বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯

খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ না পেয়ে কারাগার প্রাঙ্গন থেকে ফিরে গেলেন বিএনপি নেতারা



কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ না পেয়ে কারাগার প্রাঙ্গন থেকে ফিরে গেলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

আজ শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান বিএনপির নেতারা।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের দেশনেত্রী এদেশের মানুষের হৃদয়ের মনি বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে অন্যায়ভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে। ঈদের দিনে আমরা তার সাথে দেখা করতে এসেছিলাম। তিনদিন আগে আমরা সাক্ষাতের জন্য আবেদন করেছিলাম(আবেদনে চিঠির অনুলিপি দেখান)। নিয়ম আছে, ঈদের দিন বন্দির সাথে দেখা করার।’

‘কিন্তু পুলিশ আমাদেরকে এখানে আটকিয়ে রেখেছে। জেল গেইটের কাছেও যেতে দিচ্ছে না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

আজ দুপুরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা কারাগারের কাছে আসেন। মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদসহ মহিলা নেতাকর্মীরাও সেখানে ছিলেন।

কারাগারের মূল ফটক থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে নেতৃবৃন্দকে আটকিয়ে দেয়। সেখানে দুই শতাধিক নেতাকর্মী অবস্থান নিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শ্লোগান দেয়।

পুলিশ বেষ্টনীর কাছে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা সাক্ষাতের জন্য কারা কর্তৃপক্ষের কাছে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ কর্তৃপক্ষ আমাদের সেখানে যেতে দিলো না। এটার তাদের কাজ নয়। পুলিশের দায়িত্ব ছিলো আমাদেরকে জেল কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছিয়ে দেয়া।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা অনেকবার জেল খেটেছি। অনেক বছর জেলে থেকেছি। দেখেছি ঈদের দিন আত্বীয়-স্বজন, কাছে মানুষদের দেখা সাক্ষাৎ করার সুযোগ থাকে, সুযোগ দেয়।’

‘এবার যে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে, এরকম অতীতে আর কখনো দেখিনি।’

এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে পর্যায়ক্রমে জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকালে শেরে বাংলানগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পমাল্য অর্পন করার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব এই কথা জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের দেশনেত্রীকে সরকার মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে। আমরা আজকে ভরাক্রান্ত হৃদয়ে ঈদ উদযাপন করছে।’

‘আমরা আন্দোলনের মধ্যে আছি। আমাদের নেত্রী যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কথা বলে গেছেন সেই নিয়মতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে আমরা প্রত্যেকটি স্তরের জোরদার করছি। আমরা মনে করি আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমরা মুক্ত করতে পারবো ইনশাল্লাহ।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘বিএনপির কাছে এখন মূল চ্যালেঞ্জ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। আমরা দেশনেত্রীকে মুক্ত করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবো।’

কারাগারে অসুস্থ খালেদার সুচিকিৎসায় সরকারি অবহেলার সমালোচনা করে অবিলম্বে তার মুক্তি ও অবিলম্বে বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসার দাবি আবারো জানান বিএনপি মহাসচিব।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় শেরে বাংলা নগরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগীরের নেতৃত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ করে সুরা ফাতেহা পাঠ করেন।

এ সময়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা কামরুজ্জামান রতন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, তাইফুল ইসলাম টিপু, অঙ্গসংগঠনের কাজী আবুল বাশার, মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, আহসানুউল্লাহ হাসান, আনোয়ার হোসেইন, নুরুল ইসলাম খান নাসিম, শায়রুল কবির খান, মোরতাজুল করীম বাদরু, মামুন হাসান, আবদুল কাদের ভুঁইয়া ‍জুয়েল, মামুনুর রশীদ মামুন, আকরামুল হাসানসহ কেন্দ্রীয় অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন