সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯

আজ বাউল কফিল উদ্দিন সরকারের ৬ষ্ঠ মৃত্যু বার্ষিকী



সাধক কবি ও জ্ঞানের সাগর খ্যাত দুরবিন শাহের অন্যতম শিষ্য বাংলার মরমি সংগীতের অগ্রগণ্য বাউল গায়ক কফিলউদ্দিন সরকার। যাঁর বেড়ে ওঠা হাওর-বাওর আর নদী, খাল-বিল বেষ্ঠিত প্রান্তিক জনপদ দোয়ারাবাজার উপজেলার নিভৃত এক পল্লীতে। তাঁর অসংখ্য জনপ্রিয় গান কণ্ঠে তুলে খ্যাতি অর্জন করেছেন বহু কণ্ঠশিল্পী। এক হাতে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গান গেয়ে মুগ্ধ করেছেন দর্শক-শ্রোতাকে। ঠোঁটের সাহায্যে তাঁর মন্দিরা বাজানোর দৃশ্যে হৃদয়ে দাগ কাটে। অল্প সময়ে যেকোনো বিষয়ে গান লিখে দেওয়ার অসামান্য ক্ষমতা ছিল তাঁর।

১৯৩২ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের মালঞ্চপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবা মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিন, মা করিমুন্নেসা। এক বোন ও চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। ২০ বছর বয়স থেকে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের আকিলপুর গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

কফিল উদ্দিন সরকার শিশুকাল থেকে রাত জেগে পালাগান শুনতে শুনতেই গানের জগতে প্রবেশ। যৌবনের সন্ধিক্ষণে গান লিখতে শুরু করেন। একতারা, দোতারা বাজিয়ে গাইতেন নিজের এবং বিভিন্ন মহাজনি গান। বহু দুঃখ-দুর্দশায় জীবন কাটালেও থেমে থাকেনি তাঁর কণ্ঠ।

প্রখ্যাত মরমী সাধক দুর্বিন শাহ‘র সান্নিধ্যে এসে শিষ্যত্ব গ্রহণের পর কফিল উদ্দিন সরকার বাউলিয়ানা জীবনে পাড়ি জমান। গুরুর সান্নিধ্যে থেকে গান গেয়ে ঘুরে বেড়ান গ্রামে-গঞ্জে, শহর-বন্দরে। এক সময়ে তিনি জনপ্রিয় মালজোড়া গানে বাউল সমাজে খ্যাতি অর্জন করেন। বাউল স¤্রাট শাহ আব্দুল করিম, আব্দুছ সাত্তার, আলী হোসেন সরকার, বাউল ইদ্রিস আলী, সফর আলী, অশীয় ঠাকুর প্রমুখ খ্যাতনামা বাউলদের সঙ্গে তিনি মালজোড়া গান করেন। তিনি বাংলা গানের জগতে অসংখ্য বাউল গান, পালা গান, সারি গান, মুর্শিদী, লোকগীতি ইত্যাদি অসংখ্য পল্লী গান রচনা করেন। তাঁর রচিত প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত মিলে প্রায় ৫ সহস্রাধিক গান রয়েছে। তাঁর লেখা জনপ্রিয় গান গুলোর মধ্যে-

‘‘আমি চাইলাম যারে ভবে পাইলানাম তারে

সে এখন বাস করে অন্যের ঘরে’’

তাঁর রচিত আরেকটি সারা জাগানো গান হলো-

‘‘আমার বন্ধুয়া বিহনে গো, সহেনা পরানে গো

একেলা ঘরে রইতে পারিনা।

কফিল উদ্দিন সরকারের রচিত দেহ তত্ত্বের অনেক জনপ্রিয় গান রয়েছে। যে গানগুলো গেয়ে সুনাম কুঁড়য়েচেন এদেশের অনেক নামী দামী শিল্পীরা। সেই সকল গান গুলোর মধ্যে দেশ সেরা একটি গান হলো-

‘‘আতর গোলাপ সোয়া চন্দন সাজাইলাম ফুল বিচানা

অভাগীর বাসরে বন্ধু আইলায়না’’।

১৯৬৭ সালের ৭ নভেম্বর তাঁর রচিত ‘রত্নের ভান্ডার‘ নামে প্রথম ও দ্বিতীয় খন্ড দুটি সংকলন প্রকাশিত হয়।

২০১২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৫ মিনিটে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। সিলেটের একটি বেসরকারী হাসপাতালে প্রবীণ এই বাউলসাধক ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেহত্যাগ করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন