড়ার নিকটবর্তী)-আমবাড়ি (বাইপাস সড়ক বা বিকল্প সড়ক) সড়ক দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি তুলেছেন সুনামগঞ্জবাসী। অবশ্য.এই সড়কের প্রস্তাবনা সম্প্রতি এলজিইডি সদর দপ্তরে প্রস্তাব আকারে পাঠানো হয়েছে। সুনামগঞ্জবাসীর জন্য জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বাস্তবায়নের লক্ষে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সুনামগঞ্জের ধারারগাঁওয়ের বাসিন্দা বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভস কমিশনের (পিএসসি’র) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর কাছে অনুরোধ পত্র (ডিও লেটার) পাঠিয়েছেন।
ড. সাদিকের এই পত্রের প্রেক্ষিতে এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী সুনামগঞ্জ এলজিইডিকে বিকল্প সড়কের সম্ভাব্যতা এবং উপকারিতা জানানোর জন্য এই মাসের প্রথম সপ্তাহে নির্দেশ দেন।

এলজিইডি’র সুনামগঞ্জ সদর কার্যালয় ও নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে গত ১২ সেপ্টেম্বর এই পত্রের উত্তর দেওয়া হয়।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির পাঠানো পত্রে উল্লেখ করা হয়- হালুয়ারগাঁও থেকে ইসলামপুর, শান্তিগঞ্জ, বেতগঞ্জ, রামপুর, খাগুড়া হয়ে আমবাড়ি বাজার পর্যন্ত বিকল্প সড়ক হলে এটি সুনামগঞ্জ জেলা শহরের বাইপাস সড়ক হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে। সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে বের হবার একটি মাত্র সড়ক থাকায় যানজট ক্রমশ বাড়ছে। প্রস্তাবিত সড়কটি দুই দিক থেকে আঞ্চলিক মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর আগেই এই সড়কটির গুরুত্ব বিবেচনায় এনে এলজিইডির ঐঋগখওচ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩ কিলোমিটার অংশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে কাজও শুরু হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় ঢ়ৎড়ঃবপঃরাব ড়িৎশ না থাকায় ঢেউয়ে সড়ক নষ্ট হতে থাকায় কাজ বন্ধ রাখা হয়। সড়কটির ১৫ কিলোমিটার অংশের মধ্যে ৭ কিলোমিটার অংশ হাওরের পাশ দিয়ে যেতে হবে। এজন্য ঢ়ৎড়ঃবপঃরাব ড়িৎশ অত্যাবশ্যকীয়।
বাইপাস এই সড়ক প্রসঙ্গে শহরতলির কোরবাননগর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বরকত বলেন,‘এই সড়ক হলে সুনামগঞ্জ শহরতলির দুটি ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মানুষের যোগাযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। জেলা শহর আরও বড় হবার সুযোগ তৈরি হবে।’
কোরবাননগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা শামছুদ্দিন বলেন,‘সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ও কোরবাননগর ইউনিয়নবাসীর প্রাণের দাবি এই সড়ক বাস্তবায়ন হওয়া জরুরি।’
মোল্লাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আজাদ মিয়া বলেন,‘এই সড়ক বাস্তবায়ন হলে কেবল শহর বৃদ্ধি নয়, লক্ষাধিক মানুষ আঞ্চলিক মহাসড়কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে।’
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমদ বলেন,‘এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী স্যারের কাছে পিএসসির চেয়ারম্যান স্যার পত্র দেবার পর এলজিইডি সদর দপ্তরের নির্দেশে সড়কের সার্ভে সম্পন্ন করা হয়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন এলজিইডি’র সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সদর দপ্তর থেকে পরবর্তী নির্দেশনা পাওয়া গেলে সড়কের অন্যান্য কার্যক্রম শুরু হবে।’
পিএসসি’র চেয়ারম্যান কবি ও গবেষক ড. মোহাম্মদ সাদিক বললেন,‘সুনামগঞ্জকে নিয়ে আমি স্বপ্ন দেখি, শহর বড় হবে, মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে, এজন্যই বাইপাস বা বিকল্প সড়ক হওয়া জরুরি। একমুখী সড়ক হওয়ায় এখনই ভিড় বেড়ে গেছে। ভবিষ্যতে ডলুরায় শুল্কস্টেশন বা হালুয়ারঘাট-ধারারগাঁও সেতু হলে শহর জমজমাট হবে, যানবাহন বাড়বে। এ জন্যই বাইপাস সড়কের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আমি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের কাছে এই বিষয়ে অনুরোধপত্র দিয়ে বার বার যোগাযোগ করে কাজটি করানোর চেষ্টা করছি।’

সংবাদটি শেয়ার করুন