বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২ | ২ ভাদ্র ১৪২৯

দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে সুরমা সেতুর নির্মাণ কাজ



আমিনুল ইসলাম হিরন, ছাতক প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জের ছাতকের সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। কাজের গতি ঠিক থাকলে আগামী বছরের আগষ্ট মাসের মধ্যেই স্বপ্নপূরণ হতে চলেছে ছাতক-দোয়ারা উপজেলাবাসীর। ইতোমধ্যে ভূমি অধিগ্রহন জটিলতা শেষে গত শনিবার থেকে দ্রুত গতিতেই চলছে নদীতে সেতুর কার্যক্রম। এরই মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সেতু সংলগ্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ প্রায় দু’শতাধিক লোকজনকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সংশ্লি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, সেতুর অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১শ’৪০কোটি টাকা। ছাতক শহরের ভাজনামহলের পাশে ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। সরকারের একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় ২০০৬ সালের জানুয়ারী মাসে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর কাজটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০১০ সালে সেতুর অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে ৫১কোটি টাকার একটি প্রকল্প যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়। ওই প্রকল্পটি অনুমোদন না হওয়া সেতুর নির্মান কাজ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তৎকালিন সময়ে সেতুর ছাতক শহর অংশে তিনটি পাকা পিলার ও নদীর ওপারে আরও দুটি পিলারের কাজ করা হয়েছিল। সেতুর দুই পাড়ের সংযোগ অংশের কিছু পাকা কাজ ছাড়া আর কোনো কাজ হয়নি। সেতুর অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে ১শ’১৩কোটি টাকার নতুন একটি প্রকল্প একনেক বৈঠকে অনুমোদন হওয়ার পরই আশার আলো দেখা দেয়। পরবর্তীতে সেতুর নির্মাণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি আরও ২৭কোটি টাকার অনুমোদন দেয়া হয় বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। ফলে সুরমা নদীর উপর এই সেতু নির্মানে মোট খরচ ধরা হয়েছে ১শ’৪০কোটি টাকা। সুরমা সেতুর অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে গত বছরের ৩০আগষ্ট কাজের দপ্তারাদেশ দেয়া হয় জন-জেবি নামে একটি যৌথ ঠিকাদরী প্রতিষ্টানকে। ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে কাজ শুরু করলেও ভুমি অধিগ্রহন জটিলতার বেশ কয়েক মাস কাজ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্টান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেতু সংলগ্ন এলাকায় এরই মধ্যে ২০.৪৯একর জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে। বিদেশ থেকে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে সেতুর ষ্টিল ষ্টাকচার আমদানীতে ট্যাক্স ও ভ্যাটসহ সর্বমোট খরচ ধরা হয়েছে ২৫কোটি টাকা। সেতুর দুই পারে প্রায় আড়াই কিলোমিটার এপ্রোচ সড়ক তৈরীতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭কোটি ৫০লাখ টাকা। ভুমি ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ বাবদ খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৫০কোটি টাকাসহ সর্বমোট সেতুর নির্মাণ খরচ ধরা হয় প্রায় ১শ’৪০কোটি টাকা।
সেতু তৈরীর কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্টান জন-জেবি’র পরিচালক অহিদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমরা কাজ শুরু পর জমি সংক্রান্ত জটিলতায় বেশ কয়েক মাস কাজ করতে পারিনি। এখন সেতুর কাজ পূরোদমেই এগিয়ে চলছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এএসএম সাইফুল ইসলাম বলেন, বিদেশ থেকে সেতুর ষ্টীল ষ্টাকচার আমদানীর জন্য ইতিমধ্যে দরপত্র আহবান করা হয়েছে। কাজের গতি ঠিক থাকলে আশা করছি, আগামী বছরের আগষ্ট মাসেই সেতুর নির্মান কাজ শেষ হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন